নতুন কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৯:৩২, ২২ মে ২০২০

আপডেট: ০৯:৩২, ২২ মে ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের পক্ষে নতুন কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। যে সব দেশ রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলছে, তাদের নিজ দেশে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আজ (শুক্রবার) দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, আমাদের পক্ষে আর বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় দেয়া সম্ভব না। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোর প্রতি আহ্বানও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

এ কে আব্দুল মোমেন আরও বলেন, যারা বিশ্বে বড় বড় মাতব্বর, যারা সব সময় আমাদের উপদেশ দেন, তারা কিছু রোহিঙ্গা নিতে পারেন। তবে তারা নেন না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেদিন ইউরোপের একজন রাষ্ট্রদূত আমার কাছে এসেছিলেন। আমি বললাম, আমার দেশের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ডলার, আর আপনার দেশের মাথাপিছু আয় ৫৬ হাজার ডলার। আমার দেশে প্রতি বর্গমাইলে ১২০০ লোক থাকেন, আর আপনার দেশে প্রতি বর্গমাইলে ১৫ জন লোক থাকেন। আপনারা কিছু রোহিঙ্গা নিয়ে যান। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

মন্ত্রী এসময় বলেন, ‘তাদের উদ্দেশ্য করে বলি, আপনার যদি এত দরদ থাকে, ওদেরকে বেটার লাইফ দেবেন, নিয়ে যান আপনার দেশে। অসুবিধা কী? আমরা কাউকে আটকাব না। রিলোকেট দেম। যে কোনো দেশে নিয়ে যান।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঝামেলা হয় আন্দামান সাগরে, ভারত মহাসাগরে। যখনই ঝামেলা হয় তখনই সবাই শুধু বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে। ভাবখানা এমন, যেহেতু আমরা আগে ১১ লাখ আশ্রয় দিয়েছি, বাকিগুলোকেও দেন। রোহিঙ্গা সমস্যা দুনিয়ার যেখানে হবে, তাদের আপনারা সাহায্য দেন।

‘আমরা বলেছি যে, আমরা পারব না। আমাদের আর কোনো জায়গা নেই। আর অন্যদেরও রেসপনসিবিলিটি আছে। আর রোহিঙ্গা আমাদের একার সমস্যা নয়, এটা বিশ্বের সমস্যা। বড় বড় যারা মাতব্বর সারাবছর আমাদের উপদেশ দেন, আদেশ করেন, তারা নিতে পারেন। তাদের জায়গার কোনো অভাব নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, রোহিঙ্গারা (কক্সবাজারে) ক্যাম্পে অনেক ঘিঞ্জি পরিবেশে থাকেন। আর সেখানে নানা অপরাধে জড়িয়ে যান। ভাসানচরে গেলে কাজের সুযোগ পাবেন। রাখাইনে যেমন মাছ ধরতেন, কৃষিকাজ করতেন, তেমন সুবিধা সেখানেও পাবেন। তারা অর্থনৈতিক কাজে যুক্ত হতে পারবেন। এতে তাদের ভালো হবে। ভাসানচরে যাতায়াতের সমস্যার কথা বলছেন অনেকেই। তবে যারা বলছেন, তারা বোট সার্ভিস চালু করতে পারেন। কেন তারা এই সার্ভিস চালুর জন্য এগিয়ে আসছেন না প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী?

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারের মুখে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে এসে আগে থেকে অবস্থান করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয়ে রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ১৯৭৫, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাণঘাতি করোনা...

বিস্তারিত
কাজী নজরুলের ১২১তম জন্মজয়ন্তী আজ

বিউটি সমাদ্দার: আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ, জাতীয়...

বিস্তারিত
মিষ্টি ও ফল পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা: পবিত্র  ঈদুল ফিতর...

বিস্তারিত
জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করিতেছি

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
করোনায় এবার উৎসবহীন ঈদ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্মীয়...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *