পুলিশ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়: আইজিপি

প্রকাশিত: ০৬:৩৭, ০২ জুলাই ২০২০

আপডেট: ০৬:৩৭, ০২ জুলাই ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনভাইরাসের সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ সেবা দিয়ে জনগণের হৃদয়ে যেভাবে জায়গা করে নিয়েছে করোনা চলে যাওয়ার পরও তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) . বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘করোনায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশ মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাত্র তিন মাসে পুলিশ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রশংসা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও প্রশংসা করেছেন। কিন্তু একসময় করোনা চলে যাবে, তখন কী হবে? আমরা কি আগের অবস্থায় ফিরে যাব? না, আমরা যেখানে গিয়েছি সেখান থেকে আর ফিরে আসব না। সেখান থেকে আরও এগিয়ে যাব। মানুষের ভালোবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা কেনা যায় না, অর্জন করতে হয়।

দেশ পুলিশকে জনবান্ধব, আধুনিক যুগোপযোগী বাহিনীতে পরিণত করার লক্ষ্যে ইনোভেশন অ্যান্ড বেস্ট প্র্যাকটিস শাখা আয়োজিত পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মতামত গ্রহণ বিষয়ক পাঁচ দিনের কর্মশালার আজ (বৃহস্পতিবার) শেষ দিন ছিল। উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন।

আইজিপি সবার মতামত নিয়ে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে পুলিশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যেতে চান, যাতে জনগণ পুলিশকে প্রকৃত অর্থেই ভালোবাসে, সম্মান করে, শ্রদ্ধা জানায়; যাতে জনগণের হৃদয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী আসন করে নিতে পারে বাংলাদেশ পুলিশ।

করোনাকালে পুলিশের ভূমিকা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণের প্রথম দিন থেকেই কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর জন্য অপেক্ষা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক পুলিশ সদস্য নিজের অজান্তেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন ৪৪ জন সম্মুখযোদ্ধা বীর পুলিশ সদস্য।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের সেবায় পুলিশের অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘বর্তমান করোনাকালে পুলিশ যেভাবে জনগণের কাছে গিয়েছে, তাদের পাশে থেকেছে, তাদেরকে সুরক্ষা দিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করছেন। পুলিশ প্রধান হিসেবে জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।

তিনি বলেন, ‘করোনায় পুলিশ শুধু কোয়ারেন্টাইন, লকডাউনই বাস্তবায়ন করেনি। অসহায় মানুষের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছে, অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে যখন স্বজনরা কেউ এগিয়ে আসেনি, তখন পুলিশ তাদের জানাজার আয়োজন, দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। এসব দায়িত্ব পুলিশের নয়, পুলিশকে দায়িত্ব দেয়াও হয়নি। কিন্তু পুলিশ কেন এটা করেছে? পুলিশ কাজটি নিজেদের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে করেছে। এজন্য মাত্র তিন মাসে পুলিশ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে।

আইজিপি বলেন, ‘জনগণের পুলিশ হতে হলে জনগণকে ভালোবাসতে হবে। তাদের জন্য কাজ করতে হবে, তাদের কাছে যেতে হবে। দমন পীড়ন থেকে বেরিয়ে এসে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। পুলিশকে সকল ধরনের দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবে না, মাদকমুক্ত পুলিশ তথা দেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুলিশ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে সাধারণ থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল দিয়ে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকহানাদার বাহিনীকে মোকাবিলা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প-২০২১ ২০৪১ বাস্তবায়নের অন্যতম সারথি হিসেবে দেশের জন্য রক্ত দিয়ে গড়া বাহিনীকে উন্নত দেশের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

সারাদেশে অনাড়ম্বরভাবে জন্মাষ্টমী উদযাপন

ডেস্ক প্রতিবেদন: করোনা পরিস্থিতিতে...

বিস্তারিত
দেশে ৩শ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে ওরিক্স বায়োটেক

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৩শ মিলিয়ন ডলার...

বিস্তারিত
করোনা নিয়ে অনলাইন বুলেটিন আর হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাস বিষয়ে...

বিস্তারিত
করোনায় প্রাণ হারালেন আরেক পুলিশ সদস্য

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা: করোনায় আক্রান্ত...

বিস্তারিত
শুভ জন্মাষ্টমী আজ

লাবণী গুহ: করোনা অতিমারির কারণে এবছর...

বিস্তারিত
করোনায় বদলাচ্ছে ভোক্তার আচরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা পরিস্থিতিতে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *