পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রুকে বিতাড়িত করুণ: বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: ১১:০০, ২৬ মার্চ ২০২০

আপডেট: ১১:৩৪, ২৬ মার্চ ২০২০

বিউটি সমাদ্দার: স্বাধীনতার সংগ্রাম, একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সাথে অবিচ্ছেদ্য নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নিজের বিরল ত্যাগী ও সৎ রাজনীতি দিয়ে হয়েছিলেন দেশের মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। এবছর স্বাধীনতার মাস মার্চ ফিরেছে বিশেষ উপলক্ষ্য নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এই মাসে। তাই এবার, একাত্তরের এই মাসে জাতির জনক শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলো নিয়ে বৈশাখী সংবাদের ধারাবহিক বিশেষ আয়োজন ‘যাঁর ডাকে স্বাধীনতা’। 

একাত্তরের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে গ্রেফতার হবার আগেই বাঙ্গালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। ২৫শে মার্চ রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা আহমেদ চৌধুরীরর কাছে পুলিশ ওয়ার্লেস বার্তায় বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু। পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যা ঢাকায় অব্যাহত থাকে ২৬শে মার্চ, এবং পড়ে বিস্তৃত হয় দেশজুড়ে। 

তার বার্তায় দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু বলেন, “পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমন করেছে এবং শহরের লোকদের হত্যা করছে। ঢাকা, চট্টগ্রামের রাস্তায় যুদ্ধ চলছে। আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারের সাহায্য চান। কোন আপোষ নাই, জয় আমাদের, পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রæকে বিতাড়িত করুণ। সকল আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতা প্রিয় লোকদের এ সংবাদ পৌছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।”

২৬শে মার্চ দুপুর পৌনে দুইটায় পাঁচ মিনিটের জন্য স¤প্রচারে আসে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তা পাঠ করেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হান্নান। 

পরবর্তিতে, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকেই বার বার প্রচারিত হতে থাকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা। সেই আহŸানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বস্তরের মানুষ। এর দু’সপ্তাহের মধ্যেই ১৭ই এপ্রিল কুষ্টিয়ার মুজিব নগরের আম্রকাননে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে বাংলাদেশের প্রথম প্রবাসী সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস পাকিস্তানের করাচি কারাগারে আটক ছিলেন শেখ মুজিব। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কয়েকদফা তাঁকে মেরে ফেলার প্রস্তুতি নিলেও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তিতে ১৯৭২ সালের ৮ই জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু। সেখান থেকে লন্ডন ও পরে দিল্লী হয়ে দেশে ফিরেন শেখ মুজিব। লন্ডনের এক সংবাদ সম্মেলনে, দেশকে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়কে সহযোগিতার আহŸান জানান তিনি।

১০ই জানুয়ারি স্বাধীন বাংলার মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এই বিভাগের আরো খবর

জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছা জানিতে হয়- বঙ্গবন্ধু    

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
‘বঙ্গবন্ধু কখনও কাউকে আদেশ দিতেন না’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *