ক্যাসিনো কেলেংকারিতে বিতর্কে দেশের ক্রীড়াঙ্গন

প্রকাশিত: ১০:৩০, ০১ নভেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৪:১৫, ০১ নভেম্বর ২০১৯

কাজী বাপ্পা: সাম্প্রতিক ক্যাসিনো কেলেংকারি শুধু রাজনীতি নয়, সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে ফেলেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকেও। নামকরা সব খেলার ক্লাবের মুখে হঠাৎ করে যেন চুনকালি লেপে দিলো পশ্চিমা ধাচের এই জুয়ার আসরের গোপন আয়োজন।

কবে শুরু হলো? কী প্রয়োজন ছিল? আদৌ কী সুফল পেয়েছে ক্লাবগুলো? নাকি, শুধুই কলঙ্কের তিলক পেলো কপালে? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের শিকার রাজধানীর প্রসিদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী সাতটি স্পোর্টস ক্লাবে।

এলাকার নামে নাম হয়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের। মহল্লা ভিত্তিক প্রতিযোগীতার মাধ্যমে দেশে ফুটবল খেলার প্রসারে ১৯৫৮ সালে রাজধানীর আরামবাগের ১০ নম্বর ভবনে যাত্রা শুরু করে। কিশোর-তরুনদের থেকে দক্ষ ফুটবলার বের করে আনা ছিল মূল উদ্দেশ্য।

আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আবুল কাশেম জানান, আমারা চারজন ছিলাম,  ‘মুস্তফা জামান বেবী ভাই ছিল এটার মূল উদ্যোক্তা। আমরা প্রতিযোগীতার মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করতাম তাদের দিয়ে আবার অন্যান্য সংগঠনগুলোর সাথে প্রতিযোগীতা করাতাম।’ এবক্লাবটির সহ-সভাপতি এজাজ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় এটার নাম ছিল আরামবাগ বয়েজ ক্লাব। তখন বিনোদন বলতে ফুটবরটাই বেশি প্রচলিত ছিল।
 
দেশ স্বাধীনের পর পচাত্তর সালে কলংকময় যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়, তখন আরামবাগসহ অন্য খেলার ক্লাবগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার শুরু করে অবৈধ সামরিক শাসক গোষ্ঠী। সেসময় টাকার বিনিময়ে তাশ ও হাউজি খেলার অনুপ্রবেশ ঘটে।

আবুল কাশেম এবং এজাজ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, জিয়াউর রহমান আমাদের এই দশ নম্বর ভবন থেকে সরায়ে দেয়, এই ভবনের নম্বর পরিবর্তন করে দেয় ১৭৬/১। এরপর আমাদের ঠায় হয় বর্তমান ঠিকানায়। মানুষ তখন অবসর কাটানোর জন্য তাশ আর হাউজি খেলতো এগুলো আসলে জুয়া না। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আসতো এখানে তাস আর হাউজি খেলতে।
  
পর্যাপ্ত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব থাকলেও সত্তরের দশকে আরামবাগের প্রাপ্তি নেহায়েত কম ছিল না। আবুল কাশেম এবং ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শামীম বলেন, দেশ স্বাধীনের পর আমরা আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্টসহ সিক্কিম টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হইছি। তখন ক্লাব চালানোর জন্য বৌয়ের গয়না বিক্রি করা লাগছে। 
 
বর্তমানে নিজস্ব ভবনে অবস্থিত আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ত্বত্ত্বাবধানে। তিনজন বিদেশি ও ২৬ জন বাংলাদেশি মিলে ২৯ জন নিজস্ব ফুটবল খেলোয়াড় রয়েছে সংগঠনটির। রয়েছে নির্বাচিত ৫৮ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা কমিটিও।

এই বিভাগের আরো খবর

ক্লাবে ক্যাসিনো বসিয়ে লাভবান হাতে গোনা ক’জন

মাবুদ আজমী: ক্যাসিনোর কালিমা লাগার পর...

বিস্তারিত
দিলকুশা ক্লাব দখল করে ক্যাসিনো চালু করেন সাঈদ

মাবুদ আজমী: মতিঝিলের ক্লাব পাড়ায় অবৈধ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *