মডেল সনিকা হত্যাকাণ্ড: গ্রেপ্তার হলেন অভিনেতা বিক্রম আপডেট: ০৪:১৭, ০৭ জুলাই ২০১৭

বিনোদন ডেস্ক: মডেল সনিকা সিংহ চৌহানের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে প্রায় ৭০ দিনের মাথায় গ্রেপ্তার করা হল অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়কে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কলকাতার অ্যাক্রোপলিস মলের কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে টালিগঞ্জ থানা ও কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশের আধিকারিকরা। টালিগঞ্জ থানার লকআপে তাঁকে রাখা হয়েছে, চলছে জেরা। পুলিশ সূত্রে খবর, আজ তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে।

গত ২৯ এপ্রিল কলকাতার রাসবিহারী মোড়ের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বিক্রমের গাড়ি। মৃত্যু হয় বিক্রমের সহযাত্রী সনিকার। জখম হন বিক্রম। ওই ঘটনায় প্রথমে গাফিলতির জেরে মৃত্যু, বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও সম্পত্তি নষ্টের ধারায় বিক্রমের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। দুর্ঘটনার দিন শহরের নাইট ক্লাব থেকে গাড়ি চালিয়ে ফেরার পথে কসবায় কী কথা হয়েছিল বিক্রমের সঙ্গে সনিকার, অভিযুক্ত অভিনেতার কাছে জানতে চান তদন্তকারীরা৷ সনিকাকে বাড়ি ছাড়বে বলে কেনই বা বিক্রমের ফ্ল্যাটের নিচে ৩৫ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিল গাড়ি? তা জানতেই দফায় দফায় বিক্রমকে জেরা করে পুলিশ৷ প্রাথমিক তদন্তে পরিষ্কার, দুর্ঘটনার সময় বিক্রম সিট বেল্ট পড়ে থাকলেও, বেল্ট লাগানো ছিল না সনিকা সিং চৌহানের৷

সনিকার বন্ধুরা দাবি করেন, বিক্রম যদি নেশা না করে থাকতেন, তবে কেন তিনি সনিকাকে সিট বেল্ট বাঁধতে জোর করলেন না? সিট বেল্ট না থাকাতেই দুর্ঘটনার সময় সনিকা ছিটকে গিয়ে পড়েন গাড়ির ড্যাশবোর্ডে৷ তাঁর মাথার পিছনে, কানে গুরুতর আঘাত লাগে৷ গাড়ির ব্ল্যাক বক্সের তথ্য অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০০ কিলোমিটারের বেশি বেগে গাড়ি চালাচ্ছিলেন বিক্রম৷ এই মামলার তদন্তে নেমে চারটি ধারায় অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ৷ ২৭৯ ধারায় জোরে গাড়ি চালানোর জন্য, ৩৩৮ ধারায় অন্যের ব্যক্তিগত ক্ষতি করার জন্য, ৪২৭ ধারায় অন্যের সম্পত্তি নষ্ট করার জন্য ও ৩০৪ এ ধারায় চালকের গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগে৷ দুর্ঘটনার ৫ দিন পরে আলিপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি। কিন্তু পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে ৩০ মে অভিনেতার বিরুদ্ধে ৩০৪ অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃত খুনে জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত হয়। তারপর থেকেই ফেরার ছিলেন বিক্রম।

বিক্রমের গাড়িটিরও একাধিকবার ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়৷ বিশেষজ্ঞরা দেখেন, অন্য কোনো গাড়ি কোনোভাবে এই গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়েছিল কণনা৷ দুর্ঘটনার সময় বিক্রম ও সনিকা গাড়ির সিটবেল্ট বেঁধে ছিলেন কি না, তা নিয়নো প্রশ্ন উঠেছে৷ ফরেনসিক তা-ও খতিয়ে দেখে৷ গাড়ির সিটে যে রক্তের ছাপ দেখা গিয়েছে, তার নমুনাও সংগ্রহ করা হয়৷ গাড়ি থেকে মেলে মদের বোতলও৷ পুলিশ দুর্ঘটনার আগে বিক্রমের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখে৷ সনিকার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের একাংশের দাবি, বিক্রম মদ্যপ হয়ে গাড়ি চালানোর জন্যই সনিকাকে অকালে চলে যেতে হল৷ সোশ্যাল মিডিয়াতেও ‘জাস্টিস ফর সনিকা’ ক্যাম্পেন শুরু হয়৷ একটি সর্বভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সনিকার এক বন্ধু ফাঁস করে দেন, দুর্ঘটনার রাতে বিক্রম মদ্যপ ছিলেন৷

সনিকার মৃত্যুর তদন্তে নেমে বিক্রমের বন্ধু ও বান্ধবীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ এর মধ্যে ছিলেন বেশ কয়েকজন সেলিব্রিটিও৷ মোট ১৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ বিক্রমকে জেরা করতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়৷ দক্ষিণ কলকাতার একটি নামী হোটেল থেকে সিসিটিভির ফুটেজ পুলিশ উদ্ধার করে৷ বিক্রমের গাড়ি হোটেল থেকে বের হয়ে যাওয়ার ফুটেজ পুলিশের হাতে আসে৷ পাশাপাশি, ওই পানশালার কর্মী ও  প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, পার্টিতে থাকা সনিকার বন্ধুদের আদালতের কাছে দেয়া জবানবন্দি, প্রাথমিক ফরেনসিক রিপোর্ট – সবই অভিনেতার বিরুদ্ধে গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। সেইমতোই বিক্রমের খোঁজ চলছিলো। কিন্তু গ্রেপ্তারি এড়াতে গা ঢাকা দেন বিক্রম। তবে খবর পাওয়া যাচ্ছিলো, মাঝেমধ্যেই নাকি তিনি ফেসবুকে লগ ইন করে ঘনিষ্টদের মেসেজ পাঠাচ্ছিলেন। শেষপর্যন্ত, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মডেল সনিকা সিংহ চৌহানের মৃত্যুর ঘটনায় কসবায় শপিং মলের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হল অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়কে।