স্বাস্থ্যসম্মত ডিম ও মুরগি উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন রংপুরের খামারিরা আপডেট: ১১:০৭, ১৮ জুলাই ২০১৭

রংপুর প্রতিনিধি: রোগজীবাণু ও অ্যান্টিবায়োটিক মুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত ডিম ও মুরগি উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন রংপুরের খামারিরা। গ্রেডিং পদ্ধতিতে পুষ্টিমান বজায় রেখে এখানে প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত ডিম এলাকার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে সারা দেশে। দিন দিন বাড়ছে এই ডিম ও মুরগির মাংসের চাহিদা।

রংপুরের গঙ্গাচড়ার দরিদ্র গ্রাম নিলকচণ্ডী। এ গ্রামেরই উচ্চশিক্ষিত যুবক মাহমুদুল হাসান চাকরি ছেড়ে এখানে গড়ে তুলেছিলেন পোলট্রি খামার। জীবাণু ও অ্যান্টিবায়োটিক-মুক্ত ডিম এবং জৈবসার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করার উদ্যোগ নেন তিনি। মাত্র তিনবছরেই নিজেকে পোল্ট্রি খামারের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কোটি টাকা আয় করছেন খামার থেকেই।

এই তরুণের মতো রংপুরের অনেক খামারিই স্বাস্থ্যসম্মত ডিম ও মুরগি চাষে সাফল্য দেখিয়েছেন। এ ছাড়া, ফিড মিল স্থাপন করে সাশ্রয়ী মূল্যে সুষম খাবার উৎপাদন করেও ভাগ্যের পরির্বতন করেছেন ক্ষুদ্র খামারিরা।

স্থানীয় ক্রিয়েটিভ প্লোট্রি খামারের উদ্যোক্তা কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান জানালেন, "পুঁজি ছিলো মাত্র ৫০ হাজার টাকা, যেটা দিয়ে ২০১৩ সালে আমি এ ব্যবসা শুরু করি। বর্তমানে আমার পুঁজি এককোটি টাকার ওপরে।" ।

সমবায় ফিডমিলের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম বলেন, "একহাজার মুরগি পালন করলে, মাসে শুধু খাদ্য বাবদই সাশ্রয় হয় দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা।"

এসব খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে রংপুরের অনেক মানুষের। কাজের সুযোগ পেয়ে কর্মহীন নারী-পুরুষরা হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী।

খামারের একজন তরুণ শ্রমিক জানায়, মাসে সে এখান থেকে দশ হাজার টাকা বেতন পায়, এবং এ বেতন দিয়ে তার পরিবার মোতামুটি ভালোভাবেই চলছে।

একজন নারী শ্রমিক বলেন, এখানে যারা কাজ করে, তারা এখান থেকেই মাংস পায় খাওয়ার জন্যে, যা খেয়ে তাদের পুষ্টি হয়, এবং  এখান থেকে পাওয়া বেতন দিয়ে তারা সংসার চালায়।

স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পোলট্রি শিল্পের আরো বিকাশ সম্ভব বলে জানিয়ে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এজন্য প্রয়োজন ডিম ও মুরগির মাংসের ব্যাপারে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো। রংপুরের প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিংক: মাহবুবুর রহমান বলেন, "আমরা আশা করছি, ২০২১ সালের ভেতর প্রত্যেকটা মানুষের জন্যে সপ্তাহে অন্তত দুটি ডিমের যোগান দিতে আমরা সক্ষম হবো।"

রংপুরের পোলট্রি খামারগুলো বেকারত্বের অবসান ও আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জিডিপিতেও রাখছে বড় ভূমিকা-- এমনটাই বললেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তারা।