অবশেষে ভিসি নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ

প্রকাশিত: ০৬:৪৮, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আপডেট: ১০:৫৩, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদত্যাগ করেছেন গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। আজ সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী জানান, তিনি ওই পদত্যাগপত্র শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে হস্তান্তর করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগপত্র হাতে পেয়েছি। এখন আইনগত প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

এর আগে রোববার ( ২৯ সেপ্টেম্বর) তদন্তে দোষ পেয়ে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসির তদন্ত কমিটি।

তাদের এই প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছেন উপাচার্য নাসির।

রোববার রাত ৯টার কিছুক্ষণ পর কড়া পুলিশ পাহারায় নিজের কোয়ার্টার থেকে গাড়িতে করে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

ক্ষমতার অপব্যবহারসহ ‘অনিয়মের’ নানা ঘটনায় আলোচিত এই উপাচার্যের ক্যাম্পাস ত্যাগের সময় শিক্ষার্থীরা উল্লাস করেছেন। তবে সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি সেখানে। অনেকটা নির্বিঘ্নেই তিনি চলে যান বলে ওসি জানিয়েছেন।

উপাচার্য নাসিরের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিকস্খলনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছিল ইউজিসি। গোপালগঞ্জে গিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন জমা দেন তারা।

একটি ফেইসবুক পোস্টের জন্য গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ও আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে সময়িক বহিষ্কার করার পর উপাচার্য নাসিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ওই শিক্ষার্থী ও উপাচার্যের কথোপকথনের একটি অডিও ভাইরাল হয়, যেখানে ওই ছাত্রীকে বকাঝকা ও হুমকি-ধমকি দিতে শোনা যায় উপাচার্যকে। মেয়েটির বাবাকে নিয়েও তীর্যক মন্তব্য করেন তিনি।

এই অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে উপাচার্যের সমালোচনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার হয়। বিক্ষোভের মুখে ১৮ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১৪টি বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়, যার মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাক্‌স্বাধীনতার নিশ্চয়তা, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ ছাড়া বহিষ্কার না করা, অভিভাবকদের ডেকে এনে অপমান না করা এবং ফেইসবুক পোস্ট ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ভিসির অপসারণ দাবিতে জাবিতে ধর্মঘট

সাভার প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর...

বিস্তারিত
অবশেষে ভিসি নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদত্যাগ করেছেন...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *