চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের বাড়ি কেমন হবে

প্রকাশিত: ০৫:৩৮, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৫:৩৮, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

ফারহীন ইসলাম টুম্পা: পৃথিবীর বাইরে গিয়ে গ্রহে বসবাসের ইচ্ছা নিয়ে গবেষণা কম হয়নি। সম্প্রতি চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে ঘরবাড়ী বানানোর প্রস্তুতি শুরুর ঘোষণা দিলেন বিজ্ঞানীরা। নাসা জানায়, গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, চাঁদ আর মঙ্গলে নতুন বসতির ঘরবাড়িতে মানুষ ছাড়াও থাকবে অন্য জীব। থাকবে নানা ধরনের অণুজীব। তবে সেসব বাড়িঘর ইট-সিমেন্ট-বালি দিয়ে তৈরি হবে না, সেসব ঘরবাড়ি বানানো হবে ছত্রাক দিয়ে, মূলত ছত্রাকের যে অংশটিকে মাটির নীচে থাকে, সেই মাইসেলিয়া দিয়ে।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারে  মাইকো আর্কিটেকচার প্রজেক্টের প্রধান বিজ্ঞানী লিন রথ্সচাইল্ড জানান, এসব অনুজীব বাঁচার প্রয়োজনে সৌরশক্তি শুষে নেয়। আর তা দিয়ে পানি ও বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসকে বদলে দেয় অক্সিজেনে। এভাবেই বায়ুমন্ডলহীন চাঁদ আর মঙ্গলে নিঃশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের যোগান আসবে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তিনি জানান, পানি ও বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসকে ভেঙে সেই অণুজীবরা বানাতে পারে আরও কিছু পদার্থ। যা খেয়েদেয়ে তারা বেঁচে থাকতে পারবে। তাই এদের সায়ানোব্যাকটেরিয়াও বলা হয়।

এই প্রজেক্টের অন্যতম বিজ্ঞানী নাসার পাথফাইন্ডার মিশনের সদস্য অমিতাভ ঘোষ জানান, সভ্যতার ওই নতুন বসতি বানাতে তাদের গবেষণা একেবারেই অভিনব পথে এগুচ্ছে। এর আগে চাঁদে, মঙ্গলে বসতি বানানোর কথা অন্যভাবে ভাবা হয়েছিল। যা ছিল অনেকটা কচ্ছপের মতো। কচ্ছপ যেমন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পিঠে করে নিয়ে যায় তার আস্তানা। এতোদিন বসতি গড়ার গবেষণা চলছিল ঠিক সেভাবেই। কিন্তু সেটা ছিল অনেক বেশি ব্যয়বহুল আর অনেকটাই অসম্ভব। কেননা সেই ভারী বসতিকে পিঠে চাপিয়ে চাঁদ বা মঙ্গলে পৌঁছানোর জন্য এতো দূরত্ব পাড়ি দিতে হলে বিপুল পরিমাণে শক্তির প্রয়োজন। এতে জ্বালানির খরচ বৃদ্ধির সাথে সাথে আছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।

বিজ্ঞানী  রথসচাইল্ড বলেন, এবারো যেতে হবে কচ্ছপের মতোই। তবে ভারী আস্তানা বা বসতি তৈরির মালমশলা পিঠে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভার বইতে হবে না। তার পরিবর্তে নিয়ে যাওয়া হবে ছত্রাক। যা অসম্ভব হাল্কা। ছত্রাকের ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পৃথিবীর বাইরে যেতে সুদীর্ঘ পথ পেরোনোর সময় ছত্রাক মরে যাবে না, এমনকি নিস্তেজও হয়ে পড়বে না।   
গবেষণায় দেখা গেছে, মঙ্গলের অসম্ভব রুক্ষ পরিবেশে দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে ছত্রাক। এমনকি বেঁচে থাকতে পারে চাঁদেও। শুধু তাই নয় ছত্রাকের বেঁচে থাকার জন্য যা প্রয়োজন হয় না, সেই অক্সিজেন উৎপাদন সম্ভব হবে। আর বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস টেনে নেবে ছত্রাক। এছাড়া মানুষের জৈব বর্জ্য খেয়ে নিতে পারবে ছত্রাক বা সেখানে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলি। ফলে, চাঁদ বা মঙ্গলের পরিবেশ দূষিত হবার আশঙ্কাও থাকছে না।

রথ্সচাইল্ড জানান, ছত্রাকের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তার মাইসেলিয়া অংশটি। এই অংশটিই পরে মাশরুম তৈরি করে। ঠিক মতো তাপমাত্রা ও পরিবেশ পেলে তারা আরও বড়ো কাঠামো নির্মাণেও সক্ষম। চাঁদ বা মঙ্গলে তৈরি বাড়িগুলি দেখতে হবে একেবারে গম্বুজের মতো। বলা যায়, তার তিনটি তলা থাকবে। জমাট বাঁধা ওয়াটার আইস দিয়ে তৈরি গম্বুজের মাথাটা দেখা যাবে চাঁদ বা মঙ্গলের পিঠে। সেই ওয়াটার আইস অসম্ভব ক্ষতিকারক তীব্র  বিকিরণের হাত থেকে বসতিগুলিকে রক্ষা করবে। আর বরফগলা পানি নীচে গড়িয়ে পৌঁছে যাবে বসতির দ্বিতীয় তলায় থাকা ছত্রাক ও অণুজীবগুলির কাছে। যাতে সৌরশক্তি দিয়ে সেই পানিকে ভেঙ্গে তারা তাদের প্রয়োজনীয় খাবারের চাহিদা মেটাতে পারে। আবার মানুষের বেঁচে থাকার জন্য ছাড়তে পারে অক্সিজেনও। ওই পানির সাহায্যেই কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসকে ভেঙে দিতে পারবে। পারবে তারও নীচের তলায় থাকা ছত্রাকের মাইসেলিয়াকে টিকে থাকার রসদ জোগাতে।

এই বিভাগের আরো খবর

আজ টেক্সাসে আঘাত হানতে পারে ‘বেটা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের...

বিস্তারিত
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে...

বিস্তারিত
২ কোটি মেয়ের আর স্কুলে ফেরা হবে না: মালালা

অনলাইন ডেস্ক: মহামারি করোনাভাইরাসের...

বিস্তারিত
মহারাষ্ট্রে ভবন ধসে ১০ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের মহারাষ্ট্রে...

বিস্তারিত
টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় আঘাত হেনেছে ‘বেটা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের...

বিস্তারিত
বেলারুশে বিক্ষোভ, দুই শতাধিক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপের দেশ...

বিস্তারিত
হোয়াইট হাউসে পাঠানো চিঠিতে বিষ!

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের...

বিস্তারিত
আবারো ঝড়ের কবলে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিপর্যয় পিছু...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *