ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

2019-09-20

, ২০ মহররম ১৪৪১

ন্যাপ সভাপতি মোজাফফর আহমদ আর নেই

প্রকাশিত: ০৯:০৭ , ২৩ আগস্ট ২০১৯ আপডেট: ০২:৪২ , ২৪ আগস্ট ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ এর সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন দেশের রাজনীতি, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ। ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লার দেবীদ্বারে জন্ম নেয়া এই রাজনীতিবিদ শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে। কর্মজীবনে অধ্যাপনা করেন ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন মোজাফফর আহমদ। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত সংসদ সদস্যও ছিলেন তিনি। 

প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ ১৯৬৭ সালে চীনপন্থী ও মস্কোপন্থী-এ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়লে মস্কোপন্থী ন্যাপের সভাপতি হন আব্দুল ওয়ালী খান এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ন্যাপের সভাপতি হন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ।

১৯৬৯ সালে আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে কারাবরণ করেন অধ্যাপক মোজাফ্ফর। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার ঘোষণা দিলে তিনি তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন। জানান, কোন পদ, পদক বা প্রাপ্তির আশায় নয়, তিনি রাজনীতি করেন দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে।

বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সেখানেই শুক্রবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। তার চলে যাওয়া দেশের রাজনীতি অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করেন সহযোদ্ধারা।

শনিবার সকাল ১১টায় সংসদ ভবনে মোজাফ্ফর আহমদের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসিজেদ দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ নেয়া হবে নিজ জেলা কুমিল্লায়।
কুমিল্লা টাউন হল ময়দানে রোববার সকালে অনুষ্ঠিত হবে মরহুমের তৃতীয় জানাজা। এরপর দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদে নিজ বাড়িতে আরেক দফা জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে মোজাফ্ফর আহমেদকে।
 

এই বিভাগের আরো খবর

র‌্যাবের অভিযানে যুবলীগ চেয়ারম্যানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, যুবলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিরাজনীতিকরণের দীর্ঘমেয়াদি...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is