ভ্যাকসিন উৎপাদনের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র 

প্রকাশিত: ০৯:২৯, ২৬ মার্চ ২০২০

আপডেট: ১১:৪৩, ২৬ মার্চ ২০২০

ফারুক হোসাইন: গত সপ্তাহে একজন স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রথম করোনা ভাইরাসে নতুন প্রতিষেধক প্রয়োগ করেছে এর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না থেরাপিউটিক। এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা এ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একই সাথে লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে প্রস্তুত প্রতিষ্ঠানটি। গবেষকেরা জানান, পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় একবছর সময় লেগে যাবে। মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে এতথ্য জানানো হয়।  

চিকিৎসকদের নির্দেশে ম্যাসাচুসেটসের নরওডে মডার্না থেরাপিউটিক ম্যানুফেকচারিং ফেসিলিটিতে প্রতিষেধক নিয়ে কাজ করছেন গবেষকেরা। সংস্থাটির প্রধান ডক্টর স্টিফেন হগ বাড়িতে বসেই চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষণা। কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষেধকের প্রথম প্রয়োগের ফলাফল সফল হলে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হবে উৎপাদন।

 প্রতিষেধকটি প্রথমে ৪৫ জন সুস্থ্য স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রয়োগ করা হবে, যারা এখনো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। এই দলটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করবেন গবেষকেরা। প্রথম প্রয়োগ সফল হলে এদের শরীরে পর পর আরো তিনটি শক্তিশালী প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হবে। এদের মধ্যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দিলে, পরীক্ষার সফলতা পরীক্ষার জন্য গবেষকেরা আরো কয়েকশ’ সুস্থ্য স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে তা প্রয়োগ করবেন। 

প্রথম ধাপে মডার্না ভ্যাকসিনের কয়েকশ’ নমুনা জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠাবেন। পরে, এগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য পুরো যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা হবে। এরপর কয়েক ধাপে এগুলো ব্যবহার করা হবে। 

প্রতিষেধকটি নিরাপদ ও সফল প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করবে বলে জানান হগ। তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক লক্ষ প্রতিষেধক উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত তারা। 

তিনি বলেন, এটা  সম্ভব হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অপ্রচলিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রতিষেধক উদ্ভাবন করায়। প্রতিষেধকটি উদ্ভাবনের ক্ষেক্রে মডার্না এমআরএনএ, বা ভাইরাসটির একটি জিনোম ব্যবহার করেছে। এটা যখন কারো শরীরে প্রয়োগ করা হয়, তখন তা শরীরের ক্ষতিকারক নির্দিষ্ট কোষকে চিহ্নিত করে এবং তা ধ্বংস করে। প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে কোন প্রতিষেধক তৈরিতে একাধিক ভাইরাস নিয়ে কাজ করা হয়, এক্ষেত্রে শুধু একটি মাত্র ভাইরাস নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এরফলে, সময় কম লেগেছে।

চীনের গবেষকেরা জানুয়ারীর মাঝামাঝি করোনা ভাইরাসের জেনেটিক সিকুয়েন্স প্রকাশ করে। মডার্না ফেব্র“য়ারীর ৭ তারিখে এর প্রতিষেধক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করে ফেলে। ফেব্র“য়ারীর শেষ সপ্তাহে কাজ শেষ করে জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। এরপর সংস্থা দু’টি খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের কাছে এর প্রয়োগের জন্য অনুমতি চায়।  

হগ আশাবাদি যে, তার দল খুব কম সময়ের মধ্যে প্রতিষেধকটি তৈরি করতে পেরেছে, যা বহু মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করবে। তিনি জানান, জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অ্যালার্জি ও সংক্রামক রোগ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডক্টর অ্যান্থনি ফসি ঘোষণা দেন, তিন মাসের মধ্যে প্রতিষেধক তৈরি করার। মডার্না ৬৩ দিনের মাথায় এর প্রতিষেধক উদ্ভাবনে সফল হয়েছে। 

হগ বলেন, আমরা এর সফল প্রয়োগ ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রেকর্ড করেছি। যা নিরাপদ ও কার্যকরী। আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এর সফল প্রয়োগের মাধ্যমে কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারবো।   

ফসি জানান, প্রতিষেধকটি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করতে এখনো কয়েক মাস সময় লাগবে। এর সফলতা পেতে আরো ১২ থেকে ১৮ মাস সময় অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু এই সময়ের প্রত্যেকটা সপ্তাহ, প্রত্যেকটা দিন এমনকি প্রত্যেকটা মিনিট আমরা গুনছি, বললেন হগ। প্রথম থেকেই এটা ছিলো একটি প্রতিযোগিতা, ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটি দৌড়ের প্রতিযোগিতা। গত কয়েকমাসের গবেষণায় আমরা যা জেনেছি তা আগামীতে আমাদের কাজে লাগবে।

এই বিভাগের আরো খবর

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়ছে আক্রান্তর সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  পাঁচ দিন ধরে...

বিস্তারিত
ভারতে একদিনে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়া...

বিস্তারিত
ব্রাজিলের পর পেরুতে মৃত্যুর রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী...

বিস্তারিত
কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় চার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অভিযুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায়...

বিস্তারিত
আক্রান্তে ইতালিকে ছুঁতে চলেছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কোভিড-১৯ এর...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *