পৃথিবীতে ফিরলেন দুই মার্কিন মহাকাশচারী

প্রকাশিত: ১১:২২, ০৩ আগস্ট ২০২০

আপডেট: ১১:২২, ০৩ আগস্ট ২০২০

ফারুক হোসাইন: প্রথমবারের মতো প্রাইভেট মহাকাশ মিশন শেষ করে পৃথিবীতে নিরাপদে এসে পৌঁছলেন মার্কিন স্পেস এক্স'এর দুই নভোচারি ডগ হার্লে ও বব বেহনকেন ৷ স্থানীয় সময় রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উপকূলের মেক্সিকো উপসাগরে প্যারাশ্যুট নিয়ে সেফ ল্যান্ডিং করেন তারা।

দুই নভোচারি ফেরার দৃশ্য লাইভ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল ৷ স্পেসএক্স'এর ড্রাগন ক্যাপসুল নামের একটি মহাকাশ যানে করে পৃথিবীতে পৌঁছেন দুই নভোচারি। পৃথিবীতে নিরাপদে পৌঁছানর পরেই তাদেরকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানায় উপস্থিত সবাই ৷ এই প্রথমবার কোনও বেসরকারি মিশনে তারা মহাকাশে গিয়েছিলেন ৷ 

পৃথিবীতে ফিরেই হালে হার্লে-বেহনকেন বলেন, দারুণ অনুভূতি ৷ এই মিশন শেষ করে ফিরে আসাটা অত্যন্ত সম্মানের ৷

নাসার পক্ষ থেকেও সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয় ৷ পাশাপাশি স্পেস এক্স মিশনের কন্ট্রোলের দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানীরা দুই মহাকাশচারিকে পৃথিবীতে স্বাগত জানান ৷ এদিকে এই ঘটনায় করে উচ্ছাস প্রকাশ করে টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ৷

রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টো ৫৫ মিনিটে চারটি প্যারাসুটে ভর করে নির্বিঘেœই মেক্সিকো উপসাগরে নেমে আসে স্পেসএক্স’র ক্যাপসুল। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের কন্ট্রোলরুম তখন হাততালিতে ফেটে পড়ে। চারপাশ থেকে ছুটে আসে স্পিডবোট। একটু পরেই জাহাজে তুলে নেওয়া হয় সেই ক্যাপসুলকে। 

চার মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরলেন ডগলাস হার্লি এবং বব বেনকেন। ৪৫ বছর পরে এই প্রথম সমুদ্রে নামল মার্কিন মহাকাশ-ক্যাপসুল। গত কাল পর্যন্ত দুই নভচারির ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ, বাহামার দিক থেকে ধেয়ে আসছে ঝড় ‘ইসাইয়াস’। অশান্ত হচ্ছে সমুদ্র। অথচ ফ্লোরিডা উপকূলের কাছে সমুদ্রেই নামার কথা ‘স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন’ স্পেসক্রাফ্টের। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে নভোচরিরা কী ভাবে সমুদ্রে নামবেন, কী ভাবে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হবে, সব নিয়েই চিন্তায় ছিল নাসা। এক বার এ-ও শোনা গিয়েছিল, ফেরার ‘টিকিট’ বাতিল করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দু’দিন বাদে ফিরবেন তাঁরা। কিন্তু শেষমেশ আর তা করা হয়নি। 

মহাকাশ স্টেশনে দুই নভোচরির সম্মানে ‘ফেয়ারওয়েল’ অনুষ্ঠান হয়। ‘নাসা টিভি’-তে দেখানো হয় সেই অনুষ্ঠান। হার্লি বলেন, ‘‘আর একটু পরেই যানে উঠব, তারপর অবতরণ ও জলে ঝাঁপ।’’ আরও বলেন, ‘‘দলের সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। বিশেষ করে আবহাওয়ার যা গতিপ্রকৃতি।’’ বেনকেনের কথায়, ‘‘অভিযানের সবচেয়ে কঠিন ধাপ উৎক্ষেপণ। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নভোচরিদের নিরাপদে ঘরে ফেরানো।’’ নাসা টিভিতে দেখা যায়, বেনকেনের হাতে একটি খেলনা ডায়নোসর। বাবার সঙ্গে প্রিয় খেলনাটিকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল বাচ্চারা। 

গত ৩০ মে মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিয়েছিল স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন। ২০১১-এর পরে এই প্রথম আমেরিকার মাটি থেকে মহাকাশে রওনা দেওয়া। অভিযানের আর একটি বিশেষত্ব ছিল, প্রথম বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে মহাকাশ পাড়ি। তবে আসল লক্ষ্য ছিল, রাশিয়ার উপর থেকে নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা। ‘স্পেস শাটল’-গুলির মেয়াদ ফুরনোর পর থেকে মহাকাশে মানুষ পাঠাতে হলে রাশিয়ার সয়ুজ মহাকাশযানের উপরে নির্ভর করতে হত নাসাকে। কিন্তু তা ব্যবহারের জন্য আসন-পিছু ৮ কোটি ডলার দিতে হত আমেরিকাকে। এর জন্য দীর্ঘদিন তারা নতুন স্পেসক্রাফ্ট তৈরির চেষ্টা ছিল। ‘স্পেসট্যাক্সি’ তৈরিতে স্পেসএক্স এবং বিমান সংস্থা বোয়িংকে ৭০০ কোটি ডলার অর্থসাহায্য দিয়েছিল মার্কিন সরকার। গত বছর ব্যর্থ হয় বোয়িংয়ের প্রচেষ্টা। আশা-ভরসা ছিল স্পেসএক্স। বেনকেনদের নিরাপদে ঘরে ফেরা সেই সাফল্যের খবরও নিয়ে এল।
 

এই বিভাগের আরো খবর

ফিলিস্তিনে নির্বাচন করতে একমত ফাতাহ ও হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৫ বছরের বৈরিতার...

বিস্তারিত
লন্ডনে থানার ভেতরে পুলিশকে গুলি করে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের...

বিস্তারিত
নেপালে ভূমিধসে ১২ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালের বিভিন্ন...

বিস্তারিত
 ক্ষমতা হস্তান্তর ঠিকমতোই হবে; ম্যাককনেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের...

বিস্তারিত
আরেকটি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিচ্ছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া বিশ্বের...

বিস্তারিত
করোনায় ভারতের রেল প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনায় মারা গেলেন...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *