মশার ওষুধ কেনায় অনিয়ম হলে ব্যবস্থা; সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৫:৪৪, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৬:১০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ডেঙ্গু যাতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মশা মারার ওষুধ কেনায় অনিয়ম নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান।

তিনি জানান, দেশেই এখন ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত কিট তৈরি হচ্ছে।এতে প্রতিদিন ৩৫ হাজার ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কোনো ঘাটতি থাকবে না।

এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত ৩ আগস্ট পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ৫৭ হাজার এসএস-ওয়ান কম্ব কিটসহ মোট ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ কিট আমদানি করেছি। কিন্তু গত ৬ আগস্ট থেকে বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে দেশেই এ কিট তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার কিট সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ কিট ঘাটতির কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে উষ্ণমণ্ডলীয় ১২৭টি দেশে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ও প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশেও এবছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

‘ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গাইড লাইন রয়েছে। এই গাইড লাইনের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তারা স্থানীয় চিকিৎসক এবং নার্সদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ঢাকার ২৩টি সরকারি, ৪১টি বেসরকারি হাসপাতাল ও দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার চিকিৎসক ও নার্সকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এখনও চলমান।’

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা শহরে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে স্বতন্ত্র ডেঙ্গু কর্ণার খোলা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এবং বেসরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত মূল্যে ডেঙ্গুর পরীক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

‘কোনো প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমরা ডেঙ্গুর পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কিটের আমদানি/সরবরাহ নিশ্চিত করেছি বলে জানান তিনি।

একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার জন্য দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগ ৬৪ জেলায় মনিটরিং টিম গঠন করেছে।

‘এ মনিটরিং টিম জেলা পর্যায়ে জনসতেনতা সৃষ্টি, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে উৎসাহিত করা, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিতকল্পে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

এর আগে, বিএনপির রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করার জন্য নয়, সব প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় রাখার জন্য আমি সদা-সর্বদা সচেষ্ট থাকি। তা না হলে সংসদ সদস্যের নেত্রীর খালেদা জিয়ার মতো বারোটা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটালে কি প্রশ্ন করে খুশি হতেন?

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতেও বিশ্বাসী নয়। আমরা যদি তাই বিশ্বাস করতাম তাহলে এ দেশে বিএনপির অস্তিত্ব থাকত না। 

রুমিন ফারহানা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুগ্রহ করে বলবেন কী, দেশে বর্তমানে মানুষ হত্যা হতে মশা মারা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রয়োজন হয়, যাহা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাঙিয়া পড়া, অকার্যকর হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। প্রাতিষ্ঠানিক সফলতা একটি কার্যকর রাষ্ট্রের পূর্বশর্ত। এই অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলো কি রাষ্ট্রপরিচালনায় সরকারের সার্বিক ব্যর্থতা চিত্র তুলে ধরে না?

এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব হলো- সব মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয় করা। মন্ত্রীদের কাজের তদারকি করা। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। আরাম আয়াসের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করিনি। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। যিনি তার জীবনটায় উৎসর্গ করেছিলেন এই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। তার কন্যা হিসেবে জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা একটা আলাদা জায়গা রয়েছে। আমি সেটাই প্রতি পালনের চেষ্টা করি। সে জন্যই দিনরাত পরিশ্রম করি। কোনো প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করার জন্য নয়, সব প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় রাখার জন্য আমি সদা-সর্বদা সচেষ্ট থাকি।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নিরলস প্রচেষ্টা এবং আমাদের জনগণের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজকে বাংলাদেশ বিশ্বে একটা মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বের রোলমডেল। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি জায়গা দখল করেছে। এসব আপনা-আপনি হয়নি। সব রিশ্রমে হয়েছে। প্রতিষ্ঠান অকার্যকর থাকলে সব অর্জন সম্ভব হতো না। কারণ রাষ্ট্র একটি যন্ত্রের মতো। এই যন্ত্রের বিভিন্ন কলকবজা যখন সমন্বিতভাবে কাজ করে, তখন রাষ্ট্র ভালো থাকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ, রাষ্ট্রযন্ত্র ভালোভাবে কাজ করছে। তা না হলে সংসদ সদস্যের নেত্রীর খালেদা জিয়ার মতো বারোটা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটালে কি উনি প্রশ্ন করে খুশি হতেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হওয়ার কথা বলছেন ? অকার্যকর রাষ্ট্রের উদাহরণ তো বিএনপি সৃষ্টি করেছিল। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়- এমন ব্যক্তির কাছ থেকে। প্রধানমন্ত্রী ঘুমিয়ে থাকতেন, তার পুত্র হাওয়া ভবন থেকে মনমতো সিদ্ধান্ত নিত। মন্ত্রী, সচিবরা হাওয়া ভবন থেকে নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুণতেন।

তিনি বলন, মাননীয় সংসদ সদস্য একটি অনাকাঙ্ক্ষিত, সংসদীয় ও অবান্তর প্রশ্ন করেছেন। তিনি মানুষ হত্যা আর মশা মারাকে একই সমতলে নিয় এসেছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

বাদলের আসনে লাঙল ধরলেন বাবলু

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টির...

বিস্তারিত
সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা

অনলাইন ডেস্ক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ...

বিস্তারিত
সৌদি আরবে নারী শ্রমিক না পাঠানোর দাবি সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্যাতনের শিকার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *