রাজীবের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার নেপথ্যে

প্রকাশিত: ১১:৫২, ২০ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ০৪:২২, ২০ অক্টোবর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা তারেকুজ্জামান রাজীবকে গ্রেফতারের পর তার সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য জানা গেছে।

যুবলীগ নেতা রাজীবের উত্থানের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ফুটপাতের সামান্য টং দোকানদার ছিলেন রাজীব। সেই যুবলীগ নেতাই এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। মালিক হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার। তাকে গ্রেফতারের পর বাসা থেকে পাওয়া গেছে ৫ কোটি টাকার চেক। গড়েছেন স্থাবর সম্পত্তি। রয়েছে ঢাকায় বিলাসবহুল একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট।

এলাকাবাসী জানায়, টং দোকানদার থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউজিং, সাতমসজিদ হাউজিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে রাজীবের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে প্রবাসীদের বাসাসহ এলাকার অনেকের জমিদখলের অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে মোহাম্মদপুর এলাকায় একাধিক বাড়ি, জমি ও একাধিক বিলাসবহুল গাড়ির মালিক তিনি।

একসময় টং দোকানদার ছিলেন রাজীব। এখন তিনিই কোটি কোটি টাকার মালিক। বসবাস করেন আলিশান বাড়িতে। গুলশান ও মোহাম্মদপুরে আটটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার। চড়েন বিলাসবহুল গাড়িতে। যার মধ্যে রয়েছে মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, ক্রাউন প্রাডো, ল্যান্ডক্রুজার ভি-৮, বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কারও।

২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে জয়লাভ করেন। এরপর থেকেই মূলত ভাগ্য আরও খুলে যায় তার। আর পিছু তাকাতে হয়নি তাকে।

রাজীবকে গ্রেফতারের পর র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম বলেন, রাজীবের একটি রাজকীয় বাড়ি রয়েছে। এ বাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো। বাড়ির প্রত্যেকটা আসবাবপত্র থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা জিনিস তিনি বাহির থেকে আমদানি করে নিয়ে এসেছেন। এটি তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে আমাদের মনে হয়েছে। তার কিন্তু আসলে কাউন্সিলর হওয়ার আগ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ধরনের ব্যবসা বা পেশা ছিল না। সিটি কর্পোরেশন থেকে যে সম্মানী পায়, সেটি তার প্রধান আয়। এ ছাড়া বাকি সব অবৈধ লেনদেন।

রাজীবের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, কাউন্সিলর রাজীবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ রয়েছে ভূমিদখলের বিরুদ্ধে এবং উনি কাউন্সিলর হওয়ার পর পরই ২০১৬ সালে তিনটি কোম্পানি খুলেছেন সিলিকন, এক্কা, নাইমা এন্টারপ্রাইজ। দুঃখজনক হলেও এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে আসলে জমিদখল করেছেন। কিছু কিছু জায়গায় লোকজনকে অত্যন্ত কমমূল্যে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন- এমন তথ্য আমরা পেয়েছি। সেসব অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখব। আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে- এসব অপরাধ করতে গিয়ে যেসব লোকজনকে ব্যবহার করেছেন, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা আশা করছি, তদন্তে এ বিষয়গুলো বেরিয়ে আসবে। আমরা যেকোনো মূল্যে এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে চাই। আমার চাই না, এ দেশে কোনো ধরনের ভূমিদস্যুর ঘটনা ঘটুক। যারা তার সহযোগী ও জড়িত রয়েছেন, আত্মীয় বা অনাত্মীয় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমার তো আসলে তার বৈধ আয়ের কোনো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।

যুবলীগের সাইনবোর্ড আর কাউন্সিলরের পদটি ব্যবহার করে এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন রাজীব। এর মাধ্যমে দখলদারিত্ব ও টেন্ডারবাজি করেন তিনি। মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নং রোড এলাকায় পানির পাম্পের জন্য নির্ধারিত জায়গায় বাড়ি বানান। তার ইশারাতেই রহিম ব্যাপারী ঘাটের ৩৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের অফিসটিও দখল করা। এছাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন রাজীব। দলীয় প্রার্থী ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শেখ বজলুর রহমানকে হারিয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় যুবলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু রাজীবের। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সান্নিধ্যে অল্পদিনের মধ্যেই মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে বসেন তিনি। পরে বনে যান ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মোহাম্মদপুরে যুবলীগ কর্মী তছির উদ্দিন হত্যা মামলার আসামিরা তারই ঘনিষ্ঠ। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে খুন করা হয়।

এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বসুন্ধরার ওই বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরুর পর আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর

ফের দাম বেড়েছে পেঁয়াজের, চড়া সবজির বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পাইকারি...

বিস্তারিত
সরকার এখন জনগণের উপর চড়াও: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিত্যপণ্যের দাম...

বিস্তারিত
মিশর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ পৌঁছেছে ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিশর থেকে আমদানি...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *