পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে নিজ বাড়ির সুড়ঙ্গে আত্মগোপন !

প্রকাশিত: ১১:৫২, ০১ অক্টোবর ২০২০

আপডেট: ১১:৫২, ০১ অক্টোবর ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইমাম হোসেন নাসিম, রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আড়ালে বড় এক প্রতারকের নাম। স্বল্পমূল্যে প্লট দেয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্লটপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে নিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার চুক্তি করেছে নাসিমের নামে থাকা নাসিম রিয়েলে এস্টেট। এরপর রেজিস্ট্রেশন করে দেয়ার কথা বলে সাড়ে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা করে একেকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নিয়ে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি।

আর শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে সে অবলম্বন করতো অভিনব এক পন্থা। নিজের বাড়ির ভেতরেই সে তৈরি করেছিলো গোপন সুড়ঙ্গ। যেখানে তার ফিঙ্গার প্রিন্ট ছাড়া ঢোকা অসম্ভব। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময়ে নামে-বেনামে ৩২টি সিমকার্ড ব্যবহার করে প্রতারণা করতেন নাসিম। তবে শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। ঠিকই ধরা পড়েছে সে। এই প্রতারণা আর ছল-ছাতুরির নানা কেচ্ছাও বেরিয়ে এসেছে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ার পর।

প্রতারণার অভিযোগে বুধবার রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকা থেকে ইমাম হোসেন নাসিম (৬৬) ও তাঁর তৃতীয় স্ত্রী হালিমা আক্তার সালমাকেও (৩২) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, তিন রাউন্ড গুলি, এক লাখ ৩৫ হাজার জাল টাকা, ১৪শ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ, চারটি ওয়াকিটকি সেট, ছয়টি পাসপোর্ট, ৩৭টি ব্যাংক চেক বই এবং ৩২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

এ সময় তিনি জানান, নাসিমের প্রতারণার শিকার ১২-১৩ জন ভুক্তভোগী তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অস্ত্র, মাদক ও প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরো চারটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে র‌্যাব। এছাড়া নাসিম ৫৫ মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি বলে দাবি করা হয়েছে র‌্যাবের পক্ষ থেকে। তবে র‌্যাবের এসব অভিযোগের ব্যাপারে নাসিম রিয়েল এস্টেট কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইমাম হোসেন নাসিমের উত্থানের বিষয়ে র‌্যাব-৪-এর কর্মকর্তা মোজ্জাম্মেল হক বলেন, তিনি ১৯৭৮ সাল হতে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত একটি কোম্পানির ঠিকাদারির কাজ করতেন। ২০০২ সালে তিনি নাসিম রিয়েল এস্টেট কোম্পানি গঠন করেন। এই কোম্পানির অধীনে নাসিম সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় অন্যের জমি ও খাসজমি দখল করে আবাসিক শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। প্রায় পাঁচ হাজার গ্রাহকের সঙ্গে বায়না করে প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং নকল নিবন্ধনের নামে আড়াইশ জনের প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকাসহ মোট ২৮০ কোটি টাকা প্রতারণা করেন।
 
র‌্যাব জানায়, নাসিমের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অসংখ্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। তাঁর মোট ১৬টি কোম্পানির মধ্যে একটি কোম্পানিই ৩০০ কোটি টাকা প্রতারণা করেছে বলে জানা গেছে। বাকিগুলোরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

অনেক সময় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে তিনি জমি দখল ও মানুষকে ভয় দেখাতেন। ইমাম হোসেন নাসিম সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে স্ত্রীর সহযোগিতায় ইয়াবা ও বিদেশি মদ সংগ্রহ করে ঢাকায় ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ করতেন। তাঁরা জাল নোটের ব্যবসাও করতেন।

নাসিমের কোম্পানিরগুলোর মধ্যে রয়েছে- নাসিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেড, নাসিম ডেভেলপার লিমিটেড, নাসিম অ্যাগ্রো ফুড লিমিটেড, নাসিম বাজার, এস বি ফাউন্ডেশন, ডা. বেলায়েত হোসেন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নাসিম পার্সেল ও কুরিয়ার সার্ভিস, সাপ্তাহিক ইমারত অর্থ, নাসিম শিপ বিল্ডার্স, নাসিম ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনসালট্যান্সি, নাসিম ট্রেডিং লিমিটেড, সাহানা আই হাসপাতাল, বাংলা নিউজ ১৬, নাসিম ড্রিংকিং ওয়াটার, নাসিম সুগার ও নাসিম বেভারেজ।

নাসিম ১৯৭৪ সালে স্নাতক পাস করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনটি বিয়ে করেন এবং তাঁর তিনটি সন্তান রয়েছে বলে জানায় র‌্যাব। রিয়েল এস্টেট কোম্পানির বাইরে অন্য কোম্পানিগুলো ২০০৫ সালের পর গঠন করা হয়।
 

এই বিভাগের আরো খবর

শাহ আলমের স্মরণে ঢাকায় শোকসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য প্রয়াত আওয়ামী...

বিস্তারিত
পহেলা ডিসেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পহেলা ডিসেম্বরকে...

বিস্তারিত
ডিআরইউর সভাপতি নোমানী, সম্পাদক মশিউর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা রিপোর্টার্স...

বিস্তারিত
সরকার ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে: গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক রাষ্ট্রপতি...

বিস্তারিত
ডিআরইউ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা রিপোর্টার্স...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *