ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

2018-09-22

, ১১ মহাররম ১৪৪০

বাংলাদেশে সবচেয়ে মুগ্ধ করেছে বাঙালি সংস্কৃতি ও রবীন্দ্র প্রেম: মিহির বোস

প্রকাশিত: ০৩:১৬ , ২৯ জুন ২০১৭ আপডেট: ০৩:১৬ , ২৯ জুন ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চল্লিশ বছর ধরে লন্ডনে টেলিগ্রাফ, টাইমস, ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড, বিবিসি সহ প্রথম সারির মিডিয়াতে সাংবাদিকতা করছেন মিহির বোস। বেশ কবছর বিবিসি'র ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। সেইসাথে চালিয়ে গেছেন নানা বিষয়ে বিস্তর লেখালেখি এবং এখন পর্যন্ত খেলাধুলো, ইতিহাস, চলচ্চিত্র সহ নানা বিষয়ে ৩০টি বই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর।

বরিশালে পিতৃপুরুষের গ্রাম কতটা মুগ্ধ করেছে তাঁকে? বিবিসিকে বলেছেন ব্রিটিশ-ভারতীয় সাংবাদিক-লেখক মিহির বোস।

ভারতের স্বাধীনতার ৭০ বছর নিয়ে তার লেখা সর্বশেষ বইটি প্রকাশের অপেক্ষায়। সেইসূত্রে কিছুদিন আগে গিয়েছিলেন পিতৃপুরুষের আদি নিবাস বাংলাদেশের বৃহত্তর বরিশালের রামচন্দ্রপুর গ্রামে।

স্বাধীন ভারতের বয়স এবং মিহির বোসের বয়স একই। নিজেকে তিনি বলেন "মিডনাইটস চাইল্ড" । এই ৭০ বছরে তার সাথে সাথে ভারত কতদূর এগিয়েছে তা নিজের চোখ দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন তার নতুন প্রকাশিতব্য বইতে। "তাই আমি বাংলাদেশকে দেখতে চেয়েছিলাম। আমার বাড়ি কোথায়.. কোথা থেকে আমার বাবা এসেছিলেন তা না দেখলে অসম্পূর্ণ থেকে যেতো লেখাটি।"

বাবার কাজের সূত্রে মিহির বসের বড় হওয়া এবং স্কুল কলেজ সবই ছিল মুম্বাইতে। সে সময় বাবা পূর্ববঙ্গের কথা, বরিশালের কথা, রামচন্দ্রপুর গ্রামের কথা শোনাতেন ছেলেকে।

"আমার মা কলকাতার মেয়ে। তিনি প্রায়ই বাবাকে নিয়ে ঠাট্টা করে বলতেন - আইতে শাল যাইতে শাল, তার নাম বরিশাল.. বাঙালকে হাইকোর্ট দেখানোর কথা শুনতাম। মা এমনভাবে রসিকতা করে এসব বলতেন যেন পূর্ববঙ্গের মানুষের বুদ্ধি কম, কথাবার্তায় চৌকশ  নয়।"

কিন্তু বরিশাল এবং রামচন্দ্রপুরের ফেলে আসা জীবন নিয়ে বাবার মুখে অনেক কথা শুনেছেন তিনি। বরিশালের নদীগুলোর সৌন্দর্যের কথা, ঐশ্বর্যের কথা বলতেন। "আমি তাই দেখতে চেয়েছিলাম বাবা শুধু গল্প করতেন কিনা।"

কি দেখেছেন তিনি? বিবিসি বাংলাকে মিহির বোস বলেন - "খুব সুন্দর। রামচন্দ্রপুর গ্রামটি খুব সুন্দর। বাবা যেটা বলতেন সেগুলো মিথ্যা নয়।"

বাংলাদেশে গিয়ে সবচেয়ে যে দুটো বিষয় মিহির বোসকে মুগ্ধ করেছে তা হলো - বাঙালি সংস্কৃতি এবং রবীন্দ্র প্রেম।

"আমার দিদিমা, বাবা-মার কাছে যে বাঙালি সংস্কৃতির শুনেছি সেটা টের পেয়েছি বাংলাদেশে... দেশ বা ধর্মকে অতিক্রম করা সেই সংস্কৃতি এবং ঐক্য। এমনকী রবীন্দ্রনাথকে তারা এতটা উঁচুতে রেখেছে যেটা ভারতে বা পশ্চিমবঙ্গেও আমি দেখিনি।"

রামচন্দ্রপুরে দুই হিন্দু পরিবারের সাথে দেখা হয়েছিল তাঁর। তারা দাবি করেছিলো, বোস পরিবারের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল তাদের। খুব ভালো ইলিশ খেয়েছেন বরিশালে। "ইলিশ আমার ভীষণ প্রিয়.. এত ভালো ইলিশ আগে খাইনি।"

বাংলাদেশ, বরিশাল, রামচন্দ্রপুর গ্রাম মিহির বোসের নতুন বইয়ের পুরো একটি চ্যাপ্টার জুড়ে থাকবে।

মুম্বইয়ের শৈশব-কৈশোর

একদিকে শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে মুম্বাইতে, তারপর দীর্ঘ ৫০ বছর ব্রিটেনে জীবন কাটানোর ফলে বাংলায় কথা বলতে কষ্ট হয় মিহির বোসের। তারপরও দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মিহির বোস বিবিসি বাংলাকে তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে খোলামেলা অনেক কথা শুনিয়েছেন।

পরিবারের চাপে ১৯৬০-এর দশকে মুম্বই থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসেছিলেন ব্রিটেনে। কিন্তু আসার পর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বদলে পড়েছেন অ্যাকাউন্টেন্সি। পেশা শুরু করেছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হিসাবে। ছেড়ে দিয়ে ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু করেন ক্রীড়া সাংবাদিকতা।

"আমি ছোটবেলা থেকেই সাংবাদিক হতে চাইতাম। স্কুলের শিক্ষকরা এক পরীক্ষার পর বলেছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার মত আমার নাকি মাথা নেই। বাবাকে এসে বলেছিলাম সাংবাদিক হবো। এককথায় না করে দিলেন আমার ব্যবসায়ী বাবা .. তাঁর দুই সাংবাদিক বন্ধু খুব মদ খেতেন, টাকা পয়সা ছিলোনা।"

ভারতের স্বাধীনতার পর নেহেরু তখন প্রধানমন্ত্রী। "তিনি সবসময় বলতেন ভারতে ইঞ্জিনিয়ার দরকার, বিজ্ঞানী দরকার। আমাকেও সেই দিকেই ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিলো।"

ক্রীড়া সাংবাদিকতা কেন? খেলাধুলো করতেন? মিহির বোস জানান, গাভাসকার স্কুলে তাঁর দুই বছরের জুনিয়র ছিলেন। তাঁর মত খেলতে পারতেন না, তবে ক্রিকেট খেলতেন এবং ক্রিকেট নিয়ে বিস্তর আগ্রহ ছিলো তাঁর।

লন্ডন ব্রডকাস্টিং নামে এক বাণিজ্যিক রেডিওর ক্রীড়া সম্পাদকের সাথে ক্রিকেট নিয়ে এক কথোপকথনের পর কাজের প্রস্তাব পেয়ে যান তিনি। মজা করে বললেন, "তিনি ভেবেছিলেন আমি অনেক জানি.. বলতে পারেন আমি ধোঁকা দিয়েছিলাম তাঁকে।"

ক্রিকেট নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন, অনেক কিংবদন্তির ক্রিকেটারের সাক্ষাতকার নিয়েছেন।

বিস্ময়কর গ্যারি সোবার্স

মনে রাখার মত সাক্ষাৎকার শুনতে চাইলে, বার্বেডোজে গ্যারি সোবার্সের সাথে এক সাক্ষাৎকারের কথা শোনালেন মিহির বোস। "আমি তাঁর সামনে তাঁরই অসামান্য সব ইনিংসের কথা তুলছিলাম, কিন্তু তিনি (সোবার্স) কিছুই মনে করতে পারছিলেন না।"

বললেন, অনেক সময় তারকাদের বাইরে থেকে যা মনে হয়, আসলে তারা অন্যরকম। "সৌরভ গাঙ্গুলী সম্পর্কে এদেশে মানুষের ধারণা-- তিনি খুব উদ্ধত.. মহারাজের মত আচরণ...কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভিন্ন।"

একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত হয়ে ব্রিটেনের মূলধারায় সাংবাদিকতা করা কতটা সহজ ছিল? মিহির বোস বললেন, ফুটবল নিয়ে লেখা শুরুর সময় গ্রহণযোগ্যতা পেতে তাঁর সমস্যা হয়েছে। একবার সাদামটন ফুটবল ক্লাবের এক ম্যানেজার সংবাদ সম্মেলনে মিহির বোসকে খোলাখুলি বলেছিলেন, "তোমার হকির মাঠে যাওয়া উচিত.. তুমি ভুল জায়গায় এসেছো।"

"এমন ভাব ছিলো যেন তুমি ভারত থেকে এসেছো, তুমি হয়তো ক্রিকেট জানো, কিন্তু ফুটবল তোমার জায়গা নয়।"

সাংবাদিকতার পাশাপাশি, এখন পর্যন্ত তার ৩০টি বই প্রকাশ হয়েছে। ক্রিকেটের ইতিহাস নিয়ে যেমন লিখেছেন, বলিউডের ইতিহাস নিয়েও লিখেছেন। এমনকী, আগা খান পরিবারকে নিয়েও লিখেছেন।-- সূত্র: বিবিসি 

 

এই বিভাগের আরো খবর

কাল পবিত্র আশুরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র আশুরা। মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন। নফল রোজা, নামাজ, জিকির-দোয়া মাহফিলের ভেতর...

ঘরে বানান চায়নিজ চিলি চিকেন

ডেস্ক প্রতিবেদন: চিলি চিকেন খাবারটি অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও দারুন জনপ্রিয়। চাইনিজ খাবারের কথা মনে হলেই চিলি চিকেনের অসাধারণ...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is