ব্যয়বহুল ভাস্কর্য শিল্পের নিয়ন্ত্রণ ঠিকাদারদের হাতে

প্রকাশিত: ১০:৩৬, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আপডেট: ১২:১১, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফারহানা জুঁথী: সত্তর দশকের মাঝামাঝি দেশে ভাস্কর্যের আকার ও নির্মাণ উপকরণ ব্যবহারে পরিবর্তন আসে। শিল্পীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাস্কর্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে দেশে এসে কাজ শুরু করেন। ভাস্কর্য একটি ব্যয়বহুল ও বড় পরিসরের শিল্প। তাই চর্চা অব্যাহত রাখতে ক্রমেই ঠিকাদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় ভাস্কর্য ও ভাস্কররা।  

চিত্রকলার ছাত্র হামিদুজ্জামান চিকিৎসা নিতে ১৯৬৭ সালে লন্ডন যান। চিকিৎসা শেষে ইউরোপের শহর লন্ডন, রোম, প্যারিস সফরকালে অনুধাবন করেন ভাস্কর্য শিল্পের অনেক শক্তিশালি ও দীর্ঘস্থায়ী মাধ্যম। ভাস্কর হতে আগ্রহী হন। দেশে ফিরে ভাস্কর আনোয়ার জাহান, আনোয়ারুল হক, শামীম আরা শিকদারদেরকে শিক্ষার্থী হিসেবে কাজ করতে দেখেন। তার পর্যবেক্ষণ, দেশে ভাস্কর্য নিয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হলেও চর্চার পথ এখনো মসৃন নয়।

বহির্বিশ্বের ভাস্কর্য দেশের শিল্পীদের মনে প্রভাব ফেলে। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভবন, প্রাঙ্গন, স্থাপত্যে ভাস্কর্য জুড়ে দিয়ে মানুষের মাঝে নান্দনিকতা ও অর্থবোধক চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার প্রবনতা তৈরি হয়। রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে ভাস্কর হামিদুজ্জামান খানের ‘পাখী পরিবার’ তেমন একটি ভাস্কর্য। অনেক শিল্পমানহীন কাজও হচ্ছে বলে শিল্প সমালোচনা আছে।

বিগত কয়েক বছর রাজধানী ও বিভিন্ন মহানগরের মুক্ত প্রাঙ্গনে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে অনেক ভাস্কর্য হয়েছে। যার অনেকগুর্লো দৃষ্টিদূষন করছে বলে কোন কোন শিল্পবোদ্ধা ও নগরবিদদের মত।

গণপ্রাঙ্গনে ভাস্কর্য তৈরির প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিয়ম নিয়ে বিতর্ক আছে। জবাবদিহিতার অভাবে শিল্পমানহীন ভাস্কর্য হয় বলে মনে করেন কেউ কেউ। ধর্মের দোহাই দিয়েও ভাস্কর্য নিয়ে তৈরী হয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা। আবার ভাস্কর্য বিরোধীদের ঠেকাতে শিল্পমানহীন ভাষ্কর্য রক্ষায় আন্দলনও হয়, যা তৈরি করে বিভ্রান্তি।  

দেশে  নিজ খরচে সবচেয়ে বেশি ভাস্কর্য করেছেন বলে দাবি করেন ভাস্কর মৃণাল হক।

শহরে অপরিকল্পিত শিল্পমানহীন ভাস্কর্য নির্মাণ দেশে ও বিদেশে ভাস্করদের প্রশ্নের মুখে ফেলে। নগরের অপরিকল্পিত ও র্শিপমানহীন ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি নগর ভবন কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যাশিত ভাস্কর্য স্থাপনের নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে, আগামীর ভাস্করা দেশের রাজু ভাস্কর্য, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশপ্তক এর মত ভাস্কর্য গড়তে অনুপ্রানিত হবে; যা ছাড়িয়ে যাবে বিশ্বের যত নন্দিত ও ঐতিহ্যবাহী ভাস্কর্যকেও।  

 

এই বিভাগের আরো খবর

ক্লাবে ক্যাসিনো বসিয়ে লাভবান হাতে গোনা ক’জন

মাবুদ আজমী: ক্যাসিনোর কালিমা লাগার পর...

বিস্তারিত
দিলকুশা ক্লাব দখল করে ক্যাসিনো চালু করেন সাঈদ

মাবুদ আজমী: মতিঝিলের ক্লাব পাড়ায় অবৈধ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *