ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

2018-11-15

, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত: ০১:০৮ , ০৩ জুলাই ২০১৭ আপডেট: ০১:০৮ , ০৩ জুলাই ২০১৭

কূটনৈতিক প্রতিবেদক: জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের যৌথ উদ্যোগে ১ জুলাই কনস্যুলেটের মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬তম এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও নজরুলসংগীত শিল্পী অনুপ বড়–য়া। ‘অঞ্জলী লহ মোর’, ‘আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া’, ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো’ ও ‘খোদারও প্রেমের সরাব পিয়ে’সহ নজরুলসংগীতের জনপ্রিয় ছয়টি গান পরিবেশন করেন শিল্পী অনুপ বড়–য়া। দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে নজরু সংগীত পর্ব শেষ হয়।

এরপর দর্শকদের মন মাতাতে মঞ্চে আসেন বন্যা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশের বরেণ্য এই রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীর অসাধারণ ও চিরচেনা সুরের ধারায় আবিষ্ট হয় গোটা মিলনায়তন। দর্শকদের অনুরোধে একে একে ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’, ‘আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’, ‘কতবারও ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া’ ‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে’, ‘সখী ভাবনা কাহারে বলে’, এবং ‘আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ’সহ ১২টি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

সংগীতের পাশাপাশি ছিল প্রাণবন্ত আলোচনা পর্ব। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উজ্জ্বল দুই নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের  জীবনদর্শন এবং সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচক এবং বক্তাগণ বক্তব্য রাখেন।

রবীঠাকুর ও নজরুলের দর্শন, আধ্যাত্মবাদ এবং সাহিত্যকর্মের উপর আলোকপাত করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নজরুলল ও রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ এবং বিজ্ঞানী ড. গুলশান আরা।

‘একজন কূটনীতিকের চোখে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম’ - বিষয়টি নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা করেন নিউইয়র্কে নিযুক্ত ভারতের কনসাল জেনারেল রিভা গাঙ্গুলী দাস।
এর আগে অনুষ্ঠানটির সূচনা পর্বে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো: শামীম আহসান এনডিসি।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে উচ্চ আসনে তুলে ধরেছেন। সর্বজনীনতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা এ দুই বরেণ্য কবির লেখনীতে অত্যন্ত পরিস্ফুট।’’

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের অনবদ্য সৃষ্টি যা বন্ধুপ্রতীম এ রাষ্ট্রদুটির জাতীয় ইতিহাসের অংশ। আর প্রেম ও দ্রোহের কবি নজরুলের অসাধারণ লেখনী, কবিতা ও গান ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু  করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে”।

কনসাল জেনারেল মোঃ শামীম আহসান, এনডিসি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবি কাজী নজরুল ইসলামকে কোলকাতা থেকে ঢাকা নিয়ে আসেন এবং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদান করেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নজরুল এবং রবীন্দ্রনাথের চর্চা ও গবেষণাকে জাতীয় জীবনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যা নজরুল ও রবীন্দ্র সৃষ্টিকর্মকে বাঙালির জীবনাচরণে ধরে রাখতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে”।

এছাড়া বক্তব্য প্রদান রাখেন নিউ ইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ এবং নজরুল বিশেষজ্ঞ সুধীন দাস এবং একুশে পদক বিজয়ী নজরুল ও রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ড: করুণাময় গোস্বামীর সাম্প্রতিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
নিউইয়র্কে দায়িত্বরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ বিদেশী মেহমান, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙালিদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে একটি ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়।

অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবারে আপ্যায়িত করা
হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: উপমন্ত্রী জয়

ডেস্ক প্রতিবেদন: ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বলেছেন, লন্ডনে তাকে যারা হেনস্তা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ...

১৪ সাংবাদিক পেলেন ব্র্যাকের অভিবাসন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: অভিবাসনবিষয়ক সংবাদ ও আলোকচিত্রের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির পক্ষ থেকে এ বছর ১৪ জন...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is