নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন অধস্তন কর্মকর্তারাও

প্রকাশিত: ১০:০৯, ২৮ আগস্ট ২০১৯

আপডেট: ০২:৪৭, ২৮ আগস্ট ২০১৯

কাজী ফরিদ: সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের প্রশিক্ষণ থেকে কিছু উর্ধতন সরকারি কর্মকর্তা যে কৌশলে বিশাল অংকের টাকা আয় করেছেন, তেমন প্রবণতা তাদের অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পর্যায়েও ছিল বলে বৈশাখীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। শুধু অধস্তনদের টাকার পরিমাণ কম। প্রশিক্ষণ পরিকল্পনায় অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাহীন কাজের পদ রাখা হয় অধস্তনদের জন্যও। এমন বিতর্কিত প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার পেছনে নির্বাচন কমিশনের সকল শাখার সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আর্থিক সুবিধা দেবার চিন্তা কাজ করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
 
সাম্প্রতিক সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের প্রশিক্ষণে কোর্স সমন্বয়ক ও কোর্স  মনিটরিং নামে দুটি পদ ছিল নির্বাচন কমিশনের অধস্তন কর্মকর্তাদের জন্য। এই দুই পদের কর্মকর্তারা ৬০ লক্ষাধিক টাকা পকেটে ভরবার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু এসব পদের কাজ ও প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট নয়। গোপন আলোচনায় একজন কর্মকর্তা জানান শুধু সমন্বয়কদের কাজ সম্পর্কে।

এই কমর্কর্তার দাবি অনুযায়ী বাস্তবে সমন্বয়কদের কাজ কোন কর্মকর্তাকে করতে দেখা যায়নি ঢাকাতেই ফেব্রুয়ারির এক প্রশিক্ষণে। বৈশাখীর ক্যামেরাতেই ধারণ করা চিত্র বলছে সমন্বয়কের কাজ  করেছেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণে কোর্স মনিটরিংয়ের পদও বিতর্কিত। এই পদের অধস্তন কর্মকর্তাদের জন্য যে প্রশিক্ষণ স্থলে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল না তা এক কর্মকর্তার এক গোপন বক্তব্যে উঠে আসে।

মনিটরিংয়ের নামে প্রশিক্ষণ বাজেটের প্রায় ১৩ লাখ টাকা নিয়েছেন অধস্তন কর্মকর্তারা। প্রশিক্ষণ সহকারি নামে আরও একটি বিতর্কিত অস্পষ্ট পদে নির্বাচন কমিশনের কিছু নিন্মসারির কর্মকর্তার অর্থ আয়ের সুযোগ ছিল নির্বাচনী প্রশিক্ষণ পরিকল্পনায়। এই পদের কর্মকর্তারাও প্রশিক্ষণ বাজেটের লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন।

সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণ সহকারির তালিকা করেন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের উপ-পরিচালক ফজলুর রহমান। তার স্বাক্ষরিত নথিতে দেখা যায়, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা উসমান গণি একই তারিখে নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালীতে প্রশিক্ষণ সহকারি ছিলেন, যা বাস্তবে সম্ভব নয়। এমন অনিয়ম আরও আছে। কিন্তু উসমান গণির কথায় উঠে আসে তিনি সেসব দিন ঐ তিন জেলার কোথাও ছিলেন না।
নির্বাচনী প্রশিক্ষণ বাজেট থেকে কর্মচারীরাও সামান্য আয় করেছেন। তবে প্রশিক্ষণ কাজে যুক্ত কর্মচারিদের তালিকায় আছে কিছু অস্পষ্ট ব্যক্তির অংশগ্রহণ। কিছু কর্মচারীর জায়গায় “প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মনোনীত প্রতিনিধি” যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এমন সুযোগ আছে কমকর্তাদের জন্যও। কেন ও কাদের জন্য এই সুযোগ তা অসচ্ছ ও অস্পষ্ট এবং স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের সুযোগ রাখে।  

দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণে অনেক প্রশিক্ষক নেয়া হয়েছে বহু দূরের জেলা থেকে। কিন্তু কেন? তার ব্যাখ্যা নেই, অথচ এতে ব্যয় বেশি হয়েছে। নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের ২০১৭-১৮ নানা খাতে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে ২৩টি অডিট আপত্তি আছে। নির্ধারিত গত ৩০ জুনের মধ্যে কয়েকটি আপত্তির  জবাব দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

এই বিভাগের আরো খবর

বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কয়েকজন শিক্ষক

কাজী ফরিদ: উন্নয়নমূলক কাজে অতিরিক্ত...

বিস্তারিত
অনিয়মের রাজত্ব শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজে

কাজী ফরিদ: পরের জায়গায় দালান তুলে চার...

বিস্তারিত
শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

সুমন তানভীর: একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা...

বিস্তারিত
মেট্রোরেলের কোচ আনার প্রক্রিয়া শুরু

এজাজুল হক মুকুল: ঢাকায় মেট্রোরেল...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *