করোনা ভ্যাকসিনের সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান ডব্লিউএইচওর

প্রকাশিত: ০৩:৫৭, ০৭ আগস্ট ২০২০

আপডেট: ০৩:৫৭, ০৭ আগস্ট ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভ্যাকসিন নিয়ে জাতীয়তাবাদের লড়াই হলে করোনাভাইরাস থেকে কখনো মুক্তি মিলবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্রেব্রেইসাস বলেন, পৃথিবীর কোন জায়গায় করোনার অস্তিত্ব থাকলে কেউ এর থেকে নিরাপদ নয়। সবার জন্য ভ্যাকসিনের সমান সুযোগ সৃষ্টি করার আহবান জানান তিনি। কে কার আগে আবিষ্কার করবে এবং বাজার দখল করবে, তা নিয়ে পরাশক্তিগুলো টিকাযুদ্ধে লিপ্ত। প্রতিদিনই টিকা নিয়ে নিত্যনতুন তথ্য আসছে। ওষুধ কোম্পানি, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে টিকার পেছনে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের হিসাব অনুসারে, এ পর্যন্ত ২০২টি টিকা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২৭টি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে আছে। ট্রায়াল শেষ হয়ে বাজারে আসতে টিকাগুলোর সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রায়াল শেষ করে অনুমোদন পেতে যেকোনো টিকারই ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে; যদি খুব দ্রুতগতিতে সবকিছু সম্পন্ন হয়। কখনো কখনো ১০ বছরও লাগতে পারে। তবে সবাই আশা করছে কোভিড-১৯-এর টিকা শিগগির বাজারে আসবে। যত দ্রুত টিকা আসবে, ততই মঙ্গল। এখন আমাদের দিন যায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা গুনে গুনে।

এখন পর্যন্ত টিকা তৈরির কাজে সব থেকে এগিয়ে আছে ব্রিটেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। তিন দেশের টিকাই ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে আছে। হুট করেই রাশিয়া ঘোষণা দিয়েছে, অক্টোবরেই মানবদেহে টিকার প্রয়োগ শুরু করবে তারা। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইতিমধ্যেই টিকা আবিষ্কার করে মানবদেহে প্রয়োগ করেছে। এর ফলাফলও নাকি ভালো মিলছে। উৎপাদনে যাবে অচিরেই। চীনও টিকার কাজে অনেকটাই এগিয়েছে বলে দাবি করছে। তারাও বাজারে আসি আসি করছে। কিন্তু ওদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আবার কিছুটা হতাশার কথাই শুনিয়েছে। সংস্থাটির প্রধানের মতে, টিকার দেখা আদৌ না-ও মিলতে পারে। এত যে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে, তার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিয়ে হু নিজেই সন্দিহান।

তবে একাধিক টিকা আবিষ্কার হলে সুবিধা। এই মুহূর্তে কমপক্ষে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডোজ টিকার উৎপাদন করতে হবে। তাই একাধিক দেশে একাধিক টিকার উৎপাদন করা প্রয়োজন। অন্যথায় টিকার সংকট দেখা দেবে। এ ছাড়া উন্নত দেশগুলো টিকার মজুত গড়ে তুলতে পারে। ৬৫ মিলিয়ন মানুষের জন্য যুক্তরাজ্য ১০০ মিলিয়ন টিকার আগাম বুকিং দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বৈশ্বিক রাজনীতির শিকার হতে পারে দরিদ্র দেশগুলো। টিকার অনুমোদন নিয়েও দেশগুলোর মধ্যে রাজনীতির সূত্রপাত হতে পারে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি ওষুধের অনুমোদন দিয়ে থাকে। সবার আগে যদি রাশিয়া বা চীন টিকা আবিষ্কার করে ফেলে, তবে এই দুই এজেন্সি অনুমোদন দেবে কি না বা সময়ক্ষেপণ করবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ আছে।

একটি কথা এখন হরহামেশাই বলা হয়, পৃথিবীর ক্ষমতার ভরকেন্দ্র স্থানান্তরিত হচ্ছে। দক্ষিণের ক্ষমতায়ন হচ্ছে। শক্ত জমিনের ওপর দাঁড়াচ্ছে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর অর্থনীতি। শেষ পর্যন্ত চীনের টিকা যদি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অনুমোদন লাভ করে, তবে একধরনের টিকাযুদ্ধ আমরা প্রত্যক্ষ করব। বিনিয়োগের নামে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ চীন নিয়েছে। কোভিড-১৯-এর টিকা ব্যবহার করে চীন আরও কিছু দেশের বাজার দখল করতে পারে। যদি তা-ই হয়, তবে তা হবে উত্তরের দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র আরও দক্ষিণে কিছুটা সরে আসবে।


 

এই বিভাগের আরো খবর

ইউরোপে আবারো বাড়ছে করোনার প্রকোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের...

বিস্তারিত
করোনার টিকা তৈরিতে হাঙ্গরের যকৃত ব্যবহার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব মহামারি...

বিস্তারিত
বিশ্বে করোনায় সুস্থ ২ কোটি ৪৮ লাখের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈশ্বিক মহামারি...

বিস্তারিত
ভারতে করোনায় আক্রান্ত ৬০ লাখ ছাড়ালো

অনলাইন ডেস্ক: বৈশ্বিক মহামারি...

বিস্তারিত
বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ১০ লাখ ছাড়ালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রাণঘাতী ভাইরাস...

বিস্তারিত
ঘানায় করোনা সংক্রমণ কমছে

অনলাইন ডেস্ক: বৈশ্বিক মহামারি...

বিস্তারিত
বিশ্বে করোনায় মৃত্যু প্রায় ১০ লাখ 

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া...

বিস্তারিত
মিশরে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক: বৈশ্বিক মহামারি...

বিস্তারিত
বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ১০ লাখ ছুঁই ছুঁই

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *