উপাচার্য পদত্যাগ করায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

প্রকাশিত: ০৪:৪০, ০১ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ০৪:৪১, ০১ অক্টোবর ২০১৯

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর খন্দকার নাসির উদ্দিন পদত্যাগ করায় আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে আনন্দ উল্লাস ও করছেন তারা। এ সময় সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগকৃত উপাচার্যের দুর্নীতি তদন্তের জন্য দুদককে অনুরোধ জানানো হয়।

মঙ্গলবার (০১ অক্টোবর) সকালে ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল বের করে উল্লাস করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মিষ্টি বিতরণ ও রং খেলায় মেতে ওঠেন। শিক্ষার্থীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জয় বাংলা চত্বরে সমবেত হয়। পরে সেখানে সবাই মিলে আনন্দ-উল্লাসে করতে থাকেন। মেতেছেন রং খেলায়। যে যার মতো করে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করছেন।

এর আগে সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিং করে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সহ ১২ দিনে আন্দোলনের পাশে থেকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে পদত্যাগকৃত ভাইস চ্যান্সেলর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের দূর্নীতি দুদককে তদন্ত করার অনুরোধ জানান।

১৯ সেপ্টেম্বর থেকে দীর্ঘ ১২ দিন একটানা ভিসি প্রফেসর ড. নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা (শিক্ষার্থীরা) ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ এনে লাগাতার কর্মসূচি পালন করেন।

তারা ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে অনশন, অবস্থান ধর্মঘট, ঝাড়ু মিছিল, মশাল মিছিল, মোমবাতি মিছিল, প্রেস ব্রিফিং, ভিসির দুর্নীতির পোস্টার প্রদর্শনী, ভিসির ব্যাঙ্গাত্মক চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফেসবুকের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে অবমাননাকর বক্তব্য শেয়ার দেওয়ার অভিযোগকে সামনে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বহিষ্কারের ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রশাসন জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার নিতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সময়ে উপাচার্যের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, নারী কেলেংকারি ইত্যাদি অভিযোগে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ভিসি পতন আন্দোলন শুরু হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের সমর্থক বাহিনী হামলা চালালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। এ ঘটনা তদন্তে ইউজিসি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ইউজিসির তদন্ত কমিটি গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। ড. মো. আলমগীরের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যরা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন ও লিখিত বক্তব্য নেন। তদন্ত কমিটি ভিসি ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগেরও তদন্ত করেন।

পরে গত রবিবার (২৯ অক্টোবর) তদন্ত কমিটি ইউজিসির চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এ প্রতিবেদনে ভিসিকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে ভিসির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের সত্যতা পওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে রবিবার রাত ৯টায় অসুস্থতার কথা বলে ভিসি নাসিরুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বাংলো থেকে পুলিশ পাহারায় বের হয়ে যান। পরে ভিসি হিসেবে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সভায় যোগ দেন নাসিরুদ্দিন খোন্দকার। ওই সভার পরই সন্ধ্যার দিকে তিনি পদত্যাগ করেন।

এই বিভাগের আরো খবর

ভিসির অপসারণ দাবিতে জাবিতে ধর্মঘট

সাভার প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর...

বিস্তারিত
অবশেষে ভিসি নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদত্যাগ করেছেন...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *