দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমিক যাওয়া বন্ধ!

প্রকাশিত: ০৬:১৬, ২৬ জুন ২০২০

আপডেট: ০৮:২২, ২৬ জুন ২০২০

ডেভিড ইকরাম, সিউল,কোরিয়া: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তি রফতানি করে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের জিডিপির মোট ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নবীণ করোনা ভাইরাসের কারণে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে প্রবাস আয়ে। এরই মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। 

চলতি মাসের ১৭ই জুন দেশ থেকে করোনা পরীক্ষার ভুয়া নথি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি দেয় ১১ বাংলাদেশি। সেখানে গিয়ে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর জানা যায় তারা সবাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশেষ বিমানে এর আগেও আরো দুটো ফ্লাইট গিয়েছে সিউলে। সেখানেও প্রায় ৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এর পরপরই দেশটিতে জনশক্তি রপতানি বন্ধ হয়ে যায়।

বিদেশে শ্রম রফতানির ক্ষেত্রে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড। বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আগে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্বও তাদেরই। যদি প্রতিষ্ঠানটি যথাযথভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেই থাকে, তাহলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া স্বত্তে¡ও কিভাবে এই শ্রমিকরা বিদেশে গেল তা একটি বড় প্রশ্ন। ঢাকাস্থ ইপিএস সেন্টার এ কাজগুলি সততার সাথে করলে আজ এ বিপর্যয়ে পড়তে হতো না বাংলাদেশকে।

কোরিয়া অনির্দিস্টকালের জন্য বন্ধ করে দিলো বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনা। এর দায় কি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তায় না? অন্যান্য দেশ থেকেও কোরিয়াতে শ্রমিক আসছে কিন্তু সেই সব দেশের কেউই  করোনায় সনাক্ত হয়নি। ঐসব দেশ থেকে খুবই সতর্কতার সাথে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে। আর আমাদের দেশের কর্মকর্তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে!

১৮ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন কোরিয়ার সব টেলিভিশনের খবর ছিল “বাংলাদেশ থেকে ১১ জন করোনা আক্রান্তের আগমন।” এখন বাংলাদেশি দেখলেই কোরিয়ানরা একটু থমকে যায়।

 

চলতি বছর এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮৫জন কর্মী কোরিয়া এসেছে। ২০২০ সালে আর কেউ আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অথচ বিগত বছরগুলোতে ১২’শ জনের বেশি, কোনো কোনো বছরে ১৫’শ থেকে ২ হাজার জনের বেশি কোরিয়াতে এসেছে। কম করে ধরলেও চলতি বছরে কোরিয়াতে আসতে পারবে না প্রায় ১১’শ কর্মী। তার মানে ১১০০টা পরিবার নতুনভাবে আর্থিক স্বচ্ছলতা থেকে বঞ্চিত হলেন। 

কোরিয়া থেকে একজন কর্মী প্রতি মাসে সর্বনিম্ন এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দেশে পাঠাতে পারেন। যদিও কেউ কেউ দুই-আড়াই লাখ টাকা বা তার চেয়েও অনেক বেশি পাঠিয়ে থাকেন। একজন ইপিএস কর্মী কোরিয়াতে দুই ধাপে কমপক্ষে ৯বছর ৮মাস অর্থাৎ ১১৬মাস চাকুরী করতে পারেন।  এক কথায় কোরিয়া থেকে ১ হাজার ৬’শ ৮৫ কোটি ২০ লাখ টাকা সমপরিমাণের রেমিটেন্স থেকে বঞ্চিত হল বাংলাদেশ। 

স¤প্রতি জাপানে গিয়েও আটক হয় বেশ কয়জন বাংলাদেশি। জাপানের ঘটনা দেখেও আমরা সতর্ক হইনি।  কোনো পরীক্ষা না করে চেনা মুখ, খাতিরের লোক, বা টাকার নিকট বিক্রি হয়ে করোনা বহনকারী কর্মী কোরিয়া পাঠিয়ে দেশের ক্ষতি ও সুনাম নষ্টের জন্যে যারা দায়ি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

সরকারের উচিত, বাংলাদেশ থেকে যারা করোনা ভাইরাস বহনকারী শ্রমিকদের দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় এনে কোরিয়া সরকারের সাথে যোগাযোগ করা। হয়তো এধরনের পদক্ষেপের কারণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্যে শ্রম বাজার খুলে দেবে কোরিয়া। 
 

এই বিভাগের আরো খবর

১৩ জুলাই থেকে দুবাইয়ে বিমানের ফ্লাইট চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১৩ ও ১৪ জুলাই...

বিস্তারিত
১৬৮ বাংলাদেশি যাত্রীকে ফিরিয়ে দিলো ইতালি

অনলাইন ডেস্ক: কাতার এয়ারওয়েজের দুটি...

বিস্তারিত
‘এমপি নয়, ব্যবসায়ী হিসেবে পাপুল গ্রেফতার’

অনলাইন ডেস্ক: লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি...

বিস্তারিত
প্রবাসীদের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়ালো সৌদি

অনলাইন ডেস্ক: প্রবাসীদের জন্য তিন...

বিস্তারিত
ইতালি গেলেন আরও ২৭৬ বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক: বিমান বাংলাদেশ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *