নদীরক্ষায় হাইকোর্টের সেই রায় ‘নিম্নমানের’: আপিল বিভাগ

প্রকাশিত: ০৩:৩৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৮:৩৪, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: নদীর দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সংক্রান্ত (নদী রক্ষায়) হাইকোর্টের একটি রায়কে ‘নিম্নমানের রায়’ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। আজ (সোমবার) নদী রক্ষা নিয়ে একটি মামলায় হাইকোর্টের রায় প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন।

এ সময় নদী রক্ষায় হাইকোর্টের ওই রায়ের অনেকগুলো দিক অসঙ্গতিপূর্ণ উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি রায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মনজিল মোরসেদকে ডেকে এনে তার সামনে হাইকোর্টের একটি রায় পড়ে শোনান আপিল বিভাগ। যেখানে নদী রক্ষায় সরকারকে ১৭টি নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।

এ সময় আপিল বিভাগ প্রশ্ন করেন, ‘নির্বাহী বিভাগকে কীভাবে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের কিছু কিছু মামলার রায় রীতিমত বিস্ময়কর।’আপিল বিভাগ বলেন, আদালত সরকারকে আইন করতে নির্দেশ দিতে পারে না, পরামর্শ দিতে পারেন। এছাড়া ওই রায়ে অনেক নির্দেশনা আছে, যা মানা সম্ভব নয়। যে রায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় হাইকোর্ট এমন রায় দিতে পারেন না। রায়টি পর্যালোচনা করে আদেশ দেয়ার কথা জানায় আপিল বিভাগ।

নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা দিয়ে হাইকোর্টের সেই রায়

এর আগে নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা দিয়ে নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে ১৭ দফা নির্দেশনা দিয়ে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায়টি দিয়েছিলেন। গত বছর ১লা জুলাই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

ওই রায়ে আদালত জানান, মানুষের জীবন-জীবিকা নদীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানবজাতি টিকে থাকার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নদী। নাব্য সঙ্কট ও বেদখলের হাত থেকে নদী রক্ষা করা না গেলে বাংলাদেশ তথা মানবজাতি সংকটে পড়তে বাধ্য। নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সরকার আইন প্রণয়ন করে নদীকে বেদখলের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে। নদী রক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে জাগরণ শুরু হয়েছে। এখন সবারই ভাবনা-পরিবেশের জন্য নদী রক্ষা করতে হবে।

একইসঙ্গে আদালত তার রায়ে তুরাগ নদকে ‘লিগ্যাল পারসন’ ঘোষণা করে বলেন, অবৈধ দখলদাররা প্রতিনিয়তই কমবেশি নদী দখল করছে। অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় সংকুচিত হয়ে পড়ছে নদী। এসব বিষয় বিবেচনা করে তুরাগ নদকে লিগ্যাল/জুরিসটিক পারসন (আইনগত ব্যক্তি) হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

নদী রক্ষায় বিভিন্ন দেশের আদালতের দেয়া রায়ের উদাহরণ দিয়ে হাইকোর্ট বলেন, আমাদের দেশের সব নদীকে রক্ষা করার সময় এসেছে। যদি তা না করতে পারি তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, ঢাকার চারপাশে বহমান চার নদী রক্ষায় এর আগে আদালত থেকে কোনও নির্দেশনা দেয়া না হলে এত দিনে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর হয়তো বহুতল ভবন দেখা যেত। অথবা তুরাগ নদে অবৈধ দখলদারদের হাউজিং এস্টেট থাকত। তবে এত রায় ও নির্দেশনার পরও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নে বিবাদীরা কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। আদালতের নির্দেশনা সঠিকভাবে প্রতিপালন হলে তুরাগ নদ রক্ষায় হাইকোর্টে আরেকটি মামলা করতে হতো না।

আদালত বলেন, শুধু যে তুরাগ নদই আক্রান্ত তা নয়; গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনাসহ দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৪৫০টি নদ-নদীও অবৈধ দখলদারদের দ্বারা আক্রান্ত। এখন এসব নদী রক্ষায় আমরা (আদালত) কি হাজারখানেক মামলা করার ব্যাপারে উৎসাহ/অনুমতি দেব? নাকি অবৈধ দখলের হাত থেকে সব নদী রক্ষায় এই মামলা ধরে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেব? যে নির্দেশনার আলোকে নদী দখলমুক্ত করার মামলা আর আদালতের সামনে আসবে না।
 

এই বিভাগের আরো খবর

মানবিক আচরণ করুন: আইজিপি

অনলাইন ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের...

বিস্তারিত
হোটেল-রেস্টুরেন্ট খোলা থাকবে: ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদ: করোনা মোকাবেলায়...

বিস্তারিত
টেকনাফে ৪ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

কক্সবাজার সংবাদদাতা: কক্সবাজারের...

বিস্তারিত
যশোরের সেই এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার

যশোর সংবাদদাতা: যশোরের মনিরামপুরে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *