করোনা বিস্তারের শেষ কোথায়?

প্রকাশিত: ১১:২৪, ০৬ এপ্রিল ২০২০

আপডেট: ১১:২৪, ০৬ এপ্রিল ২০২০

তামান্না জাহান: গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে চীনে রহস্যময় করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়। দ্রুত ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে চীনজুড়ে। কেড়ে নিতে থাকে চীনাদের প্রাণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উদ্বিগ্ন হয়ে ভাইরাসটির ব্যাপারে বারবার সতর্ক করে। গত ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চীনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল করোনা ভাইরাস। ১৩ জানুয়ারি ভাইরাসটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়। চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। এরপর সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে। এভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে।

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১২ লাখ পেরিয়ে গেছে। মারা গেছে ৬৬ হাজার মানুষ। তবে, এখনো এমন কিছু দেশ আছে, যেখানে হানা দেয়নি প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস।

জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশ ১৯৩টি। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ এপ্রিল পর্যন্ত ১৮টি দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।
দেশগুলো হলোকমোরোস, কিরিবাতি, লেসোথো, মার্শাল আইল্যান্ডস, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, উত্তর কোরিয়া, পালাউ, সামোয়া, সাও তোমে অ্যান্ড প্রিনসিপ, সলোমোন আইল্যান্ডস, দক্ষিণ সুদান, তাজিকিস্তান, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, ভানুয়াতু ও ইয়েমেন।

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, উত্তর কোরিয়া ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের মতো দেশের সরকার করোনা রোগীর সংখ্যা শূন্য বলছে। কিন্তু সেখানে কেউ আক্রান্ত হয়নি এমনটা বলা যাবে না।

তবে কিছু দেশ আছে, যেখানে সত্যি সত্যিই করোনা যায়নি। এই দেশগুলোর বেশির ভাগই বিচ্ছিন্ন দ্বীপরাষ্ট্র। সেখানে ঘনবসতি নেই, লোকজনের যাতায়াতও কম। বিশ্বের সবচেয়ে কম লোক যাতায়াত করে, এমন ১০টি দেশের মধ্যে সাতটিই করোনা-মুক্ত।

কম ঘনবসতি ও দুর্গমতার ফলে দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে এমনিতেই সামাজিক দূরত্বের নিয়মনীতি কার্যকর আছে। আর সেখানকার অধিবাসীরা স্বেচ্ছা-বিচ্ছিন্ন। তা ছাড়া এদের মধ্যে অনেক দেশ আগেই করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু এরমধ্যে একটি। করোনা রোগী শনাক্ত না হলেও সেখানে জাতীয় পর্যায়ে  জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট লিওনেল এঙ্গিমিয়া। ১০ হাজার জনসংখ্যার বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এ দেশটিতে বছরে পর্যটকের সংখ্যা মাত্র ১৬০ জন বলে জানিয়েছে একটি পর্যটন প্রতিষ্ঠান। এরপরও সতর্কতা হিসেবে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরান থেকে আসা ভ্রমণকারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় দেশটির সরকার। এছাড়া, যারা কোয়ারেন্টাইনে আছেন, তাদের কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহের পর সেগুলো অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষার জন্যও পাঠানো হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত না হলেও নাউরুর মতো কিরিবাতি, টোঙ্গা, ভানুয়াতু ও অন্যান্য ছোট দ্বীপরাষ্ট্রেও একই ধরনের জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের লিভারপুল স্কুলের ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পিটার ম্যাকফারসন বলেন, দ্বীপরাষ্ট্রগুলো যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের রোগতত্ত¡ বিভাগের অধ্যাপক অ্যান্ডি টাটেম বলেন, বর্তমানে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, তাতে তিনি নিশ্চিত নন যে, কোনো দেশ এই সংক্রামক রোগ থেকে রেহাই পাবে।
 
মাস তিনেক আগেও অনেক দেশ ভেবেছিল, ভাইরাসটি চীনেই থাকবে। সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হতে বেশি সময় লাগেনি। করোনা এখন এক বৈশ্বিক মহামারীর নাম। বিশ্বের ২শ'র বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে এ ভাইরাস। তাই করোনার বিস্তারের শেষ কোথায়, তা আসলে কেউই জানে না।
 

এই বিভাগের আরো খবর

সৌদি আরবে করোনায় মৃতদের অর্ধেকই বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের অন্যান্য দেশের...

বিস্তারিত
ব্রাজিলে করোনায় প্রতি মিনিটে ১ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও...

বিস্তারিত
করোনায় মৃত্যুতে দ্বিতীয়  যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  করোনা ভাইরাসে...

বিস্তারিত
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়ছে আক্রান্তর সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  পাঁচ দিন ধরে...

বিস্তারিত
ভারতে একদিনে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়া...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *