বাবাকে নিয়ে খোকনের ছেলের আবেগঘন স্ট্যাটাস

প্রকাশিত: ১১:৪২, ২৯ এপ্রিল ২০২০

আপডেট: ১১:৪৪, ২৯ এপ্রিল ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকনের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেনা তার ছেলে আশরাফুল আবির। বাবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াকে এখনো বাজে স্বপ্ন বলে মনে করছে আবির।

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র আবির বলছেন, “আমরা এখনো বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমার কাছে এখনো মনে হচ্ছে যেন একটা বাজে স্বপ্ন দেখে হয়ত ঘুমটা ভাঙল।”

“আমি ও আমার পরিবারের কাছে মনে হচ্ছে যে, আমরা হয়ত কোনো বাজে স্বপ্ন দেখলাম। কিন্তু এইটা যে আসলেই বাস্তবেই হয়ে গেল আমরা এখনও বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমার কাছে এখনো মনে হচ্ছে যেন একটা বাজে স্বপ্ন দেখে হয়ত ঘুমটা ভাঙল”, নিজের ফেসবুকে লিখেন আবীর।

দৈনিক সময়ের আলোর নগর সম্পাদক হুমায়ুন কবির খোকনকে মঙ্গলবার রাতে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া খোকনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

বুধবার দুপুরে গ্রামের বাড়ি কুমিল­ার মুরাদনগরে খোকনকে দাফন করা হয়েছে। এদিকে ঢাকার মহাখালীতে তার পরিবারকে বাসায় আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে।

স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে হুমায়ুন কবির খোকনের। ছেলে-মেয়েরা সবাই এখনও লেখাপড়া করেন।

বাবাকে স্মরণ করে আবীর আরো লিখেন “আমার বাবা একজন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী ব্যক্তি ছিলেন, যিনি সারাটি জীবনে হয়ত নিজের কথা কখনো ভাবেননি। আমাদের জন্যই হয়ত সারাটা জীবন উৎসর্গ করে গেলেন।এই করোনা সংকটময় দিনেও তিনি ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটা দিন অফিসে গিয়েছেন বাসায় এসেছেন। আমি এই নিয়ে আমার বন্ধুদেরও বলে ছিলাম যে, আমরা খুব ভয়ে আছি। কারণ আমার আব্বু আর আপু দুইজন চাকুরীজীবী পরিবারে এবং তারা প্রতিদিনই অফিসের গাড়ি দিয়েই অফিসে আসা যাওয়া করেছেন।”

আবির লিখেছেন, “আমার বাবার ৩-৪ দিন ধরে কাশি হচ্ছিল, পরিমানটা দিন দিন বেড়েই চলছিল। আমার তখনই সন্দেহ হচ্ছিল। আমি বাবাকে বললাম আপনার করোনা হয়নি তো?  সে হেসে বলল, আরে ধুর বেটা টন্সিলের ব্যাথা এইটা আগের থেকেই ছিল।ওই রকম কিছু না। কারণ সে চাচ্ছিল বাসায় থেকেই ট্রিটমেন্ট নিয়ে সুস্থ হতে। কারণ করোনাভাইরাস পজিটিভ হলে এলাকার ভিতর আতঙ্ক ছড়াবে। এছাড়া লজ্জার ভয়ে সে তখনও এইটা সাধারণভাবেই দেখছিল। আমিও ভাবলাম যে হয়ত এই রকম জ্বর কাশি হয়ত সাধারণ, হয়ত বাসায় ওষুধ খেলে গরম পানি খেলে হয়ত ঠিক হয়ে যাবে। আমি এই কয়দিন বাসায় সাধারণভাবেই কাটাচ্ছিলাম বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপ করার জন্য অনেক কিছু শিখছিলাম । কিন্তু বাবার কাশি বেড়েই চলছিল আম্মুও জ্বর অনুভব করতে শুরু করল তার দুই দিন আগে। তখন আমি ভয় পেয়ে গেলাম।

“আম্মুকে বললাম বলল যে করোনাভাইরাসের নমুনা দুই-একদিনের ভেতরই নিতে আসবে বলল। কিন্তু বাবার কাশি বেড়েই চলছিল কাশির সাথে সাথে ফুসফুস মারাত্মকভাবে আক্রমণ করছিল মনে হচ্ছে। হয়ত বাবার গলায় চুলকাচ্ছিল। আমি এর পরের দিন একটু দেরিতে উঠলাম দেখলাম আম্মু বাবাকে জাউ ভাত রান্না করে খাওয়াচ্ছে। হঠাৎ দেখলাম সে জানি কেমন করছে, মনে হচ্ছে অনেক কষ্ট হচ্ছে, মনে হল শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। সে ওই মুহূর্তে এই লড়াইয়ের সাথে পেরে উঠতে পারেনি। আম্মুকে বললাম বলল সকালে অ্যাম্বুলেন্সকে খবর দেওয়া হইসে। উত্তরার রিজেন্টে ব্যবস্থা করা হইসে।অ্যাম্বুলেন্স আসতেসে। আম্মু বললো তোর কাছে কি ভাংতি টাকা আছে আমাকে দে তো। আমার কাছে ৩৫০০ টাকা ছিল আমি পুরাটাই আম্মুকে দিয়ে দিলাম সাথে সাথে। আমি ঘরে পরার জামা পরেই অ্যাম্বুলেন্সে উঠে গেলাম। কারণ আমার মনে হচ্ছিল এমনিতেই দেরি হয়ে  গেছে।

“আমি ভাবলাম হাসপাতালে হয়ত অনেকেই থাকবে আব্বুর জন্য অফিসের লোক। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলাম, আমি আর আম্মু ছাড়া পরিচিত কেউ নেই। কারণ লকডাউন থাকার জন্য গাড়ি তেমন চলে না রাস্তায়, এছাড়া অনেকেই হয়ত লক্ষণগুলোর বর্ণনা শুনে হয়ত কেউ আসতে সাহস করছিল না। এইদিকে সাবান আঙ্কেল (শাবান মাহমুদ) সব ব্যবস্থা করে রেখেছিল ওইখানে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টাই করেছিল আইসিউইতে রেখে অক্সিজেন দেওয়ার, কিন্তু ডাক্তার বলল তার পালস নেই এবং ব্রেনও অক্সিজেন নিচ্ছে না। ডাইরেক্টলি বললেন ও না যে, সে আগেই মারা গেছে। বলল আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি দোয়া করেন যদি ব্রেইন হঠাৎ মিরাকেলভাবে যদি কাজ করতে শুরু করে। রাত ১০:০০টার দিকে আম্মুকে উপরে ডাকল শেষবারের মতো দেখার জন্য। তখন আম্মু ফোনে কয়েকজনকে জানিয়ে দেয়।

“এছাড়া নিউজ স্ক্রলগুলাতেও অফিসিয়ালি আপডেট দিয়ে দেয় যে, বাবা আর নেই। এখন বাবার করোনাভাইরাস টেস্ট হওয়ার আগেই মারা গেছেন তাই এইটা অফিসিয়ালি বলা হয়নি। বলা হয়েছে যে, করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।”

বাবার জন্য দোয়া চেয়ে সাংবাদিক খোকনের ছেলে লিখেছেন, “সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন যেন আল­াহ ওনাকে জান্নাতবাসী করেন। ওনার মতো ভালো, সৎ এবং নিষ্ঠাবান মানুষ খুব কমই আছে সমাজে। এছাড়া আমি চাই না এখন সবাই আমাদেরকে ডিমোটিভেট বা ভয়ভীতি দেখাক। আমরা এমনিতেই অনেক কঠিন সময় পার করছি।

“আমরা সবাই সতর্কতা অবলম্বন করেই বাসায় আছি। বাসা বা এলাকা হয়ত লকড-ডাউন হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে মনে করি, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করুক।

“আমার বন্ধুরা অনেক চিন্তিত হয়ে পড়েছে আমার জন্য, আমাদের সামনের দিনগুলো নিয়ে। আশা করি, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ সরকার  আমাদের পরিবারের পাশে থাকবেন। বাস্তবতা কঠিন হয়ে গেছে। তবুও বাস্তবতার সাথেই সব কিছু এখন অ্যাডজাস্ট করে নিতে হবে। সবাই ভালো থাকবেন এবং সচেতন হবেন। আপাতত আর কিছু লিখতে চাচ্ছি না।”

 

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকের নতুন ফিচার ‘এভাটারে’

অনলাইন ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম...

বিস্তারিত
৯২টি পত্রিকার অনলাইন নিবন্ধনের অনুমতি

অনলাইন ডেস্ক: অনলাইন নিউজ পোর্টাল...

বিস্তারিত
পত্রিকার অনলাইন নিবন্ধনে অগ্রাধিকার

নিজস্ব সংবাদদাতা: দেশের শীর্ষ সারির...

বিস্তারিত
রেডিও-টিভি'র অনলাইনেরও অনুমোদন লাগবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: টেলিভিশন, রেডিও এবং...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *