রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়া নিয়ে সংশয়!

প্রকাশিত: ০১:১৩, ২২ আগস্ট ২০১৯

আপডেট: ০২:০৫, ২২ আগস্ট ২০১৯

কক্সবাজার প্রতিনিধি: শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে।’ বুধবার-২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় কক্সবাজারে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।   

মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা গত দুই দিনে মোট ২৩৫টি পরিবারের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা অনেকেই আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তাই আমরা সকালে পাঁচটি বাস, তিনটি ট্রাক প্রস্তুত রেখেছি। এ পর্যন্ত যেসব রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছি, তারা প্রত্যেকে স্বেচ্ছায় নিজ উদ্যোগে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছে। এতে কাউকে জোর করে আনা হয়নি। এসব পরিবারের সংখ্যা, তাদের শর্তসহ বিভিন্ন তথ্য নিয়ে ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং রাতের মধ্যেই তালিকাটি প্রস্তুত করা হবে। এসব তালিকা থেকে সকালে যারা স্বেচ্ছায় গাড়িতে উঠবে মূলত তাদেরকেই প্রত্যাবাসন করা হবে।’

প্রত্যাবাসনের সময় মিয়ানমারের পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে মিয়ানমারের দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা ও চীনা দূতাবাসের দুজন কর্মকর্তা বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। তারা পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করবেন। সারাদিন তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের আধিবাসী হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে। আমরা মূলত এই তথ্যটি রোহিঙ্গাদের জানিয়েছি। এছাড়াও মিয়ানমার সরকারের দেওয়া ছাড়পত্র অনুযায়ী এক হাজার ৩৭টি পরিবারের মোট তিন হাজার ৫৪০ জনকে ফেরত নেওয়ার প্রথম তালিকাটি দেওয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে অন্যদের এই প্রক্রিয়ায় আনা হবে। কারণ এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’

আবুল কালাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি হিসেবে টেকনাফের কেরণতলী থেকে উখিয়া হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম এলাকা পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

প্রথম দিন কতজন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেসব রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন করা হবে, তাদের পুরো ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। রাতে এটি সম্পন্ন হবে। এটি সম্পন্ন হলে সকালে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানা যাবে।’

গত ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৮২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নানা অজুহাতে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া আরও অন্তত সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আবারও হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যর্থ হয় ওই উদ্যোগ।

সর্বশেষ চলতি বছরের জুলাই মাসে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নতুন করে উদ্যোগের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। ১৫ সদস্যের দলটি দুই দিন ধরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠক করে। এসব বৈঠকে রোহিঙ্গাদের তরফে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ও চলাফেরায় স্বাধীনতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

বৈশাখী টেলিভিশনের অনুষ্ঠানসূচী, ৩১ অক্টোবর

আজ বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ১৬...

বিস্তারিত
বৈশাখী টেলিভিশনের অনুষ্ঠানসূচী, ৩০ অক্টোবর

আজ বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ১৫ কার্তিক...

বিস্তারিত
নড়াইলে পান চাষে লাভবান কৃষকরা

নড়াইল প্রতিনিধি: অনুকূল আবহাওয়ায়...

বিস্তারিত
টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: দূষণের কারণে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *