আজ সেই ভয়াল ২৫শে মার্চ

প্রকাশিত: ১১:০০, ২৫ মার্চ ২০২০

আপডেট: ০১:১৭, ২৫ মার্চ ২০২০

কাজী বাপ্পা: স্বাধীনতার সংগ্রাম, একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সাথে অবিচ্ছেদ্য নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নিজের বিরল ত্যাগী ও সৎ রাজনীতি দিয়ে হয়েছিলেন দেশের মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। এবছর স্বাধীনতার মাস মার্চ ফিরেছে বিশেষ উপলক্ষ্য নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এই মাসে। তাই এবার, একাত্তরের এই মাসে জাতির জনক শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলো নিয়ে বৈশাখী সংবাদের ধারাবহিক বিশেষ আয়োজন ‘যাঁর নামে স্বাধীনতা। 

একাত্তরের ২৫শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা রুখতে পূর্ব বাংলায় বাঙ্গালি নিধনের বর্বরতম অস্ত্র ব্যবহার শুরু করে পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক শাসক গোষ্ঠী। এদিন রাতে ঘুমন্ত বাঙালিকে হত্যার নীল নকশা বাস্তবায়ন শুরু করে।  

অথচ ২৫শে মার্চ সকালে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা থাকলেও করেনি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান। বিকেলে বিক্ষুব্ধ জনতা সমবেত হয় বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর বাসভবনের সামনে। শেখ মুজিব বলেন, “আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি ও রাজনৈতিক সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছি।” এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ২৭শে মার্চ দেশব্যাপি ধর্মঘটের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু। (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক/ একাত্তরের দশ মাস, রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী/ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জীবন ও রাজনীতি) 
 
২৫শে মার্চ সন্ধ্যায় গোপনে ঢাকা ছেড়ে করাচি যান প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। উত্তেজনা ছড়ায় ঢাকা নগরে। নানা আশংকার খবরে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে প্রতিরোধ গড়ে তোলে ছাত্র জনতা। 

রাত সাড়ে আটটা নাগাদ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্র করে প্রথম হামলা চালায় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। হত্যা করা হয় কয়েক হাজার পুলিশকে। 

পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নৃশংশ হত্যাযজ্ঞ চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ, রোকেয়া ও শামসুন্নাহার হলে। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে জগন্নাথ হলের মাঠে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মারে । 

রাত সাড়ে বারোটার দিকে একদল পাকিস্তানি সেনা হামলা চালায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে। গ্রেফতার করে বাঙ্গালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে। দেশ স্বাধীনের পর আমেরিকার সাংবাদিক রবার্ট ফ্রস্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কালরাতের বর্ণনা দেন এভাবে, “ওরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে উপরে উঠে এলো। বেরিয়ে গেলেন তিনি ওদের সামনে। পরে শুনেছি সৈন্যরা সেসময় তাঁকে হত্যা করে ফেলত যদি না কর্ণেল হাত দিয়ে আড়াল করতো।” (সূত্রঃ দৈনিক সংবাদ)

একাত্তরের পঁচিশে মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামের সেই গণহত্যা কার্যক্রমে ঠিক কত লাখ নিরস্ত্র বাঙ্গালি নিহত হয়েছিল তার কোন সঠিক তালিকা আজ অবধি হয়নি। বিদেশি সাংবাদিকদের ২৫শে মার্চ অভিযানের আগেই দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লুকিয়ে থাকা তিন বিদেশি সাংবাদিক আর্নল্ড জেটলিন, মাইকেল লরেন্ট এবং সাইমন ড্রিংয়ের সাহসী প্রতিবেদন থেকে সে রাতের ভয়াবহ নৃশংসতা সম্পর্কে প্রথম জানে বিশ্ব।

এই বিভাগের আরো খবর

‘বঙ্গবন্ধু কখনই কোন বিষয়ে আপোষ করেননি’

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত
পশ্চিম পাকিস্তান সফর সফল হয়েছে: বঙ্গবন্ধু

কাজী বাপ্পা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
তারুণ্যে ফুটবলার ছিলেন বঙ্গবন্ধু 

বিউটি সমাদ্দার: সব ভেদাভেদ ভুলে দেশের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *