আজও আন্দোলনে উত্তাল বুয়েট

প্রকাশিত: ০৫:৪৬, ০৮ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ১০:৩৮, ০৮ অক্টোবর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আজ (বুধবার) সকাল থেকে আবারো আন্দোলন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনতর শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ‘৮ দফা মেনে না নেওয়ার আগ পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ থাকবে। ভিসি ক্যাম্পাসে এলেও আমাদের কেনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। আমরা ৮ দফা দাবি থেকে সরে আসেনি। আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ সেই সঙ্গে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

গত রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর মরদেহে অসংখ্য আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে।

হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সকাল থেকে আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুয়েটের বিভিন্ন ভবনে তারা তালা লাগিয়ে দেন। সন্ধ্যা পৌঁনে ৬টার দিকে উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম ভিসি ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। পরে তাকে প্রায় ৪০ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।

আবরার ফাহাদ হত্যার বেশ কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কেন তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে আসেননি, কেন ক্যাম্পাসে দাঙ্গা পুলিশ চড়াও হলো একের পর এক প্রশ্ন করে ভিসির কাছে উত্তর জানতে চান শিক্ষার্থীরা। পরে নানাভাবে বুঝিয়ে উপস্থিত শিক্ষক ও ডিনদের নিয়ে নিজ কার্যালয়ে যান ভিসি সাইফুল ইসলাম।

তবে তার কার্যালয়ের গেটে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৪ ঘণ্টার পর মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) রাত পৌঁনে ১০টার দিকে ভিসির কার্যালয়ের তালা খুলে ওইদিনের মতো আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

সূত্র জানায়, ফাহাদকে জেরা ও পেটানোর সময় হলের ওই কক্ষে অমিত সাহা, মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশাররফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় ফাহাদকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। তারা সবাই মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ১০জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। বাকী ৩জনকে আজ (বুধবার) আদালতে তোলা হতে পারে।
 

এই বিভাগের আরো খবর

শামীম ও খালেদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্ঞাত আয় বহির্ভূত...

বিস্তারিত
আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গাবতলী ও...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *