স্বাস্থ্যখাতের কেনাকাটার দুর্নীতিতে ৩৪ কর্মকর্তা জড়িত

প্রকাশিত: ০২:১৩, ২৬ জুন ২০২০

আপডেট: ০৯:২৫, ২৬ জুন ২০২০

তাসলিমুল আলম: স্বাস্থ্যখাতে কেনাকাটার নামে সরকারি অর্থ হরিলুটের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত দুই অর্থ বছরেই অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকার কেনাকাটায় দুর্নীতির অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে তদন্তকারীরা। আর এর সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩৪ কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে তারা। তাদের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজছে দুদক। 

দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে অতীতে কম-বেশি অভিযোগ থাকলেও, করোনাভাইরাস আসার পর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নাজুক চিত্র প্রকাশ্যে চলে আসে। হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কিছুই যেন নেই মাঠ পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে। আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ অনেক সুবিধা ইউনিয়ন, উপজেলা তো দূরের কথা জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতেও নেই। 

গত এক দশকে দেশে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। তবে স্বাস্থ্যখাতের দুষ্ট চক্রের কারণে প্রান্তিক মানুষ এই বরাদ্দের সুবিধা পায়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণায় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিরোধে গতবছর ১১টি মামলা করে দুদক। সরকারী হাসপাতালে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ এই দুই অর্থ বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার কেনাকাটায় দুর্নীতির অনুসন্ধান চলছে। 

স্বাস্থ্যখাতে জালিয়াতি করে যারা অবৈধ সম্পদের মালিক বনেছেন তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করছে দুদক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোটিপতি কমচারী আবজাল হোসেনের মতো অধিদপ্তরের ৩৪ ব্যক্তির অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুদক। এর মধ্যে রয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুই পরিচালক, কয়েকটি হাসপাতালের পরিচালক-সচিবসহ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের অপ্রদর্শিত বাড়ি-গাড়ি, জমি ও ব্যবসাসহ ব্যাংক হিসাব এখন দুদকের গোয়েন্দা জালে।

এদিকে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্যখাতের এই সিন্ডিকেটকে শা¯িÍর মুখোমুখি না করতে পারলে স্বাস্থ্য সেবার মান ভালো করা সম্ভব নয়।

দুদকের সুপারিশ আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটার সাথে জড়িত ১৪ ঠিকাদারকে কালো তালিকা ভুক্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

এক দশকে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট

সাল    স্বাস্থ্য খাতের বাজেট
২০১৯-২০    ২৫,৭৩৩ কোটি টাকা
২০১৮-১৯    ২৩,৩৯৩ কোটি টাকা
২০১৭-১৮    ২০,৬৫২ কোটি টাকা
২০১৬-১৭    ১৭,৪৮৬ কোটি টাকা
২০১৫-১৬    ১২,৬৯৫ কোটি টাকা
২০১৪-১৫    ১১,১৪৬ কোটি টাকা
২০১৩-১৪    ৯,৪৭০ কোটি টাকা
২০১২-১৩    ৯,৩৩৩ কোটি টাকা
২০১১-১২    ৮,৮৬৯ কোটি টাকা
২০১০-১১    ৮,১২৯ কোটি টাকা

দুদক যাদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে নেমেছে 

১    অধ্যাপক ডা. এম. এ রশিদ    পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
২    অধ্যাপক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন    সাবেক পরিচালক, হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর 
৩    মো. ওবায়দুল     প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ
৪    মো. নাজিম উদ্দিন    স্টোর অফিসার, শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুর
৫    আব্দুল মালেক    গাড়ি চালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
৬    ইমদাদুল হক    হিসাব রক্ষক, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৭    আব্দুল হালিম    ল্যাব সহকারী, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৮    আনোয়ার হোসেন    সচিব, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৯    মো. মোস্তাফিজুর রহমান    প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল
১০    ডা. আবুল কালাম মো. আজাদ    সাবেক পরিচালক, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১১    মো. সাইফুল ইসলাম     সচিব, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ
১২    মো. শাহজাহান    গাড়ি চালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
১৩    মো. আনোয়ার হোসেন    হিসাব রক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী, সিভিল সার্জন অফিস, রাজশাহী
১৪    আব্দুল মজিদ     হিসাব রক্ষক, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল
১৫    সুব্রত কুমার দাস    ল্যাব সহকারী, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১৬      মো. রফিকুল ইসলাম    সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
১৭    আবদুল¬াহ হেল কাফি    হিসাব রক্ষক, মুগদা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
১৮    এটিএম দুলাল    হিসাব রক্ষক, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল
১৯    মহিউদ্দিন মারুফ    হিসাব রক্ষক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
২০    হেলাল তরফদার    স্টোর ম্যানেজার (ইপিআই), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
২১    হুমায়ুন চৌধুরী    প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
২২    জালাল উদ্দিন    প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
২৩    মো. আলিমুল ইসলাম    হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
২৪    মীর রয়হান আলী    সহকারী প্রধান পরিসংখ্যানবিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
২৫    মো. ফারুক হাসান     প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
২৬    মো. সাজেদুল করিম     প্রধান সহকারী, পরিচালক (স্বাস্থ্য), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
২৭    মো. আশরাফুল ইসলাম    প্রধান সহকারী, পরিচালক (স্বাস্থ্য), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
২৮    মো. তৈয়বুর রহমান    উচ্চমান সহকারী, পরিচালক (স্বাস্থ্য), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
২৯    মো. সাইফুল ইসলাম    উচ্চমান সহকারী, পরিচালক (স্বাস্থ্য), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
৩০    মো. ফয়জুর রহমান    উচ্চমান সহকারী, পরিচালক (স্বাস্থ্য), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
৩১    মো. মাহমুদুজ্জামান    প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট
৩২    তোফায়েল আহমেদ    অফিস সহকারী, ইপিআই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
৩৩    মুজিবুল হক মুন্সি    হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, ইপিআই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
৩৪    কামরুল ইসলাম    অফিস সহকারী, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর


 

এই বিভাগের আরো খবর

শতভাগ অনলাইন করেও কালোবাজারে ট্রেনের টিকিট

তারেক সিকদার: শতভাগ অনলাইন করার পরেও...

বিস্তারিত
দুদকের সুপারিশ মানেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাস্থ্যখাতের...

বিস্তারিত
বাস টার্মিনালে নেই ঈদযাত্রার ব্যস্ততা

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবার ঈদে ঘরমুখী...

বিস্তারিত
দেশে করোনা ভ্যাকসিন পরীক্ষার অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চীনের সিনোভেক...

বিস্তারিত
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইন ক্লাস শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা পরিস্থিতিতে...

বিস্তারিত
করোনা পরীক্ষায় পদে পদে ভোগান্তি 

আশিক মাহমুদ: করোনার পরীক্ষা করাতে পদে...

বিস্তারিত
কুষ্টিয়ায় হরিজন সম্প্রদায়ের জমি দখল! 

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা: কুষ্টিয়ায় হরিজন...

বিস্তারিত
বিশ্বনেতৃত্বে আমেরিকার আসন নড়বড়ে!

ফারহীন ইসলাম টুম্পাঃ করোনাভাইরাস...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *