দুদকের সুপারিশ মানেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

প্রকাশিত: ০৯:৫৪, ২৮ জুলাই ২০২০

আপডেট: ০২:৩৯, ২৮ জুলাই ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সুপারিশ এক বছরে একটিও কার্যকর করেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়। বরং করোনা সংকটকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতি আরো বেড়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অনীহার কারণে দুর্নীতি প্রশ্রয় পাচ্ছে বলে মনে করে দুদক ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন টিআইবি।

টানা ছয় বছর আজিমপুর মাতৃসদনের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে রয়েছেন ডাক্তার ইশরাত জাহান। ঠিকাদার-কর্মকর্তাদের নিয়ে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। দুদকের তদন্তেও যন্ত্রপাতি কেনায় তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় চারটি মামলা করলেও এখনো বহল তবিয়তে আছেন তিনি।

একই কর্মস্থালে দীর্ঘদিন থাকায় চিকিৎসকরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে, এমন ঘটনায় তিন বছর পরপর কর্মস্থল বদলের সুপারিশ করেছিল দুদক। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।

সবশেষ ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দুদক স্বাস্থ্য খাতে যন্ত্রপাতি কেনা, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি কিংবা ওষুধ সরবরাহের ১১ পর্যায়ে দুর্নীতি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে ২৫টি সুপারিশ করেছিল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আবদুস সবুর জানান, আগের অনিয়ম-দুর্নীতির বিচার না হওয়ায় করোনা সংকটে সুরক্ষা সামগ্রী কেনায় দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক জানান- সুপারিশ আমলে নিলে স্বাস্থ্যখাতের এমন বেহাল দশা হতো না। বিনা লাইসেন্সে হাসপাতাল পরিচালনারও সুযোগ পেত না কেউ।

সুপারিশের বড় অংশই ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ওপর। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আয়েশা আক্তার জানালেন- সময়সাপেক্ষ হলেও সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

২০১৭ সাল থেকে সরকারি ২৮ টি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে প্রতিবছর সুপারিশ করে দুদক। বিগত দুই বছরেও স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি বন্ধে সুপারিশ করেছিল সংস্থাটি। 

দুর্নীতি বন্ধে যেসব সুপারিশ করেছিল দুদক তার মধ্যে রয়েছে:

১. অনুমোদনহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে শক্তিশালী নজরদারি। 

২. নকল ওষুধ ও কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। 

৩. কোনো চিকিৎসক একই কর্মস্থলে তিন বছর চাকরি করার পর বদলির ব্যবস্থা।

৪. কেনাকাটায় দুর্নীতি বন্ধে সতর্ক থাকা ও দক্ষ জনবল নিয়োগ দেয়া। 

৫. সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা হাসপাতালে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা। 

৬. প্রত্যন্ত এলাকায় পদায়নকৃত চিকিৎসকদের প্রণোদনার বিধান করে কর্মক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

৭. ফার্মাসিস্ট ছাড়া ঔষধের দোকান পরিচালনা নিষিদ্ধ করা

৮. ডাক্তার কতজন রোগী দেখবেন ও কত ফি নিবেন নীতিমালা করা।

৯. ওষুধের নাম না লিখে জেনেরিক নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা

১০. সব নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু করার সুপারিশ করা হয়। 

এই বিভাগের আরো খবর

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন খাত সচল হয়নি এখনো 

ফাহিম মোনায়েম: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর...

বিস্তারিত
ঢাবি’র ২০টি আবাসিক হলের ৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ

আশিক মাহমুদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের...

বিস্তারিত
ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক চারলেনের কাজে ধীরগতি

রংপুর সংবাদদাতা: এক বছরেও ঢাকা-রংপুর...

বিস্তারিত
পিছিয়ে গেল দেশে চীনের করোনা টিকার পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে চীনের...

বিস্তারিত
করোনায় কাগজ ও প্রকাশনা শিল্পে স্থবিরতা

ইউসুফ রানা: করোনায় ঝিমিয়ে পড়েছে কাগজ...

বিস্তারিত
বন্যায় ১২ হাজার কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি

পার্থ রহমান: এবারের বন্যায় দেশের ৪০টি...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *