এত বিপুল মৃতদেহ কিভাবে সৎকার হচ্ছে?

প্রকাশিত: ১১:৫৩, ০১ এপ্রিল ২০২০

আপডেট: ১১:৫৩, ০১ এপ্রিল ২০২০

ফারহীন ইসলাম: ইতালির মিলান শহর, যে শহর মানুষের পদচারণায় দিন-রাত মুখরিত হয়ে থাকতো, আজ সেই শহর নীরব নিস্তব্ধ। চারদিকে শুধু অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজানোর শব্দ। করোনার প্রার্দুভাবে ভয়াবহভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে শহরটি এখন যেন এক মৃত্যুপুরী। একই অবস্থা ইতালির অন্য শহরগুলোরও।

ইতালির মধ্যে সব থেকে ভয়াবহ অবস্থা লোমবার্ডির। ইউরোপের করোনা ভাইরাস বিস্তারের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে শহরটি। সেখানে হাসপাতালের মর্গে আর লাশ রাখার জায়গা হচ্ছে না। লোমবার্ডির জোঙ্গো গ্রামে দিনে একবারই গীর্জার ঘণ্টা বাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় পাদ্রিরা। কেননা করোনায় মৃত্যুর মিছিল বড় হতে থাকায় সারাদিনই ঘন্টা বাজাতে হচ্ছিল তাঁদের।

ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, করোনাভাইরাসে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজারে। গেল সপ্তাহের তুলনায় গেল ৪৮ ঘন্টায় ইতালিতে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা অনকেটা কমে এলেও মৃতদেহ সৎকার নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। কবরস্থান বা সিমেন্ট্রিগুলোর সাথে সংযুক্ত গীর্জাগুলোতে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে কফিনের সারি। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, করোনার কারণে প্রতিদিন যেসব মানুষ মারা যাচ্ছেন তাদের নিরাপদে রাখার জায়গা নেই। এমন অবস্থায় অস্বাভাবিক এই মৃত্যু হারে মর্গে লাশ রাখা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে দেশটি।

এতো বিপুল সংখ্যক মানুষের দাফনের জায়গা হচ্ছে না কবরস্থানগুলোতেও। প্রতিনিয়ত মৃতদেহ আসতে থাকায় সৎকার কাজে হিমশিম খাচ্ছেন সৎকার কর্মীরাও। এদিকে, এতো মরদেহ সৎকারের কাজ করতে গিয়ে শারীরিক মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন কবরস্থান সংশ্লিষ্টরা। কারণে শুধু জায়গা নয়, সংকট দেখা দিয়েছে মরদেহ দাফনকারী কর্মীরও। এছাড়া করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে হওয়ায় মৃতদের দাফনে সহায়তার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না নতুন কর্মী।

ইতালির শহর মিলানে শেষকৃত্য ব্যবস্থাপনার কাজ করা আন্দ্রেয়া সেরাতো বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইতালীয়দের শেষ বিদায় জাানানোর সুযোগটিও কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস। মৃতদের প্রাপ্ত মর্যাদাটুকু কেড়ে নেয়া হয়েছে। যা জীবিত স্বজনদের দুঃখ বাড়িয়ে তুলেছে কয়েক গুণ। করোনা আক্রান্ত অনেকেই হাসপাতালে বিচ্ছিন্ন থাকা অবস্থায় মারা যাচ্ছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি খুব বেশি হওয়ায় রোগীদের সাথে দেখা করা নিষিদ্ধ। যদিও ইতালির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পরে ভাইরাসটি সংক্রমিত হতে পারে না। তবে এই ভাইরাস কয়েক ঘণ্টা ধরে জামা কাপড়ে বেঁচে থাকতে পারে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতদেহ সৎকারেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইতালি সরকার। যার মধ্যে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ  করেছে দেশটি। যদিও প্রথম দিকে মৃতব্যক্তির শেষ প্রার্থনায় অল্প কিছু স্বজনকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয় দেশটির সরকার। যেখানে অবশ্যই মাস্ক এবং নিরাপদ প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ ব্যবহার করতে হতো।

স্পেনইতালির পর করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত দেশ স্পেন। বর্তমানে দেশটিতে সংক্রমণের হার বেড়েছে পাঁচগুণ আর ৬১ হাজারের বেশি মানুষকে চিকিৎসা দিচ্ছে হাসপাতালগুলো। ভাইরাসের প্রকোপ বেশি ছড়িয়েছে রাজধানী মাদ্রিদে, তবে উত্তর-পূর্বের কাতালোনিয়া অঞ্চলে দ্রুতবেগে বাড়ছে সংক্রমণের হার। এমন অবস্থায় জরুরি অবস্থা ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে স্পেন সরকার। এতো বিধি-নিষেধ স্বত্বেও থামছেনা মৃত্যুর মিছিল। গেল কয়েকদিনে দেশটিতে করোনা ভাইরাসে এতো মানুষ মারা গেছে যে, সকলের সৎকার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি মর্গেও জায়গা নেই।

মাদ্রিদ শহরে মৃতদের সৎকার করার প্রতিষ্ঠান, গেল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জানিয়েছে, যে তাঁরা করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃতদেহ সংগ্রহ করা বন্ধ করে দিয়েছে। এতো বিপুল মৃতদেহ সৎকার নিয়ে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসনও। সেখানকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, সৎকার সার্ভিসের কর্মীরা এগিয়ে না আসা পর্যন্ত মৃতদেহ কোল্ড স্টোরেজে রাখা হবে। এক্ষেত্রে মাদ্রিদের প্রধান আইস রিঙ্ক বা বরফের মধ্যে স্কেটিং করার জায়গা ব্যবহার করা হবে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে।

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যালভাদর ইলা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি দেশটিতে এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, লাশ পুড়িয়ে ফেলতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাদ্রিদ পৌর সৎকার সার্ভিস বলছে, গেল সপ্তাহ থেকে তাঁরা আর করোনা রোগীদের মরদেহ পোড়াচ্ছেন না। কারণ হিসেবে সুরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতির কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

স্পেনের সব অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই  মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মৃতদেহ সৎকারে হিমশিম খাচ্ছে। কারণে মৃতদেহ সৎকারের দায়িত্ব দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর ন্যস্ত করেছে স্পেন সরকার। এর মধ্যে করোনা নিয়ে বেশকিছু মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে স্পেনে। আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, নাগরিকদের সহায়তা করতে যেসব সেনাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তারা বৃদ্ধ নিবাসে গিয়ে বেশ কয়েকজনকে মৃত অবস্থায় পান। এমনকি সেখানে নিবাসের কোনো কর্মীও ছিলনা। এরপরই দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোবলস জানান, বয়স্কদের বাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে রাখার ব্যাপারে স্পেন সরকার কঠোর এবং অনমনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

এদিকে, উপচে পড়া রোগী নিয়ে বিপাকে স্পেনের হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-আইসিইউ-গুলোতে চালু হয়েছে নতুন নিয়ম। বয়স্ক রোগীদের চেয়ে কমবয়সীদের চিকিৎসার ওপরেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ তাঁদের বাঁচার সম্ভাবনা বেশি!

এই বিভাগের আরো খবর

সৌদি আরবে করোনায় মৃতদের অর্ধেকই বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের অন্যান্য দেশের...

বিস্তারিত
ব্রাজিলে করোনায় প্রতি মিনিটে ১ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও...

বিস্তারিত
করোনায় মৃত্যুতে দ্বিতীয়  যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  করোনা ভাইরাসে...

বিস্তারিত
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়ছে আক্রান্তর সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  পাঁচ দিন ধরে...

বিস্তারিত
ভারতে একদিনে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়া...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *