ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে এনডিএ প্রার্থী বিহারের রাজ্যপাল রামনাথ কোবিন্দ আপডেট: ০৮:০৯, ১৯ জুন ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের প্রার্থী হিসেবে বিহারের রাজ্যপাল রামনাথ কোবিন্দের নাম ঘোষণা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, আজ সোমবার বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহ কোবিন্দের নাম ঘোষণা করেন।

দলিত সমাজের প্রতিনিধি রামনাথ কোবিন্দ ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বিজেপির দলিত মোর্চার সভাপতি ছিলেন। এছাড়া, উত্তরপ্রদেশ থেকে দুই মেয়াদে রাজ্যসভার সদস্যও নির্বাচিত হন তিনি।

রাজধানীতে একটা কথা চালু আছে, নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ জুটি কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা কারও পক্ষে আঁচ করা সম্ভব নয়। হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণামতো রাষ্ট্রপতি পদেও সারপ্রাইজ দিলেন মোদী-শাহ।

জাতীয় রাজনীতিতে অচেনা হলেও নিজের জগতে বেশ সফল রামনাথ কোবিন্দ। আইন পেশায় থাকলেও, সংঘ পরিবার এবং বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের গুড বুকে বরাবর ছিলেন। বছর তিনেক আগে কোবিন্দকে বিহারের রাজ্যপালের দায়িত্ব দিয়ে তাঁকে পাদপ্রদীপে আনে বিজেপি নেতৃত্ব। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করে চমকের বৃত্তটা সম্পূর্ণ হল।

জাতপাতের রাজনীতিতে ভারতের সবথেকে বড় গবেষণাগার উত্তরপ্রদেশ। গত তিন দশক এই অঙ্কে গো-বলয়ের বৃহত্তম রাজ্যের দাপট দেখিয়েছেন মায়াবতী। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে মায়াকে গুরুত্বহীন করে দিয়েছি বিজেপি। তবে দলিতদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার জায়গায় এখনও পৌঁছতে পারেনি কেন্দ্রের শাসক দল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই ফাঁকটাও ভরাট হল। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দলিত প্রতিনিধিকে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ খুঁজে নিলেন। এই সিদ্ধান্তে প্রাথমিকভাবে চমক মনে হলেও, রামনাথ কোবিন্দকে বেছে নেওয়ার পিছনে রয়েছে অনেক অঙ্ক।

সামান্য আইনজীবী থেকে রামনাথ কোবিন্দের উত্থান চমকে দেয়ার মতো। ১৯৪৫-এর ১ অক্টোবর তাঁর জন্ম কানপুরের তেহসিল দেরাপুরে। কানপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য এবং আইনে স্নাতক হন কোবিন্দ। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) সঙ্গেও ছিল ঘনিষ্ঠতা। ১৯৭১-এ বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত হন। তারপর দিল্লি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে তিন দশক ধরে চুটিয়ে ওকালতি করে  আসছেন। এর মধ্যে রাজনাথ সিংয়ের সংস্পর্শে এসে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে গতি আসে। বিজেপি মুখপাত্রের দায়িত্ব পান। উত্তর প্রদেশের সাধারণ সম্পাদকের পদেও তাঁকে আনা হয়। ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দু’দফায় ১২ বছর বিজেপির সমর্থনে রাজ্যসভার সদস্য হন। এরই সুবাদে সংসদের একাধিক কমিটির সদস্য হন তিনি। বি. আর. আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইএম কলকাতার বোর্ড মেম্বার পদেও ছিলেন তিনি। তাঁর কেরিয়ার অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা হয় ২০০২ সালে। সে-বছর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভায় ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে তিনি বক্তব্য রেখেছিলেন।

এক ছেলে ও মেয়ের বাবা রামনাথ কোবিন্দ দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর জন্য কাজ করেছেন। সরকারিভাবে খবর পেয়ে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের এই বাসিন্দা। কোবিন্দ জিতলে দ্বিতীয় কোনো দলিত রাইসিনা হিলের বাসিন্দা হবেন।

 

Publisher : Jyotirmoy Nandy