পেঁয়াজের দাম নিয়ে সংসদে উত্তাপ, নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

প্রকাশিত: ০৮:৩১, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

আপডেট: ১০:৩১, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এর পেছনে ষড়যন্ত্র থাকার আশঙ্কা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিম পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গটি তোলেন।

নাসিম বলেন, ‘পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশি হয়ে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে এটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। মানুষের মধ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া হলে সেটি খারাপ হবে। আজ পেঁয়াজের মূল্য প্রায় ২০০ টাকা হয়ে গেছে। কী কারণে প্রতিদিন পেঁয়াজের মূল্য বাড়ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী যখন বলেন ১০০ টাকার নিচে মূল্য নামবে না, তখন ব্যবসায়ীরা তো সুযোগ পেয়ে যান। বলা হচ্ছে, বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। তাহলে কেন মূল্য বাড়ছে তা বোধগম্য নয়। এতে সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।’

মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে বলেছিলেন পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে গেছে। তিনি ভারতকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ না করতে অনুরোধ করেছিলেন। সংসদে অর্থমন্ত্রী আছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীকে দেখা যাচ্ছে না। অর্থমন্ত্রীকে বলবো, পেঁয়াজের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আরও তৎপর হওয়া উচিত। অর্থমন্ত্রী যদি জবাব দেন, তাহলে আমরা আশ্বস্ত হবো।’

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর অনেক কর্তব্য রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে পেঁয়াজের মূল্য একটু হয়তো বেড়েছে। দুঃখ-ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হচ্ছে, আজকে পেঁয়াজের কেজি দুই শত টাকা। আমরা কোনোদিনই এটা ভাবিনি।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘দেশে পেঁয়াজের কী চাহিদা, তা আগেই মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। আমাদের দরকার কত। আছে কত। যেটা ঘাটতি তা তুরস্ক ও মিসরসহ অন্য দেশ থেকে আগেই সংগ্রহ করি।’

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কোন একটি পণ্যের মূল্য বাড়লে আমরা তার ওপর আমদানি ডিউটি কমিয়ে দেই। তাই বলবো, যারা পেঁয়াজ আমদানি করেন তাদের সুবিধা দিন। অন্তত কিছু দিনের জন্য আমদানি শুল্ক শূন্য করে দিন। কারণ, এ ধরনের ঘোষণা দিলে দেখা যাবে এর প্রভাব বাজারে পড়ছে।’

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘বাজারে কিন্তু পেঁয়াজ আছে। এর মূল্য বাড়ার কোনও কারণ নেই। কিন্তু গতকাল মূল্য ছিল দেড়শ টাকা। আর আজ দুই শত টাকা। এভাবে মূল্য বেড়ে যাওয়াকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মনে করি। সরকার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে। এই সময় দুর্নীতিগ্রস্ত যে ব্যবসায়ীরা এই কাজগুলো করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদ ওয়াদাবদ্ধ। দেশের মানুষকে এভাবে কষ্ট দেওয়ার কোনও কারণ থাকতে পারে না। মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষ রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এর একটা ব্যবস্থা হওয়া উচিত। নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করবেন। যেন পেঁয়াজের মূল্য শিগগিরই কমে আসে।’

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন পেঁয়াজ নিয়ে রসিকতা সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই পেঁয়াজের ব্যাপারে সরকারের তৎপর হওয়া উচিত।’

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘গত পরশু বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৮০ টাকা। ওইদিন এই সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী দেওয়া বক্তব্যে পিঁয়াজের মূল্য সরকারের  নিয়ন্ত্রণে আছে বললেন। এট বলার পরদিন মূল্য হয়ে গেল ১৫০ টাকা। আর আজকে হলো ২০০ টাকা। পত্রিকায় দেখলাম ভারতে পেঁয়াজের মূল্য কমার কারণে কৃষক কাঁদছেন। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের এত ভালো সম্পর্কের পরে নিশ্চয়ই সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে পদক্ষেপ নিলে ক্রাইসিসটা থাকতো না।’

 

এই বিভাগের আরো খবর

সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা

অনলাইন ডেস্ক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
সৌদি আরবে নারী শ্রমিক না পাঠানোর দাবি সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্যাতনের শিকার...

বিস্তারিত
খোকা ও বাদলের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক মন্ত্রী ও...

বিস্তারিত
একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: একাদশ জাতীয় সংসদের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *