বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ

প্রকাশিত: ০৯:২৫, ০২ জুলাই ২০২০

আপডেট: ০৯:৩৫, ০২ জুলাই ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও দেশে প্রবাসী আয় তথা রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ।

এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন (রিজার্ভ) প্রথমবারের মতো ৩৬ বিলিয়ন ডলারের (তিন হাজার ৬০০ কোটি) মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বৃহস্পতিবার ( জুলাই) দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১৪৪ বিলিয়ন ডলার বা তিন হাজার ৬১৪ কোটি ডলার।

আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ ব্যাংক বজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে যা যাবতকালের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ। বিগত ৩০ জুন ২০১৯ তারিখে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৭১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যার এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা (পরিমাণ প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে) এর আগে কোনো অর্থবছরে এত অর্থ দেশে আসেনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণে রেকর্ড হয়। ওই সময়ে প্রবাসীরা এক হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। সেই হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার বা ১৫ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ১৮৩ কোটি ২৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার বেশি। গত বছর জুনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৩৬ কোটি ৪২ লাখ ডলার। চলতি বছরের জুনে একক মাস হিসাবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছে। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল গত বছরের মে মাসে।

রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিতে গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রেমিট্যান্সের অন্তঃপ্রবাহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে সরকারের অভূতপূর্ব সাফল্যে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল যাদের অক্লান্ত পরিাশ্রমে অর্জন সেই সকল প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেমিট্যান্স প্রবাহের উল্লম্ফনে সরকার বাস্তবায়িত শতাংশ নগদ প্রণোদনা প্রবাসীদের যথেষ্ট মাত্রায় অনুপ্রাণিত করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতি সহায়তাও যথেষ্ঠ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। ফলে তারা নিকট অতীতে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা পাঠায়।

ব্যাংকগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রা ধারণের লিমিট পর্যন্ত রেখে অতিরিক্ত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করে। এভাবেই রিজার্ভের স্থিতি ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। তাছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আমদানি দায় পরিশোধের সময় বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দায় পরিশোধের সময়সীমা বাড়ায় নিকট অতীতে দায় পরিশোধ বহুলাংশে কমেছে।

পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি খাতের (বিশেষ করে জ্বালানি খাতের) সার্বিক আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হ্রাস পাওয়ার কারণেও রিজার্ভ বেড়েছে। সম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য অনেক কমেছে এবং কোভিড-১৯ এর কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে তেলের চাহিদা কমেছে। ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তেল এলএনজি আমদানি ব্যয়ও কমেছে।

এই বিভাগের আরো খবর

রিজার্ভ ও রেমিটেন্সে রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থবছরের শুরুতেই...

বিস্তারিত
আবারও বাড়ল সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারো...

বিস্তারিত
রিজার্ভ থেকে ঋণের পরিকল্পনায় সমালোচনা

ইউসুফ রানা: করোনার প্রভাবে রাজস্ব...

বিস্তারিত
করোনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী কমেছে 

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনার প্রভাবে...

বিস্তারিত
নিয়ন্ত্রণে আসেনি কাঁচামরিচের দাম

সুমন তানভীর: কাঁচামরিচের দাম যেন...

বিস্তারিত
শ্রমিক সংকটে ব্যহত পোশাক কারখানার উৎপাদন 

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: শ্রমিক সংকটে...

বিস্তারিত
এবার চামড়া কেনায় অনিশ্চয়তার আশংকা

মেহের মণি: করোনা পরিস্থিতিতে এবার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *