ভাস্কর্য নির্মাণে বাঁধা ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কার

প্রকাশিত: ১০:২৪, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আপডেট: ১২:০০, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফারহানা জুঁথী: স্বাধীনতার পর ভাস্কররা দেশপ্রেম বোধ থেকে গণমানুষের বীরত্ব, গৌরব গাঁথা ও ত্যাগের ইতিহাসকে তুলে ধরতে  ভাস্কর্য গড়েন। জনারণ্যে উন্মুক্ত এসব ভাস্কর্য সাধারণ মানুষের চিন্তা ও আবেগের সাথে সংযোগ তৈরী করতে সক্ষম হয়। ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কার ভাস্কর্যের বাঁধা হয় বারবার। প্রগতিশীলদের সাহায্যে শিল্পীরা বিকশিত হওয়ার ধারা অব্যাহত রাখেন। তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভাব কোন কোন সময় চর্চার গতিকে ধীর করেছে।   

ভারত ভাগের পর ১৯৫৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশে উন্মুক্ত স্থানে প্রথম আধুনিক ভাস্কর্য নির্মাণ করেন শিল্পী নভেরা আহমেদ। একজন ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পরিবার’ শিরোনামে বিমূর্ত এই ভাস্কর্য রাজধানীর তেজগাঁয়ে ঐ ব্যাক্তির আঙ্গিনায় স্থাপন করা হয়েছিল। সেটা এখন জাতীয় জাদুঘরে।

একাত্তরে দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় গণপ্রাঙ্গনে প্রথম ভাস্কর্য করেন শিল্পী আবদুর রাজ্জাক। জয়দেবপুর চৌরাস্তার সড়কদ্বীপে ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ নামে সেই মাইলফলক ভাস্কর্যটি সমাজের সাধারণ কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীক, যার খালি গা, খালি পা, লুঙ্গি পরা, পেশিবহুল ডান হাতে গ্রেনেড, বাঁ হাতে রাইফেল।  

১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে আরেকটি মাইলফলক ভাস্কর্যÑ ‘অপরাজেয় বাংলা’র নির্মাণকাজ শুরু করেন ভাস্কর সৈয়দ আবদুল¬াহ খালিদ। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর স্বাধীনতা বিরোধীদের বাধার মুখে  পড়ে। সেসব বাধা টপকে  নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭৯ সালে। সেবছর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিক উন্মোচনও করা হয় ।

ফরমায়েশি ভাস্কর্যও নির্মাণ হয়। তবে শৈল্পিক গুনাবলীর উৎকৃষ্টমানের ভাস্কর্যগুলো জননন্দিত হয়।  যা অন্য শিল্পীদের এই মাধ্যমে আসতে ও  আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের কাজ তুলে ধরতে অনুপ্রেরণা যোগায়।  

 

এই বিভাগের আরো খবর

ক্লাবে ক্যাসিনো বসিয়ে লাভবান হাতে গোনা ক’জন

মাবুদ আজমী: ক্যাসিনোর কালিমা লাগার পর...

বিস্তারিত
দিলকুশা ক্লাব দখল করে ক্যাসিনো চালু করেন সাঈদ

মাবুদ আজমী: মতিঝিলের ক্লাব পাড়ায় অবৈধ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *