নিজের বাবার সাথেও প্রতারণা করেছেন সাহেদ

প্রকাশিত: ০৬:৩৩, ১০ জুলাই ২০২০

আপডেট: ০৯:১৭, ১০ জুলাই ২০২০

ফররুখ বাবু: সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা নিজের বাবাকেও ছাড়েননি রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম। নিজ হাসপাতালের ভুয়া করোনা নেগেটিভ সনদ দেখিয়ে বাবার চিকিৎসা করান অন্য হাসপাতালে। এমনকি তার প্রতারণার জালে জড়িয়েছেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। সাহেদকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে, খুব শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে, তার স্ত্রী বলছেন, এসব অপকর্মে শুধু সাহেদ নয়, যুক্ত আছেন আরো অনেকে।

নানা ধরণের প্রতারণার নজির স্থাপন করেছেন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম। সরকার অনুমোদিত একটি বেসরকারি কোভিড হাসপাতালের মালিক হলেও ভুয়া করোনা নেগেটিভ সনদ দেখিয়ে বাবার চিকিৎসা করিয়েছেন অন্য হাসপাতালে। সেখানে বাবার মৃত্যু হলেও সাহেদ কোনো ধরনের খোঁজ নেননি বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে সাহেদের পাঠানো এক লোকের কাছে।

এদিকে স্ত্রীও বলছেন, সাহেদ একজন বহুরূপী চরিত্রের মানুষ। ঘরে বাহিরে তার চরিত্র ছিল দেশে বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা। শাহেদ করিম ছিলেন বহুরূপী। পুরোই ভিন্ন বলে জানান সাহেদের স্ত্রী সাদিয়া আরাবী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ব্যক্তিগত ভাবে সাহেদকে তিনি না চিনলেও, তার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগীকে পাঠিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে একজন মারাও গেছেন। স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি নজড়ে আনছে সরকার। এই খাতে যারা অনিয়ম করেছে তাদের কেউ ছাড় পাবেনা বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) তার সংসদ সদস্যকে ছাড় দেননি, তার দলীয় নেতাদেরকেও তিনি ছাড় দিচ্ছেন না। যার (শাহেদ) কথা বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয়, তাকে ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না।

সে যতই ক্ষমতাবান হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবেজানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘তাকে ধরার জন্য অনুসন্ধান চলছে। র‌্যাব এবং পুলিশ উভয়েই খুঁজছে। আমরা মনে করি খুব শিগগিরই আমরা তথ্য দিতে পারব।

উল্লেখ্য, গত জুলাই র‌্যাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা।

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়। একদিন পর গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তবে প্রধান আসামি সাহেদ এখনও পলাতক রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

এবার কক্সবাজারের ১৩শ’ কনস্টেবলকে বদলি

কক্সবাজার সংবাদদাতা: কক্সবাজার জেলা...

বিস্তারিত
কক্সবাজারের সার্ভেয়ার ওয়াসিমের জামিন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *