অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই

প্রকাশিত: ০৭:৫১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

আপডেট: ১২:৩৪, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ (রোববার) সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। মাহবুবে আলমের ছেলে সুমন মাহবুব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় মাহবুবে আলমের ছেলে সুমন মাহবুব বলেন, ‘আমার বাবা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে মারা যান। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল ও সিনিয়র আইনজীবী মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, দেশের আইন অঙ্গনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুবে আলমের অবদান জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। 

শেখ হাসিনা আরও বলেন, তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক আইনী বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ভূমিকা রেখেছেন এবং সবসময় ন্যায়নিষ্ঠ থেকে আইনপেশায় নিয়োজিত ছিলেন যা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। 

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জ্বর ও গলা ব্যথা নিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর সিএমএইচে ভর্তি হন রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা। ওইদিনই করোনা পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ১৮ সেপ্টেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মাহবুবে আলমকে আইসিইউতে নেয়া হয়। ২০ সেপ্টেম্বর করোনা (কোভিড-১৯) পরীক্ষায় তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাখা হয় আইসিইউতে। অবশেষে ৭১ বছর বয়সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যা, সংবিধানের এয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনীসহ ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করা এই আইনজীবী।

প্রায় একযুগ ধরে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছিলেন মুন্সিগঞ্জে জন্ম নেয়া এই আইনঅজ্ঞ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্মতক ও লোকপ্রশাসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মাহবুবে আলম।

এরপর ১৯৭২ সালে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন শেষে ১৯৭৫ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী এবং ১৯৮০ সাল থেকে আপিল বিভাগের আইনজীবী  হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে ভারত থেকে সাংবিধানিক আইন ও সংসদীয় কার্যপ্রনালী বিষয়ে দুটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। 

১৯৯৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত এই আইনবিদ। ২০০৪ সালে বার কাউন্সিলের সদস্য মনোনিত হন। সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন মাহবুবে আলম। 

১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল হিসেবে কাজ করেন মাহবুবে আলম। এরপর ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি অ্যার্টনি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান এবং রাষ্ট্রপতি ইয়াজিউদ্দিন আহমেদের কাছে শপথ নেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা ১১ বছরের বেশী সময় ছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।  এই দীর্ঘ সময় বহু আলোচিত মামলায় রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবে আলম।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলা, সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল, যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা, দেলোয়ার হোসেন সাইদী, কামারুজ্জামান, আলী আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার, মতিউর রহমান নিজামীর বিচার ও সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রকে আইনী পরামর্শ দিয়েছেন মাহবুবে আলম।

এই বিভাগের আরো খবর

লাইফ সাপোর্টে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

নিজস্ব সংবাদদতাতা: সুপ্রিম কোর্টের...

বিস্তারিত
বগুড়ায় শিশু অপহরণের সময় ৪ জন আটক

বগুড়া সংবাদদাতা: বগুড়ার গাবতলী...

বিস্তারিত
আকবরকে পালাতে সহায়তা করায় এসআই হাসান বরখাস্ত

সিলেট সংবাদদাতা: সিলেটের বন্দরবাজার...

বিস্তারিত
পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা; রাজশাহীতে আটক ১

রাজশাহী সংবাদদাতা: পুলিশের উচ্চ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *