ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড কিংবা ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবি সংসদে

প্রকাশিত: ০২:১৮, ১৫ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০২:১৮, ১৫ জানুয়ারি ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশু ও নারী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড, প্রয়োজনে এ ধরণের অমানবিক ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড দমনে ধর্ষকদের ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবিও উঠেছে জাতীয় সংসদে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এমন দাবি জানান।

বিরোধী দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্ন সংসদে এ দাবি জানালে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সরকারি দলের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদও। তারা বলেছেন, ধর্ষকদের প্রয়োজনে বন্দুকযুদ্ধে দিলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের নিষ্ঠুর ও অমানবিক কর্মকাণ্ড ঘটাতে সাহস পাবে না।

প্রথমে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মুজিবুল হক চুন্নু সারা দেশে ধর্ষণ ও নারী শিশু নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সারা দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। নারী সমাজ উদ্বিগ্ন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ১৭ হাজার ৯০০টি নারী নির্যাতনের মামলা হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ জন। ১৮৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৮ সালে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৭২৭। গেল বছর ধর্ষণের পর ১২ শিশু মারা যায়। নারী মৃত্যু হয় ২৬ জনের। এ বছর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যায় ১৪ শিশু। 

তিনি বলেন, এ বিষয়টা যদি আমরা গুরুত্ব না দেই জাতির সামনে প্রশ্নের জবাব দিতে পারবো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হলো, যদিও সরকার জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। এরপরও জনমনে প্রশ্ন আছে। নানা কারণে মানুষ বিশ্বাস করছে না। এরপরই সাভারে ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ধামরাইয়ে একই ঘটনা ঘটে। তিনি ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে এক দিন সময় নির্ধারণ করে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান সংসদে।

মুজিবুল হক বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামালে সারাদেশে অ্যাসিড নিক্ষেপ বেড়েছিল। সমানে দেখা যেতো কোনো ঘটনা ঘটলেই নারীরা অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার। তখন এরশাদের সরকার ওটাকে প্রতিরোধ করার জন্য অ্যাসিড নিক্ষেপ প্রমাণ হলে আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল। এখন সরকারের কাছে আবেদন জানাবো যে হারে ধর্ষণ বেড়েছে, তাতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে ধর্ষণ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। সময় এসেছে এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনার। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে ধর্ষণের দায়ে (যদি প্রমাণ হয়) তার সাজা যাবজ্জীন কারাদণ্ড না দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দ্যেশ্য করে চুন্নু বলেন, ‘মাদকের জন্য এত ক্রসফায়ার হচ্ছে, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে কেন একজনও বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়নি। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, এই বিষয়টা সরকার যদি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে কোনোক্রমেই এটা নিয়ন্ত্রণ হবে না।’

একই দাবি জানিয়ে জাতীয় পার্টির অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সা¤প্রতিকালে ধর্ষণ মহামারি রূপ নিয়েছে। ছাত্রী, শিশু, নারী শ্রমিক, প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কেউ রক্ষা পাচ্ছেন না।’

দৃষ্টান্ত হিসেবে শাজনীন হত্যাকাণ্ডের বিচারের কথা তুলে ধরেন ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘১৬ বছর লেগেছে সেই একটি বিচার করতে এবং তার পিতা এদেশের স্বনামধন্য একজন শিল্পপতি। তার মেয়ের এই ধর্ষণ- হত্যার বিচার নিয়ে কোর্ট কাচারি করতে করতে ১৬ বছর পার করছে, আট কোটি টাকা খরচ হয়েছে। একজনের মাত্র ফাঁসি হয়েছে।’

‘আমরা মনে করি এই যে, ধামরাইয়ে বাসে ধর্ষণ করে হত্যা করা হল। বাসের চালককে গ্রেফতার করা হল। কী বিচার হবে? কোনো সাক্ষী নাই। এখন পুলিশের কাছে বলবে, ১৬৪ করবে। যখন মামলায় যাবে সাক্ষী থাকবে না। তাহলে কী করতে হবে?’

‘আমাদের কিছু লোক আছে, মাননীয় স্পিকার বলতে বাধা নেই, মানবাধিকার সংগঠন। তারা বলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন- এই ধর্ষকদের কী আইন আপনি করবেন? তার কোনো ফাঁসি হবে না, জেলও হবে না, এক সময় এক বছর পর বেরিয়ে যাবে, কেউ খবরও রাখবে না। একমাত্র এই মুহূর্তে যদি এই সমাজকে ধর্ষণমুক্ত করতে চান, তাহলে ‘এনকাউন্টার মাস্ট’। তাকে গুলি করে মারতে হবে।’

চুন্নু ও ফিরোজ রশীদের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘তিনি (চুন্নু) একটা সুন্দর প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। কাজী ফিরোজ রশীদও সুন্দরভাবে বলেছেন। শিশুদের ওপর নির্যাতনের কথা বলেছেন। আমরা কি দয়া-মায়াহীন হয়ে গেলাম? মাদকের ব্যাপারে যদি সঙ্গে সঙ্গে ক্রসফায়ারে শেষ করে দেওয়া হয়, তাহলে মাদকের থেকেও জঘন্য ধর্ষণ। যে এই কাজ (ধর্ষণ) করেছে তার আর এই পৃথিবীতে থাকার কোনও অধিকার নেই।’

তোফায়েল বলেন, “এখানে দরকার কঠোর আইন করা। আর দ্বিতীয়ত হল, আমি চিনি যে এ এই কাজ করেছে তার আর এই পৃথিবীতে থাকার কোনো অধিকার নেই।”

এসময় তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, ‘চুন্নু ও কাজী ফিরোজ রশীদ যে কথা বলেছেন, আমি টুপি দাঁড়ি মাথায় নিয়ে আল­াহকে হাজির নাজির জেনে বলছি, এদের ক্রসফায়ার করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে, কোনো অসুবিধা নাই।’
 

এই বিভাগের আরো খবর

গাইবান্ধার উপ-নির্বাচনে ৫ জনের মনোনয়ন দাখিল

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: জাতীয় সংসদের...

বিস্তারিত
ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে কোম্পানি বিল পাস 

ডেস্ক প্রতিবেদন: ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ...

বিস্তারিত
কচুরিপানার আলোচনা গড়ালো সংসদে

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের মানুষকে...

বিস্তারিত
মজুদ গ্যাসে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চলবে

ডেস্ক প্রতিবেদন: গ্যাসের বর্তমান...

বিস্তারিত
জেলেরাও বীমা সুবিধার আওতায় আসছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমুদ্রে মাছ ধরতে...

বিস্তারিত
সংসদে হুইপের কবিতা আবৃত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে এবার...

বিস্তারিত
রাজাকারের তালিকা করবেন ইউএনও'রা

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবার উপজেলা...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *