ডায়াবেটিস ও কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণে ‘করলা’

প্রকাশিত: ০৭:০৪, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

আপডেট: ০৭:০৪, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: করলা তিতা স্বাদযুক্ত হলেও অনেকের কাছে খুবই পছন্দের একটি সবজি। করলা খেতে তিতা হলেও এর উপকারিতা এতই বেশি যে পছন্দ না করলেও শরীর সুস্থ রাখতে ও বিভিন্ন রোগ ব্যাধি থেকে বাঁচতে করলা খাওয়া জরুরী। 

প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় পাবেন খাদ্যশক্তি ১৭ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেটস ৩.৭০ গ্রাম, প্রোটিন ১ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ২.৮০ গ্রাম, ফোলেট ৭২ মাইক্রো গ্রাম, নিয়াসিন ০.৪০০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৪৭১ আইইউ, ভিটামিন সি ৮৪ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ২৯৬ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৭ মিলিগ্রাম।

নিয়মিত করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে নানা রকমের রোগ বালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে করলা খুব ভালো কাজ করে কররার রস। প্রাচীনকাল থেকেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করলার ব্যবহার হয়ে আসছে।

করলা এডিনোসিন মনোফসফেট অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ নামক এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোতে সুগার গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরের কোষের গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়।  ফলে রক্তের সুগারের মাত্রা কমে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

করলায় আছে যথেষ্ট লৌহ, ভিটামিন এ, সি এবং আঁশ। এন্টি অক্সিডেন্ট-ভিটামিন এ এবং সি বার্ধক্য বিলম্বিত করে। এছাড়া করলায় রয়েছে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টিকারী লুটিন এবং ক্যানসার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন। করলায় আছে ‘ই কোলাই’ নামক জীবাণুর বিরুদ্ধে জীবাণুনাশী ক্ষমতা।

করলা রক্তের চর্বি তথা ট্রাইগ্লিসারাইড বা টিজি কমায় আর বাড়ায় ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল। এতে নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন করলা গ্রহণে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং প্রতিরোধ হয় রক্তনালিতে চর্বি জমার কারণে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা।

খাবারে অরুচি দেখা দিলে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে এক চা চামচ করে ফলের রস সকাল ও বিকেলে খেলে খাবারে রুচি বাড়বে। 

করলা লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, বদহজম রোধ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। করলায় থাকা ভিটামিন সি যেকোনো ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে।

ম্যালেরিয়ায় করলা পাতার রস খেলে খুব উপকার মেলে। এছাড়া ম্যালেরিয়ার রোগীকে দিনে তিনটে করলার পাতা ও সাড়ে তিনটি আস্ত গোলমরিচ এক সঙ্গে থেঁতো করে নিয়ম করে ৭ দিন খাওয়ালে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। করলার পাতার রস খেলে জ্বর সেরে যায়। এছাড়া শিশুদের শরীর থেকে কৃমিও দূর হয়।

দেহ থেকে বাতব্যথা তাড়াতে চার চা-চামচ করলা বা উচ্ছে পাতার রস একটু গরম করে দেড় চা চামচ বিশুদ্ধ গাওয়া ঘি মিশিয়ে ভাতের সঙ্গে খেতে হবে। এভাবে কিছুদিন খেলে সুস্থ হবেন সহজেই।

শরীর কামড়ানি, পানি পিপাসা বেড়ে যাওয়া, বমিভাব হওয়া থেকে মুক্তি পেতে উচ্ছে বা করলার পাতার রস উপকারী। এক চা চামচ করলা পাতর রস একটু গরম করে অথবা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার করে খেলে উপকার পাবেন।
 

এই বিভাগের আরো খবর

চোখের ছানি প্রতিরোধের উপায়

অনলাইন ডেস্ক: আমাদের দেহের...

বিস্তারিত
বিষন্নতা দূর করে রসুন

অনলাইন ডেস্ক: রান্নায় মসলা হিসেবে...

বিস্তারিত
আয়রনের ঘাটতি মেটাবে কুমড়ার বীজ

অনলাইন ডেস্ক: আয়রন দেহের জন্য খুবই...

বিস্তারিত
আমাশয়ের চিকিৎসায় ‘বহেড়া’

অনলাইন ডেস্ক: বহেড়া একটি ওষধি ফল।...

বিস্তারিত
সর্দি-কাশির চিকিৎসায় ‘জোয়ানের কাড়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক: এখন বিশ্বময় করোনার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *