বিমান ছিনতাই চেষ্টা রহস্য উন্মোচিত

প্রকাশিত: ১২:৩০, ২৬ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০১:১৭, ২৬ জানুয়ারি ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: প্রায় এক বছর পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজময়ূরপঙ্খীছিনতাই চেষ্টা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ছিনতাই চেষ্টার মূল নায়ক ছিল সেনাবাহিনীর কমান্ডো অপারেশনে নিহত পলাশ আহমেদ। সাবেক স্ত্রী চিত্রনায়িকা শামসুন নাহার সিমলার সাথে বিবাহ বিচ্ছদের পর হতাশা থেকেই তিনি এই ছিনতাই নাটক করেন।

ঢাকা থেকে দুবাইগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজ “ময়ূরপঙ্খী মাঝ আকাশে ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে নিহত পলাশ ছাড়া আর কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া জানান, মূলত ভয়-ভীতি দেখিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বিমানেঅস্ত্র বোমাকাণ্ড ঘটান নিহত পলাশ আহমেদ। তদন্তে মোট ৭৯ জনের সাক্ষ্য বিভিন্ন আলামত পরীক্ষার পর পলাশ একাই এই ছিনতাইকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলায় একাধিকজনকে আসামি করা হলেও অন্য কারও সম্পৃক্ততা না মেলায় এবং কমান্ডো অভিযানে পলাশ আহমেদ নিহত হওয়ায় এই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

২০১৮ সালের মার্চ চিত্রনায়িকা সিমলার সঙ্গে পলাশের বিয়ে হয়। পলাশ আগের বিয়ের খবর গোপন করায় ওই বছরের নভেম্বর সিমলা পলাশকে ডিভোর্স দেন। সিমলার সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদের পরেইহতাশাথেকে বিমানছিনতাইয়েরচেষ্টা করেছিলেন পলাশ আহমেদ। ঘটনার দিন উড়োজাহাজময়ূরপঙ্খীচট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণের পর পলাশ সিমলার সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে ওই সময় কমান্ডো অভিযানে থাকা বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। পরে মিনিটের এক কমান্ডো অভিযানে পলাশ আহমেদ নিহত হন। ওই সময় বিমান থেকে একটি খেলনা পিস্তল কিছু বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বিমান ছিনতাই মামলায় মোট ৭৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে বিমানযাত্রী ২২ জন, বিমানের পাইলট কেবিন ক্রু জন, নিহত পলাশের আত্মীয় স্বজন ভাই বন্ধু ১৯ জন, অভিযানে অংশ নেওয়া আইন-শৃঙখলা বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ২৬ জন এবং অন্যান্য জন। মামলায় মোট ৭৯ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শাহজালাল আর্ন্তাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫টা ১৩ মিনিটে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের বিমান বিজি-১৪৭ উড্ডয়নের ১৫ মিনিট পর পলাশ আহমেদ বোমাসদৃশ বস্তু অস্ত্র দেখিয়ে বিমানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। ৫টা ৪১ মিনিটে বিমানটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্লেনেরইমারজেন্সি ডোরদিয়ে যাত্রী কেবিন ক্রুদের দ্রুত বের করে আনা হয়। পরে যৌথবাহিনীর প্যারা কমান্ডো টিমের অভিযানে মারা যান পলাশ আহমেদ।

ঘটনায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন বিভাগের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। যাতে পলাশ আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

চলছে ঢাকা বারের ভোট গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা আইনজীবী...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *