৮৮’র ২৪ জানুয়ারি যা ঘটেছিলো লালদীঘিতে

প্রকাশিত: ০৫:১৭, ২০ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৫:১৯, ২০ জানুয়ারি ২০২০

মহসিন চৌধুরী: ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি যখন সারাদেশ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে উত্তালতখনই চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলীয়জোটের বিশাল জনসমুদ্রে যোগ দিতে এসেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাস্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পুলিশ বাহিনী জনসভায় নিরীহ মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করে

ওই ঘটনায় শত শত মানুষ আহত হনসেসময়ের পুলিশ কমিশনার রকিবুল হুদা নির্দেশে সেদিন শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনিএ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছিলেন অ্যাডভোকেট শহিদুল হুদাতার জীবদ্দশায় এ মামলার রায় দেখে যেতে পারেননিতবে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রপক্ষের গাফিলতি ও সাক্ষীদের অসহযোগিতার কারণে ৩১ বছরেও এ মর্মান্তিক ঘটনা বিচার সম্পন্ন হয়নি

মামলাটির মোট ৮ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি তৎকালিন চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদাসহ তিনজন মারা গেছেনঅন্য দুজন হলেন পুলিশ কর্মকর্তা আবদুস সালাম ও বশির উদ্দিনবাকিরা হলেন ইনস্পেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল, কনস্টেবল মুশফিকুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, মমতাজ উদ্দিন ও মো. আবদুল্লাহ

মামলায় উল্লেখ করা প্রধান আসামি মির্জা রকিবুল হুদা মারা যাওয়ার কথঅ উল্লেখ থাকলেও মূলত তিনি আমেরিকায় পালিয়ে যানতার এ মারা যাওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হলেও হাই প্রোফাইলে আসামি সত্যিই দেশের বাইরে মারা গেছেন কিনা তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাচাই করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল

বিচারকাজ চলার এক পর্যায়ে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে ২০০৭ সালে আসামি হুদা স্বপরিবারে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় পালিয়ে যান এবং সেখানেই তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন বলে আদালতে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে

ঐদিন ঘটনা সম্পর্কে মামলার কার্যক্রমে উল্লেখ করা হয় শেখ হাসিনার উপর গুলি করার সময় এক পুলিশ রাইফেলের কানেকশন বেল্ট খুলে ফেলায় তিনি বেঁচে যানএসময় আইনজীবীরা শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে আইনজীবী সমিতি অফিসে নিয়ে রক্ষা করেননৃশংসতার ৩১ বছর পর নিহতদের স্বজনরা বিচার পাননানা অজুহাতে তৎকালীন সরকারগুলো বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতি করে ফেলেএতে স্বজনরা বিচার পাননি

১৯৯৬ সালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কর্মকর্তা কাদের খান আদালতে চার্জশিট দাখিল করার পর ২০০০ সালের মে মাসে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেম) করা হয়১৬৮ জনের মধ্যে ৪১ জন সাক্ষী  আদালতে সাক্ষ্য দেন

অপরদিকে চট্টগ্রাম গণহত্যায় নিহত শহীদদের স্মরণে নগরীর কোর্ট বিল্ডিংয়ের পাদদেশে নির্মাণ করা হয়েছিল স্মৃতিফলকবছরের একটি দিন শহীদদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানালেও বাকি সময় আর কেউ খবর রাখে না তাদেরপ্রতিবছর গণহত্যা দিবসে স্মৃতিস্তম্ভটির উন্নয়নের জন্য এবং একটি পুর্ণাঙ্গ স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ করার দাবি জানানো হলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি

সাংবাদিক নিরুপম দাশগুপ্ত ঐতিহাসিক ২৪ জানুয়ারি গণহত্যা নিয়ে এক বইতে লিখেছেন , শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলির ঘটনা সেদিনের আন্দোলনে বারুদ ঢেলেছিলএই গণহত্যার ৩০ বছর পর একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির উদ্যোগ মাত্র ২০ লাখ টাকার অভাবে অনিশ্চয়তায় পড়া খুবই দুঃখজনক

প্রসঙ্গত১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘির ময়দানে জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তৎকালীন ১৫ দলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহর ও জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে পুলিশবৃষ্টির মতো এলোপাতাড়ি গুলিতে সেদিন শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় নেতারা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও প্রাণ হারান ২৪ জন ছাত্র, শ্রমিক ও পেশাজীবীআহত হয় আরও প্রায় তিন শতাধিক

পুলিশের গুলিতে যারা নিহত হয়েছিলেন: মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন কুমার বিশ্বাস, স্বপন চৌধুরী, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ, শাহাদাত, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া ও মো. কাসেম

৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী মো. শহীদুল হুদা বাদী হয়ে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার কাজী রকিবুল হুদা এবং কোতোয়ালি জোনের পুলিশ পরিদর্শক (পিআই) গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলসহ মোট ৪৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেনএ দিনটিকে চট্টগ্রাম গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়

ঐতিহাসিক ২৪ জানুয়ারি গণহত্যা দিবস পালনকালে পরবর্তীতেও হামলার মুখে পড়েন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা১৯৯২ সালে লালদীঘির মাঠে গণহত্যা দিবসের জনসভায় আবারো সশস্ত্র হামলা হয়ওই দিন ও তিনি প্রাণে বেঁচে যানএর আগে গণহত্যা দিবস এর জনসভার স্বৈরাচারী সরকার নানাভাবে বাধা দেয়

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলাটি পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়আদালতের আদেশে মামলাটির তদন্তের ভার পড়ে সিআইডির ওপরসিআইডি ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আদালতেআবারও আদালতের নির্দেশে অধিকতর তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর পুলিশের আট সদস্যকে আসামি করে দ্বিতীয় দফায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়

এই বিভাগের আরো খবর

সাহেদের অস্ত্র মামলার রায় ২৮ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রিজেন্ট গ্রুপ ও...

বিস্তারিত
হলুদ সাংবাদিকতায় লিপ্ত ডেইলি স্টার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভিত্তিহীন, বানোয়াট...

বিস্তারিত
আগামি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন; বিএনপিকে কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্দোলনের হুমকি না...

বিস্তারিত
খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়লো আরো ৬ মাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারপারসন...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *