রহস্যময় খাগড়াছড়ির দেবতার পুকুর ভ্রমণ

প্রকাশিত: ১১:৫৪, ২১ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ১১:৫৪, ২১ অক্টোবর ২০১৯

ভ্রমন ডেস্ক: খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নূনছড়ি মৌজায় সমুদ্র সমতল হতে প্রায় ৭০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় এই দেবতার পুকুর অবস্থিত। মহালছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে জেলা সদর থেকে ১১কিঃ মিঃ দক্ষিণে মূল রাস্তা হতে ৪কিঃ মিঃ পশ্চিমে চির প্রশান্তিময় দেবতার পুকুর এর অবস্থিত।

কথায় আছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের জল তৃঞ্চা নিবারণের জন্য স্বয়ং জল-দেবতা পুকুর খনন করেন। পুকুরের পানিকে স্থানীয় লোকজন দেবতার আশীর্বাদ বলে মনে করে। দেবতার অলৌকিকতায় পুকুরটি সৃষ্ট বলে এতো উঁচুতে অবস্থানের পরও পুকুরের জল কখনও শুকোয় না। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নরনারী পূণ্য লাভের আশায় পুকুর পরিদর্শনে আসে। কিংবদন্তীর দেবতার পুকুরটি ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাছে পূজনীয়।

প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তিতে এখানে তীর্থ মেলা বসে এবং তান্ত্রিক বিধানমতে ত্রিপুরাগণ যাগযজ্ঞাদি করে। ত্রিপুরাদের ভাষায় দেবতাপুকুর এর নাম মাতাই পুখির। মাতাই অর্থ দেবতা আর পুখির অর্থ পুকুর। পুকুরের চতুর্দিকে ঘন বন দেখে মনে হয় যেন সৌন্দর্য্যের দেবতা স্বয়ংবর নিয়ে দাঁড়িয়ে। উঁচু পাহাড়ের পাশে দুটো জনবসাতি ছিল।

জনবসতির জুমিয়ারা এক সময় পাহাড়ে জুম চাষ করত। জুম চাষ করার এক পর্যায়ে পাহাড়টা আবাদ না করার জন্য তাকে স্বপ্নে বারণ করা হয়। কিন্তু স্বপ্নের গুরুত্ব না দিয়ে এমনকি বারবার একইভাবে স্বপ্নে নিষেধ করা সত্বেও সে যথারীতি জুম চাষ চালিয়ে যায়। শেষবারে তাকে নরবলী দিয়ে জুমের ফসল ভোগের জন্য বলা হয় এবং তা করলে সে আরো কিছু ধন লাভ করবে বলেও স্বপ্নে জানানো হয়। কিন্তু দাবী পূরণে জুয়িার বিশ্বাস এবং সামথ্য কোনটাই ছিল না। এর কিছুদিন পর এক অমাবশ্যার রাতে স্থানে এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে আশে-পাশের লোকেরা দেখতে পায় জুমের জায়গায় পাহাড়ের উপরে বিরাট এক জলাশয়। জলাশয়ই দেবতা পুকুর নামে পরিচিত।

দেবতা পুকুর বর্ষাকালে পানিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় এবং বছরের কোন সময়ে শুকিয়ে যায় না। পুকুরের চারিদিক সুবিস্তৃত পর্বতশ্রেণী। তারই মাঝে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বালম্বিভাবে প্রায় ৭০০ফুটের উপর এর অবস্থান। পুকুরের আকার দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৫০০ফুট এবং প্রস্থে প্রায় ৬০০ফুট।

কিভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে শান্তি, শ্যামলী, হানিফ অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন

খাগড়াছড়ি হতে মহালছড়ি যাবার পথে মাইসছড়ি। এখানে আলুটিলা হয়ে আরো সামনে এগিয়ে গেলে পিচঢালা পথ শেষে শুরু হবে ইটের রাস্তা। চান্দের গাড়ী নিয়ে সেই পথে আরও কিছুটা এগুলে গাড়ীর রাস্তা শেষ। তারপর পায়ে হেটে যেতে হবে প্রায় / কিলো পথ।

কোথায় থাকবেনঃ

খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেলসহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল আছে মান ভেদে এসব হোটেলগুলোর ভাড়ারও তারতম্য রয়েছে। তবে দাম দর করে আপনার সাধ্যের মধ্যে থাকার হোটেল পেয়ে যাবেন। 

এই বিভাগের আরো খবর

শীতকালে ভ্রমণে যেসব পোশাক পরবেন

অনলাইন ডেস্ক: আমরা সবাই ভ্রমণপ্রিয়...

বিস্তারিত
আজমীর শরিফ দরগা

অনলাইন ডেস্ক: হিন্দু কিংবা মুসলিম সকল...

বিস্তারিত
চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের রূপলাবণ্য

ডেস্ক প্রতিবেদন: যত দূর চোখ যায় কেবল...

বিস্তারিত
গাজীপুরের ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক

ডেস্ক প্রতিবেদন: নগর জীবনের সকল...

বিস্তারিত
এখনো ভোদড় দিয়ে মাছ শিকার করে যারা

ডেস্ক প্রতিবেদন: বাংলাদেশের বেশ কিছু...

বিস্তারিত
ঘুরে আসুন কুমিল্লার শালবন বিহার

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রাচীন সভ্যতার...

বিস্তারিত
পর্যটকদের নয়ন জুড়ায় মধুপুর জাতীয় উদ্যান

ভ্রমন ডেস্ক: টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর...

বিস্তারিত
রহস্যময় খাগড়াছড়ির দেবতার পুকুর ভ্রমণ

ভ্রমন ডেস্ক: খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *