অন্তঃসত্ত্বা নারীর করোনার ঝুঁকি কতটুকু?

প্রকাশিত: ১১:৫৩, ১১ মার্চ ২০২০

আপডেট: ১১:৫৩, ১১ মার্চ ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের শতাধিক দেশে ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। সম্প্রতি বাংলাদেশেও তিনজন করোনা ভাইরাস আক্রান্তকে শনাক্ত করেছে আইইডিসিআর। স্বাভাবিকভাবেই ভাইরাসটি এখন দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে। আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

প্রশ্ন জাগতে পারে অন্তঃসত্ত্বা নারী বা যারা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি কেমন? বা গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হতে পারে কি না? আক্রান্ত মা কি বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন? এমন আরো অনেক প্রশ্ন উঠতেই পারে আপনার মনে।

করোনাভাইরাস হচ্ছে নতুন ধরণের একটি ভাইরাস। সম্প্রতি ভাইরাসটি ‘কোভিড-১৯’ নামকরণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নতুন প্রকৃতির হওয়ায় কোভিড-১৯ নিয়ে এখনও তেমন কোন গবেষণা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তেমন তথ্যউপাত্ত নেই।

গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিকভাবেই গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে এসে শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে অনেকের। তাই এই সময়ে যেকোন ফ্লু বা অন্য কোনো সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। আর করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত হলে সাধারণ মানুষের তুলনায় শ্বাসকষ্ট বেশি হতে পারে। তাই সময় যেকোনো ধরনের কাশিজ্বর হলে শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে পরবর্তী ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা বা অন্য ধরনের করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য গর্ভপাত, শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া, জন্মগত ত্রুটি হওয়া বা উচ্চ তাপমাত্রার জ্বরের জন্য গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি, এমনকি মৃত্যু হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের কাশি-জ্বর হলে শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে পরবর্তী ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।

একই সাথে এখন পর্যন্ত বুকের দুধেও করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তাই আক্রান্ত মা নিশ্চিন্তে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করে খাওয়াতে হবে। যেহেতু ভাইরাসটি ছোঁয়াচে এবং ফ্লোর মাধ্যমে ছড়ায়। হাত ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে মুখে মাস্ক পরতে হবে খাওয়ানোর সময়।

করোনা ভাইরাস নিয়ে এখনো খুব বেশি গবেষণা না হওয়ায় বলা শক্ত অন্তঃসত্ত্বা মায়ের থেকে সন্তানের করোনা ভাইরাস হয় কিনা। তবে সংখ্যায় যথেষ্ট না হলেও গবেষণায় এসেছে যে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত কোনো মায়ের কাছ থেকে কোনো নবজাতক জন্মগত সংক্রমণ নিয়ে জন্মায়নি এখনো। গর্ভস্থ পানি বা বুকের দুধেও এর (করোনা) উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

সতর্কতায় যা করবেন:

দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোভিড১৯ মৃদু ধরনের সংক্রমণ করছে। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে, আগে থেকেই কোন রোগ আছে এমন মানুষ এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। করোনা ভাইরাসের কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। ফলে সচেতনতা আর ব্যক্তিগত সমষ্টিগত পরিচ্ছন্নতাবোধ বা হাইজিন সেন্সই এই সংকট ঠেকানোর একমাত্র উপায়। অন্তঃসত্ত্বাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেহেতু নাজুক, তাই তাঁদের সচেতনতা বেশি দরকার। যতটা সম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। মার্কেট, মেলা, বিয়েবাড়ি গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন। খুব প্রয়োজন না হলে ভ্রমণ করবেন না। অসুস্থ ব্যক্তির কাছে যাবেন না। বার বার হাত পরিষ্কার করুন। পশুপাখি বা কাঁচা মাছ, মাংস ধরবেন না বা ধরলেও দ্রুত সাবানপানি দিয়ে হাত ধুঁয়ে ফেলুন।

এই বিভাগের আরো খবর

করোনার পরীক্ষা কোথায়, কিভাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে...

বিস্তারিত
করোনায় মৃতব্যক্তির দাফন যেকোন স্থানে করা যাবে

অনলাইন ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত...

বিস্তারিত
দেশে করোনা সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার আশংকা

শাহনাজ ইয়াসমিন: প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা...

বিস্তারিত
কেমন কাটলো ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঈদ!

আশিক মাহমুদ: রোগীদের সেবা আর ল্যাবে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *