সম্পদের পাহাড় পাপিয়ার, হোটেল বিল কোটি টাকা! 

প্রকাশিত: ১০:৪৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আপডেট: ১০:৫৯, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া সদ্য বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার রাজধানী ও নরসিংদীতে বাড়ি-গাড়িসহ নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে নারীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করা অর্থ আয়ের অন্যতম মাধ্যম ছিল তার। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জানিয়েছে, অবৈধ পন্থায় বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক হন পাপিয়া। পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী নরসিংদী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, জমির দালালি, সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স দেয়া ও গ্যাসলাইনের সংযোগ দেয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। 

আজ (রোববার) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, রাজধানীর ফার্মগেটের ২৮ ইন্দিরা রোডে দু’টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও ব্যক্তিগত গাড়ি, নরসিংদী শহরে দুটি ফ্ল্যাট এবং বাগদী এলাকায় দুই কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লটও রয়েছে তার।

গতকাল শনিবার গ্রেপ্তারের পর ওইদিন রাতেই নরসিংদীর বাসায় এবং আজ রোববার ভোরে রাজধানীর একটি অভিহজাত হোটেলে তাদের নামে বুকিং করা বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে অভিযান চালানো হয়। এছাড়া ফার্মগেট এলাকার ২৮নং ইন্দিরা রোডে অবস্থিত ‘রওশন’স ডমিনো রিলিভো’ নামক বিলাসবহুল ভবনে তাদের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব।

এসময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি পিস্তলের ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়।

লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া-সুমন দম্পতির বর্তমান সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে। সুনির্দিষ্ট পেশা না থাকা সত্ত্বেও তারা স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পত্তি ও অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। 

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের নামে-বেনামে অনেক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত আছে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। এছাড়া তেজগাঁও এফডিসি গেটসংলগ্ন এলাকায় অংশীদারিত্বে তাদের ‘কার একচেঞ্জ’ নামক গাড়ির শোরুমে প্রায় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে এবং নরসিংদী জেলায় ‘কেএমসি কার ওয়াস অ্যান্ড অটো সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ আছে।

লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধিকাংশ সময় তাদের রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করতে দেখা যায়। সবশেষ গত বছরের ১২ অক্টোবর থেকে এবছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৫৯ দিন একটি অভিজাত হোটেলের কয়েকটি বিলাসবহুল কক্ষে অবস্থান করেন এবং আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রায় কোটি টাকার বিল পরিশোধ করেন। তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রকৃত উৎস জানতে চাওয়া হলে পাপিয়া-সুমন দম্পতি সন্তোষজনক কোনা তথ্য দিতে পারেননি।

র‌্যাব জানিয়েছে, ‘এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে রেলওয়ে ও পুলিশে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১১ লাখ টাকা, একটি কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা, একটি সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ২৯ লাখ টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বাইরে নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছে তারা।

র‌্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, পাপিয়ার আয়ের আরেকটি অন্যতম উৎস নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করানো। ঢাকার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে কম বয়সী মেয়েদের দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো। যাদের অধিকাংশকেই নরসিংদী এলাকা থেকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় আনা হয়েছিল। অনৈতিক কাজে বাধ্য না হলে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন। পাপিয়ার জব্দ মোবাইল ফোন থেকে অশ্লীল ভিডিও মিলেছে। 

পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন নরসিংদী এলাকায় একটি ক্যাডার বাহিনী পরিচালনা করতো। যাদের মাধ্যমে তারা নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাসোহারা আদায়, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। তাদের এই ক্যাডার বাহিনীর অনেকের নাম ইতোমধ্যে জানা গেছে, যাদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে। 

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক আরও বলেন, পাপিয়ার এসব অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে সিআইডি কাজ করবে। ইতোমধ্যে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনসহ গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে জাল মুদ্রা রাখা, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অস্ত্র আইনে মামলা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে যাদেরই জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ মিলবে তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় শামিমা নূর পাপিয়াসহ চারজনকে আটক করে র‌্যাব-১।

এই বিভাগের আরো খবর

আরো দুই করোনা রোগী শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদশে আরো দুই জন...

বিস্তারিত
সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা সংকট...

বিস্তারিত
ঢাকা ছাড়লেন ২৬৯ মার্কিন নাগরিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোণা সংক্রমণের...

বিস্তারিত
যানবাহন ও মানুষের চলাচল বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাইণঘাতি করোনা...

বিস্তারিত
রাজধানীতে বেড়েছে মানুষের চলাচল

মাবুদ আজমী: সরকারি নির্দেশনা অমান্য...

বিস্তারিত
তিনদিনে করোনা শনাক্ত আরও একজন

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে গত তিনদিনে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *