বোরহানুদ্দিন কলেজে অস্থিরতার কারণ গভর্নিং বডির সভাপতি

প্রকাশিত: ০৯:৩৭, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ০৯:৩৭, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

কাজী ফরিদ: জমি কেনায় অস্বচ্ছতা এবং আর্থিক ও পদ্ধতিগত অনিয়মের পাশাপশি শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজে অস্থিরতার আরেক বড় কারণ স্বয়ং গভর্নিং বডির সভাপতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হারুনর রশীদ খান। কলেজের ভালোর জন্য যার কাজ করার কথা, বহিরাগত সেই সভাপতিরই বহু কাজ প্রশ্নবিদ্ধ। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক, সভাপতি হিসেবে নানা কৌশলে অস্বাভাবিক হারে কলেজের বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন, যাকে অপচয় বলছেন অনেকে। 

১৩ সদস্যের গভর্নিং বডির এক ঘণ্টার একটি সভা করতে শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজের ব্যয় হয় প্রায় লাখ টাকা। এরমধ্যে সভাপতি অধ্যাপক হারুনর রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষক এক ঘণ্টার সভার জন্য নেন সাড়ে তের হাজার টাকা। এরমধ্যে ২ হাজার টাকা ক্যাম্পাস থেকে ১০ মিনিটের পথ বকসীবাজারে শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজে যাওয়া আসার জন্য। অন্য সদস্যরা কেউ ৬ হাজার ৬০০ আবার কেউ নেন ৪ হাজার ৬শ’ টাকা। এই ভাউচারটি পরিচালনা পরিষদের একটি বৈঠকে খাবারের খরচ দেখাচ্ছে। ১৩ জনের জন্য ১৭টি আস্ত মুরগীর গ্রিল, ৬৮টি নানা রুটি।

অধ্যাপক হারুনের আগের গভর্নিং বডি প্রতি মাসে একবার বৈঠক করতো। আর বর্তমান সভাপতি হারুন নানা কারণ দেখিয়ে গভর্নিং বডি ও আরও নানা কমিটির নামে একই মাসে বহু বৈঠক করে টাকা নিচ্ছেন। এমনকি একই দিনে একই কমিটির ভিন্ন ভিন্ন আলোচনার বিষয় দেখিয়ে সম্মানীর টাকা বাড়িয়ে নিচ্ছেন। 

সভাপতি হারুণ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কলেজ থেকে ব্যক্তিগত আয় করেছেন ৩ লাখ টাকা। তার পরের অর্থবছরে সেই আয় দ্বিগুণ করে নিয়েছেন সাড়ে ৬ লাখ টাকার বেশি। গভর্নিং বডির সভাপতি হয়ে কলেজে ক্লাস নেয়ার নজির স্থাপন করেছেন এবং নিয়মিতই প্রত্যেক ক্লাসের জন্য টাকা নেন। 

গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে কলেজ থেকে প্রতি মাসে চার হাজার টাকার মোবাইল ও ইন্টারনেট বিল নেন অধ্যাপক হারুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও তাকে ফোন বিল দেয়। অধ্যাপক হারুন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন, তাকে নিয়ে সেখানেও আছে বিস্তর অভিযোগ, যিনি ২০১৫ সালে সেই বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। নিজে আমেরিকা থেকে একটি ব্যয়বহুল আই ফোন কিনে এনে তার টাকা নেন এই কলেজ থেকে। অথচ আগের সভাপতি অধ্যাপক মমতাজউদ্দিনকে কলেজের শিক্ষকরা নিজেরা  একটি মোবাইল সেট উপহার দেয়ায় তাকে অপরাধী করা হয়।

একই ভঙ্গিতে গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক হারুন দাবি করেন শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজের উচিত তাকে বিপুল টাকা দেয়া। 
 

এই বিভাগের আরো খবর

বাজারের সব মাস্ক করোনা প্রতিরোধী নয়

লাবণী গুহঃ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে...

বিস্তারিত
করোনা নিয়ে গুজব, সতর্ক করলো পুলিশ 

নাঈম আল জিকো: নভেল করোনাভাইরাসকে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *