একযুগে দেশীয় কাঁচের ব্যবহার বেড়েছে ৫০ গুণ আপডেট: ০৬:৫০, ১৬ জুলাই ২০১৭

বিশেষ প্রতিবেদন: রাজধানীসহ দেশের সকল নগর ও মহানগরে বহুতল ভবন নির্মাণের যে-ব্যাপকতা গত দেড়দশকে দেখা যাচ্ছে, সেটাই দেশীয় কাঁচশিল্পের দ্রুত বিকাশ ও বৃদ্ধির মূল কারণ। উদ্যোক্তারা মনে করেন, আধুনিক ও বিলাসবহুল এসব সুউচ্চ ভবনে কাঁচের ব্যবহার বাড়ায় এর বাজার ও বাণিজ্য রাতারাতি বড় হয়েছে। আবার কাঠ অনেক বেশি ব্যয়বহুল হওয়াতেও জনপ্রিয় হয়েছে কাঁচ।

বহুতল ভবনে কাঁচের এমন ব্যাপক ব্যবহার মাত্র এক থেকে দেড়দশকের চর্চা। কোনো কোনো ভবন এমনভাবে কাঁচ দিয়ে ঘিরে দেয়া হয় যে, বাহির থেকে তার মূল কাঠামোই দৃশ্যমান হয় না। ভবনের ভেতরেও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় দেয়ালের চাইতে কাঁচের ব্যবহারের আধিক্য বেড়েছে। এসব পরির্বতনকে কাঁচশিল্পের দ্রুত বিকাশে সহায়ক হিসাবে দেখেন উদ্যোক্তারা।

দেশীয় কাঁচশিল্পের বিকাশ এতটাই দ্রুত হয়েছে যে, ২০০৫ সালের আগে এর বাজার ছিল ৩০০ কোটি টাকার। তারপর মাত্র ১০ থেকে ১২ বছরে তা বেড়ে হয়েছে  ১৫ হাজার কোটি টাকার, অর্থাৎ ৫০ গুণ বড় হয়েছে। এ খাতের ব্যবসায়ীরা বাজার আরো দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন।

জাপানে আসাহি গ্লাস নির্মাণ প্রতিষ্ঠান একধরণের কাঁচ উদ্ভাবন করেছে, যার ভেতর দিয়ে তাপ এবং শব্দ পরিবাহিত হবে না। এ ধরনের কাঁচ ব্যবহারে থাকবে বহুমুখী সুবিধা। দেশীয় কাঁচ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব উৎপাদনে জাপানের ধারণা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

অবকাঠামো নির্মাণ খাতে, বিশেষ করে ভবন তৈরির ক্ষেত্রে এক সময় কাঠের ব্যবহার ছিলো ব্যাপক। ভালো টেকসই কাঠ দিন দিন হয়ে উঠেছে ভীষণ ব্যয়বহুল। সেই তুলনায় কাঁচ ব্যবহারে খরচ কম, যা এ শিল্পকে দ্রুত অগ্রসর হতে সহায়তা করছে।

উন্নতমানের ফ্লোট গ্লাসের উৎপাদন শুরু হওয়ায় দেশে কাঁচের ব্যবহার মাসে ২০০ টন থেকে বেড়ে এক দশকে হয়েছে ১৫ হাজার টন। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পাঁচ বছর পর মাসিক চাহিদা দাঁড়াবে ৩০ হাজার টনে। তবে এ চাহিদা বৃদ্ধি শুধু ফ্লোট গ্লাসের ক্ষেত্রে, সাধারণ সিট গ্লাসের ক্ষেত্রে নয়।