চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানির নামে অর্থপাচার

প্রকাশিত: ০৯:৩৪, ০৬ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ১২:০৭, ০৬ জানুয়ারি ২০২০

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাড়ছে পণ্য আমদানির নামে নানা কৌশলে বিদেশে অর্থ পাচার। লৌহজাত বর্জ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে ফাঁকা কন্টেইনার, কাগজ আমদানি কথা বলে আনা হয়েছে বালু আবার কখনো হুইল চেয়ার আনার ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হয়েছে ইট। এভাবে তিন বছরে অন্তত ৭৭ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে ধারণা কাষ্টম কর্তৃপক্ষের। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং ইউনিট বলছে, এসব বন্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

লৌহজাত বর্জ্য বা স্ক্র্যাপ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আবুল খায়ের গ্র“পের আনা খালি কন্টেইনার গত ১৫ ই ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে আটক করে কাষ্টম কর্তৃপক্ষ। সম্পূর্ণ খালি কন্টেইনার আসা এবং অধিকাংশ তথ্য মিথ্যা থাকায় এর মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হয়েছে বলে ধারণা কাস্টম কর্তৃপক্ষের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং ইউনিটের। শুধু এটিই নয়, মাঝে মাঝেই ঘটছে এমন ঘটনা। 

অস্তিত্বহীন  প্রতিষ্ঠান  গ্রাম বাংলা ফুড কর্পোরেশন নামে এক আমদানিকারক ফেল্ট নামে এক ধরণের কাপড় আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনে সিগারেট, মেসার্স এন ইসলাম এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আনোয়ার এন্ড কোম্পানি প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনে সিগারেট, অনলি ওয়ান ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার পাম্প আনার ঘোষণা দিয়ে আনে কসমেটিকস, লোটাস সার্জিক্যাল হুইল চেয়ার ক্রাচ ও ওয়াকার আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনে ইট, লাকি ট্রেডিং সরিষা বীজ আমদানির ঘোষণা দিলেও আনে খালি কন্টেইনার, এম এম ইন্টারন্যাশনাল বপ ফিল্ম নামে পলিপ্রোপিলিন জাতীয় পদার্থ আনার কথা জানালেও আনে ইট, আরএসবি এন্টারপ্রাইজ উচ্চ ঘনত্বের পলি ইথিলিন আমদানির ঘোষণা দিলেও এনেছিলো বালু, প্রগ্রেস ইমপেক্স লিমিটেড কাগজ আনার ঘোষণা দিয়ে আনে বালু, এন জেড এক্সেসরিজ লিমিটেডও পলিষ্টার আনার ঘোষণা দিয়ে আমদানি করে বালু এবং এগ্রিকাল কর্পোরেশন প্রাকৃতিক গাম ও রেজিন আনার ঘোষণা দিলেও আসে সম্পূর্ণ খালি কন্টেইনার।

গত তিন বছরে কাষ্টম হাউসের মানি লন্ডারিং শাখায় ধরা পড়া এসব ঘটনায় প্রায় ৭৭ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে ধারণা কর্তৃপক্ষের। তবে নানা জটিলতায় এখনো শাস্তি নিশ্চিত হয়নি কারোরই। এসব ঘটনা তদন্তে কাজ চলছে বলে জানালেন চট্টগ্রাম কাষ্টমের এন্টি মানি লন্ডারিং ইউনিটের প্রধান নূর উদ্দিন মিলন। 

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির তাগিদ জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। যদিও শাস্তি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল ইসলাম জানান, অর্থপাচার রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এন্টি মানি লন্ডারিং শাখার কাজ শুরু হয়। 
 

এই বিভাগের আরো খবর

ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট ২৭.৫ কোটি

অনলাইন ডেস্ক: সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক...

বিস্তারিত
দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে অগ্নিকাণ্ডের...

বিস্তারিত
করোনার অজুহাতে আদা-রসুনের দাম বৃদ্ধি

মেহের মনি: করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীন...

বিস্তারিত
করোনা চিকিৎসায় প্রস্তুত মৈত্রী হাসপাতাল

লাবণী গুহ: করোনাভাইরাস মোকাবেলায়...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *