বেঁচে যাওয়া তিনজনের মুখে চট্টগ্রামে বিস্ফোরণের বর্ণনা

প্রকাশিত: ০১:১৫, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০১:১৭, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব সংবাদদাতা: চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড এলাকায় পাঁচতলা ভবনের নিচ তলার বাসায় গ্যাসপাইপ লাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলেন তিন ভাগ্যবান। তবে আতঙ্ক তাড়া করছে তাদের।

ভাগ্যবানরা হলেন, বড়ুয়া ভবনের সামনে স্টুডিও ফটোরমার মালিক অনুপম , চায়ের দোকানদার মঞ্জুর হোসেন ও জনতা ফার্মেসির কর্মচারী বিপুল দে।

স্টুডিও ফটোরমার মালিক অনুপম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমি রাতে দোকানেই ঘুমাই। অন্যান্য দিন সাড়ে আটটার সময় দোকান খুলি। কিন্তু আজ ঘুমই ভাঙল না আমার। হঠাৎ ৯ টার দিকে বিকট একটা শব্দ শুনতে পাই। দেখি আমার দোকানের ভেতরটা পুরো অন্ধকার হয়ে গেছে। দোকানের সাটার পুরো বেঁকে গেছে। তখন ভেতর থেকে চাবিও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমি তো ভাবছিলাম আমার দোকানেই বিস্ফোরণ হলো ।গবানের কাছে প্রার্থনা করতে থাকি। চাবিও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বিপদ আসলে যেনো চারপাশ থেকেই আসে।

তিনি আরো বলেন,কান্না করতে করতে হাতুড়ি দিয়ে কোনোরকমে তালা ভেঙে দোকান থেকে বের হলাম। বের হয়ে দেখি চারপাশটা অন্ধকার। চারপাশে খুবই খারাপ পরিস্থিতি শুধু মানুষের লাশ। আজ যদি আমার দোকান খোলা থাকতো তাহলে আজ আর বেঁচে থাকতাম না। প্রাণে বেঁচেছি কিন্তু দোকানের জিনিসপত্রের ্র্রায় দেড় লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।’

অনুপমের পাশের দোকান মেসার্স জনতা ফার্মেসীর কর্মচারী বিপুল দে বলেন,সকালে আমি দোকানে ঝাড়ু দিচ্ছিলামÍমেন সময়  একটা বিকট আওয়াজের সাথে সাথে দেখি সামনের ভবনের দেওয়াল ভেঙে উড়ে এসে আমাদের দোকানেই পড়ছে। এক হাত দুরত্বে আমার বাম পাশেই দোকানের ভেতরে বড়ুয়া ভবনের সামনের দেওয়ালের একটা বড় অংশ এসে পড়ে। ওই ভবনের সামনের গেইটের পুরোটাই আমাদের দোকানে এসে পড়ে। আর একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে যায়। কোনো রকম প্রাণ নিয়ে বের হয়ে মালিকের বাসায় দৌড় মারি। মালিককে নিয়ে এসে দেখি আমাদের দোকানের সামনেই দুটো লাশ পড়ে আছে। আমি যে বেঁচে আছি তা আমার কাছে এখনো স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে।

দোকানের মালিক টিটু কুমার নাথ বলেন, এমন একটা ঘটনা ঘটেছে, সত্যি খুবই মর্মান্তিক। আমার দোকানের ছেলেটাকেও আর একটু হলে বাঁচানো যেতো না। ভগবানের কৃপায় এ যাত্রায় বেঁচে গেছে। আমার দোকানে ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু দোকানের ছেলেটা রক্ষা পেলো সেটাই অনেক।
কাপড়ে চোপড়ে রক্তের দাগ লেগে থাকা চায়ের দোকানদার মঞ্জুর হোসেন বলেন, আমি চা বানাচ্ছিলাম। দোকানে তখন দুজন বসে চাও খাচ্ছিলো। একজন ড্রাইভার হামিদ আরেকজন এখানকার রংমিস্ত্রি। ঝড়ের গতিতে হঠাৎ সব ভেঙে চুরমার আমরা নিমিষেই দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে যাই আমরা তিনজন। হঠাৎ কী হলো কিছুই বুঝতে পারলাম না। মনে হলো কেউ বোমা মেরেছে। এখনো হাত পা কাঁপছে আমার। দাঁড়াতেই পারছি না স্থির হয়ে মনে হচ্ছে। যেন এখনই সব আবার ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। প্রায় ২০ মিনিট পর লোকজন আমায় ইটের নিচ থেকে উদ্ধার করেন। পাশেই লাশ হয়ে গেল রঙের মিস্ত্রি। ড্রাইভারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এলেও এখনো সেই কঠিন মুূহূর্তের কথা ভুলতে পারছেন না কেউ।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

মিয়ানমার থেকে ফেরত আসলো ১৭ জেলে

কক্সবাজার সংবাদদাতা : মিয়ানমারের...

বিস্তারিত
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভূমি গবেষণা জাদুঘর

লালমনিরহাট সংবাদদাতা: লালমনিরহাটের...

বিস্তারিত
টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা: ঢাকা-টাঙ্গাইল...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *