করোনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ৩৩ লাখ মানুষ

প্রকাশিত: ১১:২৫, ২৯ মার্চ ২০২০

আপডেট: ১১:২৫, ২৯ মার্চ ২০২০

আফিয়া জ্যোতি : করোনা ভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। চাকরি হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় চীন ও ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৩ ছাড়িয়েছে।

করোনার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে। বেকার হয়ে পড়ছেন লাখ লাখ মানুষ। করোনার প্রকোপ মোকাবিলায় লকডাউন করা হয়েছে দেশটির বিভিন্ন রাজ্য। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত। এতে চাকরি হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ। দেশটির শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৩৩ লাখ মানুষ সরকারের কাছে বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এখন বেকারত্বের সংখ্যা ৩.৩ মিলিয়ন বা ৩৩ লাখ। যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। 

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এখন বেশ নাজুক। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি এর চেয়েও খারাপ হতে পারে। কারণ, বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেমে গেছে। গাড়ি নির্মাতারা কাজ বন্ধ রেখেছেন, উড়োজাহাজ ভ্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

করোন ভাইরাস মহামারীর ফলে দেশটির অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রথম বাস্তব চিত্র এটি। কয়েক সপ্তাহ আগেও মাত্র ২ লাখ মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছিল। যা যুক্তরাষ্ট্রে গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বেকারত্বের হার ছিল। এর আগে কখনো এক সপ্তাহে ৭ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েনি। ১৯৮২ সালে একবার এক সপ্তাহে ৬ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ বেকার ভাতার আবেদন করেছিলেন। এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বেকারত্বের সংখ্যা। সেই রেকর্ড টপকে এবার তার পাঁচ গুণ বেশি মানুষ এই আবেদন করেছেন।

আগামীতে দেশটির শ্রমবাজার আরও শক্তিশালী হবে এমনটাই আশা ছিল অর্থনীতিবিদদের। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে পরিস্থিতি পুরো উল্টো হয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মার্কিন জনগণের এক পঞ্চমাংশ এখন লকডাউন পরিস্থিতিতে আছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে দেশটির সামগ্রিক অবস্থা ভিন্ন। খণ্ডকালীন এবং স্বল্প বেতন প্রাপ্ত শ্রমিকরা বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেন না। পাশাপাশি দিনমজুর,স্বতন্ত্র ঠিকাদার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এর আওতায় পড়েন না। এছাড়া বিভিন্ন জটিলতা ও লকডাউনের কারণে সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা ও অজ্ঞতার করণেও অনেকে আবেদন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সময় আরো খারাপ হতে পারে, আগামী সপ্তাহে আরো বেশি মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

এই বিভাগের আরো খবর

করোনায় মৃত্যুতে দ্বিতীয়  যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  করোনা ভাইরাসে...

বিস্তারিত
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়ছে আক্রান্তর সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  পাঁচ দিন ধরে...

বিস্তারিত
ভারতে একদিনে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়া...

বিস্তারিত
ব্রাজিলের পর পেরুতে মৃত্যুর রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী...

বিস্তারিত
আক্রান্তে ইতালিকে ছুঁতে চলেছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কোভিড-১৯ এর...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *