২৫ জানুয়ারি থেকে একমাস কোচিং বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশিত: ০২:৪২, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৯:২৪, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে এবং ২৫ জানুয়ারি থেকে এক মাস সব কোচিং বন্ধ থাকবে। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা.  দিপুমনি।

এবার ৯টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন। পরীক্ষার জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত সারাদেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা নকলমুক্ত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গতবারের মত এবারও যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়, সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থায় থাকবে মন্ত্রণালয় বলেও জানান মন্ত্রী।

কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার বিষয়ে দীপু মনি বলেন, বিদেশি বোর্ডের ও লেভেল-এ লেভেল, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং, বিসিএসসহ অনেক ধরনের কোচিং সেন্টার আছে, এগুলোর বাইরে আলাদা কোচিং হলে একেবারে বন্ধ করা অনেক সহজ হতো। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই ছাদের নিচে একই প্রতিষ্ঠানে নানা রকম কোচিং হয়।

কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠানের কারণে সব কোচিং বন্ধ রাখার কারণ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারা কোচিংয়ের চেহারার মধ্যে থেকে প্রশ্ন ফাঁস, নকল সরবরাহ এবং নানা রকম অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রমাণিত হওয়ার কারণে আমাদের এ পদক্ষেপ (সব কোচিং বন্ধ) নিতে হচ্ছে। সে কারণে বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কোচিং সিস্টেমকে পুরোপুরি নিয়মের মধ্যে আনলে হয়তো আগামী পাবলিক পরীক্ষা থেকে ভিন্ন কিছু দেখতে পাবো।

কোচিং বিধিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক বাইরে নিজের শিক্ষার্থীকে পড়াতে পারবে না জানিয়ে দীপু মনি বলেন, আমরা নীতিমালা হালনাগাদ করছি। এ বিষয়টি শিক্ষা আইনে যুক্ত করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, স্কুলে যেন পড়ালেখা ভালো হয় সেজন্য পড়ালেখা ও পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ, নিরানন্দ শিক্ষাজীবন, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, যুযোপযোগী কারিকুলাম করে মানসম্মত শিক্ষার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি। ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য তিনটি বিষয়ের পরিবর্তে আরও বৃদ্ধি করা হবে যাতে চাপ কমে আসে।

অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে দীপু মনি বলেন, কোনোভাবে কেউ যেন প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে কান না দেন। কিছু কিছু প্রতারক চক্র বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব রচনা করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা আদায় করবার চেষ্টা করে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, বিটিআরসিসহ অন্যান্য সংস্থা তীক্ষ্ম নজরদারি করছে। যেকোনো প্রতারক চক্রকে ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করবো।

সভায় দিপুমনি জানান, ‘৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। তার মধ্যে ১০ লাখ ২২ হাজার ৩৩৬ জন ছাত্র ও ১০ লাখ ২৩ হাজার ৪১৬ জন ছাত্রী। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে মাসব্যাপী দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। গত বছর সারা দেশে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩। সে তুলনায় এবার ৮৭ হাজার ৫৫৪ জন পরীক্ষার্থী কমে গেছে। তার মধ্যে ৪৬ হাজার ৭৮ জন ছাত্র ও ৪১ হাজার ৪৭৬ জন ছাত্রী। এবার সারা দেশে ৩ হাজার ৫১২টি কেন্দ্রে মোট ২৮ হাজার ৮৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে।’

এ সময় জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় এবার মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২০২টি ও কোট কেন্দ্র ১৫টি বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৮৮ ও অনিয়মিত ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩২৫, বিশেষ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা (১ থেকে ৪ বিষয়ে ফেল) ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৪ এবং বিদেশি ৮টি কেন্দ্রে মোট ৩৪২ জন এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

সাধারণ ৯টি বোর্ডে ১ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হবে। চলবে ২২ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৩ ফেব্র“য়ারি শুরু হয়ে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে ১ ফেব্র“য়ারি তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে ২৫ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত, ব্যবহারিক পরীক্ষা ৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও একই সময়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে ২২ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত চলবে, ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৬ ফেব্র“য়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য বারের মতো এবারও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থীর দেরি হলে তার বিস্তারিত তথ্য পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে। ট্রেজারি থেকে নির্দিষ্ট তারিখের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সব সেট কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এমএমএসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেয়া হবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।’

শিক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এবার এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয় ও ইংরেজি প্রথম এবং দ্বিতীয় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ে এনসিটিবির নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর অনলাইনের মাধ্যমে বোর্ডে পাঠাতে হবে।’

এই বিভাগের আরো খবর

অনিয়মের রাজত্ব শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজে

কাজী ফরিদ: পরের জায়গায় দালান তুলে চার...

বিস্তারিত
বুয়েটে আগের নিয়মেই ভর্তি পরীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *