নওগাঁয় ৬০ বিঘা জমির আমগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশিত: ০৮:৩৮, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

আপডেট: ১২:১৮, ১৬ নভেম্বর ২০১৯


নওগাঁ সংবাদদাতা : রাতের আঁধারে নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলার ১২ জন আমচাষির স্বপ্ন কেড়ে নিলো দুর্বত্তরা। গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাতে সাপাহার উপজেলার জামালপুর ও পোরশা থানার গোন্দইল গ্রামের মাঠে ৬০ বিঘা জমির উপর বাগান করা প্রায় ১০ হাজার আম গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গাছগুলোর বয়স এক থেকে চার বছর পর্যন্ত। এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। এত দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্থ আমচাষিরা। তবে কি কারণে গাছের সাথে এমন শত্রুতা করা হয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি। দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসাসহ ক্ষতিপুরন দাবী করেছেন এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষিরা।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, সাপাহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধূরী, অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই।

জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার ও পোরশা বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। পানির সমস্যার কারণে বছরের একটি মাত্র ফসল বৃষ্টি নির্ভর আমন ধানের আবাদ হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর থেকে ধানের দাম কম পাওয়ায় কৃষকরা আম চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। আমের দাম ভাল পাওয়ায় কৃষক এখন আম বাগানের দিকে আগ্রহী হয়েছেন।

আম চাষিরা বলছেন, সাপাহার উপজেলার জামালপুর ও পোরশা থানার গোন্দইল গ্রামের মাঠে গত ২ থেকে ৩ বছর আগে প্রায় ৬০ বিঘা জমি ১২ জন চাষি ১২ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে আম বাগান গড়ে তুলেছেন। এদের কেউ বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবার কেউবা বউয়ের গহনা বিক্রি করে জমি ইজারা নিয়েছিলেন। আগামী বছরে আম গাছগুলোতে আম আসার স্বপ্ন দেখছিলেন চাষিরা। কিন্তু রাতের মধ্যে দূর্বত্তরা সব গাছ কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। এতে চাষিদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফলে দুঃস্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, জামালপুর ও গুন্ধইল মাঠে বেশ কয়েকটি বাগানে পড়ে আছে সারি সারি কাটা আমগাছ। কোনো গাছের গোড়া, আবার কোনোটির মাঝখান থেকে কেটে ফেলা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষিরা বলছেন, তাঁদের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। যেসব জমি লিজ (বর্গা) নিয়ে তাঁরা বাগান করেছেন, ওই সব জমি নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। কারা, কী শত্রুতায় তাঁদের এত বড় ক্ষতি করল, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।

জামালপুর গ্রামের ফটিক বর্মণ জানান, গবাদিপশু ও স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমের বাগান গড়ে তুলেছিলেন তিনি। প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে বালতি ও কলসিতে করে পানি এনে গাছের গোড়ায় দিয়েছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। এক বছর ধরে অনেক কষ্টে বাগানের আমগাছগুলো লালন-পালন করেছেন তাঁরা। স্বপ্ন দেখছিলেন বাগানের ফল বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়ার। কিন্তু রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয়েছে ফটিকের ৮৭০টি গাছ।

সাপাহার উপজেলার দোয়াশ গ্রামের রায়হান ইসলাম বলেন, তাঁর ১৮ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা ৩ হাজার ৩০০টি গাছ কেটে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। তাঁর গাছগুলোর বয়স প্রায় ১১ মাস। গাছ কেটে নষ্ট করে ফেলায় তাঁর প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

শিংপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন নামের আরেক বাগানমালিক বলেন, গুন্ধইল মাঠে সাত বিঘা জমির একটি বাগানে আম্রপালি জাতের আমবাগান ও জামালপুর মাঠে চার বিঘা জমিতে বারি ফোর জাতের একটি বাগান গড়ে তোলেন তিনি। দুটি বাগানে প্রায় ৫৬০টি গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

তাঁর গাছগুলোর বয়স চার বছর। তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার পত্নীতলা উপজেলার মাটিকাটা এলাকার এক আম ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ বছরের জন্য ২০ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বাগান বিক্রি করি। পরদিন সকালেই ওই ব্যবসায়ীর লোকদের বাগানের গাছগুলোতে কীটনাশক ছিটানোর কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন রাতেই আমার দুটি বাগানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ওই ব্যবসায়ী এখন আর বাগান নিতে চাইছেন না। তাঁকে সব টাকা ফেরত দিতে হবে।’

ক্ষতিগ্রস্ত বাগানমালিক রবিউল আহমেদ বলেন, ‘আমার ১০ বিঘা জমির বাগানের ১ হাজার ৬০০টি গাছ কেটে ফেলেছে। প্রায় ৬ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে বাগানটি দুই বছর ধরে গড়ে তুলেছিলাম। গত বছর কিছু গাছে আম এসেছিল। এবার সব গাছেই আম আসত।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারও যদি শত্রুতা থাকে, তাহলে আমার সঙ্গে রয়েছে। কিন্তু গাছ কী দোষ করল, বুঝতে পারছি না।’

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন। অভ্যন্তরীণ কোন দ্ব›দ্ব আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন প্রশাসন। তবে ঘটনায় এখনো কোন মামলা দায়ের হয়নি।

সাপাহার থানার অফিসার ইনচাজ (ওসি) আব্দুল হাই জাজান, ক্ষতিগ্রস্ত বাগানগুলো সাপাহার ও পোরশা উভয় উপজেলায় অবস্থিত। বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাগানমালিকদের সাপাহার ও পোরশা উভয় থানাতেই অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে বাগানমালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভূমি গবেষণা জাদুঘর

লালমনিরহাট সংবাদদাতা: লালমনিরহাটের...

বিস্তারিত
টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা: ঢাকা-টাঙ্গাইল...

বিস্তারিত
হালদা নদীতে পাওয়া গেলো মৃত ডলফিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে কার্পজাতীয়...

বিস্তারিত
আ. লীগের মনোনয়ন বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ: কাদের

সিলেট সংবাদদাতা: আওয়ামী লীগে মনোনয়ন...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *